
সাগরকন্যা প্রতিবেদক, কুয়াকাটা (পটুয়াখালী)
উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন উত্তর উড়িষ্যা-পশ্চিমবঙ্গ উপকূলীয় এলাকায় অবস্থানরত লঘুচাপটি ঘনীভূত হয়ে সুস্পষ্ট লঘুচাপে পরিণত হয়েছে। এর প্রভাবে রোববার (৫ জুলাই) সকাল থেকে পটুয়াখালী জেলায় মুষলধারে বৃষ্টিপাত শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগর উত্তাল হয়ে উঠেছে। সাগরে বড় বড় ঢেউ তীরে আছড়ে পড়ছে এবং স্বাভাবিকের তুলনায় নদ-নদীর পানির উচ্চতা কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, সমুদ্র বন্দরসমূহ, উত্তর বঙ্গোপসাগর ও উপকূলীয় এলাকা দিয়ে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এ কারণে পায়রা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও মোংলা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছধরা ট্রলারগুলোকে উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচলের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
তবে ইতিমধ্যে সাগর থেকে মাছধরা ট্রলারগুলো উপকূলের নিরাপদ আশ্রয়ে চলে আসতে শুরু করেছে।
এদিকে বরিশাল, পটুয়াখালী, খুলনা, কুমিল্লা, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, সিলেট ও ময়মনসিংহ অঞ্চলের ওপর দিয়ে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা বা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। দুপুর ১টা পর্যন্ত এসব অঞ্চলের নদীবন্দরকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।
কুয়াকাটার খাজুরা গ্রামের সমুদ্রগামী জেলে জালাল মাঝী বলেন, ‘সাগরে এখন ঢেউ অনেক বেশি। আবহাওয়া আরও খারাপ থাকায় মাছ ধরার কাজ বন্ধ রেখে নিরাপদ স্থানে চলে আসতে হয়েছে।’
আলীপুর মৎস্য বন্দরের মৎস্য ব্যবসায়ী খান ফিসের মালিক আব্দুর রহিম খান বলেন, ‘সাগরে কয়েকদিন ধরেই বৈরী আবহাওয়ার প্রভাব দেখা যাচ্ছে। আজ (রোববার) সকাল থেকে বাতাস ও ঢেউয়ের তীব্রতা আরও বেড়েছে। অনেক ট্রলার নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে উপকূলের নিরাপদ আশ্রয়ে ফিরেছে।’
মহিপুর আড়তদার মালিক সমিতির সাবেক সভাপতি ও মহিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. ফজলু গাজী বলেন, ‘আবহাওয়ার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। জেলে ও ট্রলার মালিকদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। প্রয়োজন হলে তারা যেন নিরাপদ আশ্রয়ে চলে আসে, সে বিষয়েও সতর্ক করা হচ্ছে।’
স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ উপকূলীয় এলাকার মানুষ এবং মাছধরা ট্রলারগুলোকে সর্বশেষ আবহাওয়া বার্তার প্রতি সতর্ক দৃষ্টি রাখার আহ্বান জানিয়েছে।