বাউফলে যুবককে তুলে নিয়ে চোখ ও হাত-পা বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ

হোম » পটুয়াখালী » বাউফলে যুবককে তুলে নিয়ে চোখ ও হাত-পা বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ
বৃহস্পতিবার ● ২ জুলাই ২০২৬


যুবককে তুলে নিয়ে চোখ ও হাত-পা বেঁধে নির্যাতন

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, পটুয়াখালী

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার চরআলগী গ্রামের বাসিন্দা মো. নাসির উদ্দিন মৃধা (৪০) নামে এক যুবককে তুলে নিয়ে চোখ ও হাত-পা বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে দুই বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে। তবে অভিযুক্তরা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

বৃহস্পতিবার দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। পরে ৯৯৯ নম্বরে ফোন পেয়ে অভিযান চালিয়ে বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে বাউফল উপজেলার ইঞ্জিনিয়ার ফারুক তালুকদার মহিলা কলেজ এলাকা থেকে নাসির উদ্দিনকে উদ্ধার করে পুলিশ।

অভিযোগে নাম এসেছে উপজেলা বিএনপির সদস্য ও দাসপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. আলী আজম চৌধুরী এবং বাউফল পৌরসভা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. মাসুম বিল্লাহ পলাশের।

নাসির উদ্দিন ও তাঁর স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পারিবারিক বিরোধসংক্রান্ত একটি মামলায় হাজিরা দিতে বৃহস্পতিবার সকালে তিনি পটুয়াখালী আদালতে যান। আদালতে হাজিরা শেষে দুপুর সোয়া ১টার দিকে রিকশাযোগে হেতালিয়া বাঁধঘাট এলাকায় গেলে এক অপরিচিত ব্যক্তি তাঁর পরিচয় জানতে চান। পরিচয় দেওয়ার পর ওই ব্যক্তি তাঁর মুঠোফোন ছিনিয়ে নেন। এরপর আলী আজম চৌধুরীর নেতৃত্বে ১৫-২০ জনের একটি দল তাঁকে ঘিরে ফেলে এবং দাসপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এএনএম জাহাঙ্গীর হোসেন কোথায় আছেন তা জানতে চায়। তিনি বিষয়টি জানেন না বলে জানালে তাঁকে একটি মোটরসাইকেলে তুলে বাউফলে নিয়ে যাওয়া হয়।

অভিযোগ অনুযায়ী, পরে তাঁকে ইঞ্জিনিয়ার ফারুক তালুকদার মহিলা কলেজ এলাকার বিএনপি নেতা মাসুম বিল্লাহর ব্যক্তিগত কার্যালয়ে নিয়ে হাত-পা বেঁধে মারধর করা হয়। বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে।

নাসির উদ্দিন দাবি করেন, অপহরণের পর তাঁর বিকাশ হিসাব থেকে ৩ হাজার টাকা এবং সঙ্গে থাকা সাড়ে ৩ হাজার টাকা জোরপূর্বক নিয়ে নেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দাসপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে চেয়ারম্যান এএনএম জাহাঙ্গীর হোসেনের সঙ্গে বিএনপি নেতা আলী আজম চৌধুরীর বিরোধ রয়েছে। নাসির উদ্দিন চেয়ারম্যানের সমর্থক হিসেবে পরিচিত।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে আলী আজম চৌধুরী বলেন, নাসির উদ্দিন একজন মাদক ব্যবসায়ী। অপহরণের কোনো ঘটনার সঙ্গে আমি জড়িত নই।

মাসুম বিল্লাহ পলাশ বলেন, এ অভিযোগ সম্পূর্ণ অসত্য। অপহরণের মতো কোনো ঘটনার সঙ্গে আমার সংশ্লিষ্টতা নেই।

বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, ৯৯৯ নম্বরে ফোন পাওয়ার পর থেকেই পুলিশ ওই ব্যক্তিকে উদ্ধারে তৎপর ছিল। বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে তাঁকে উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনার সূত্রপাত যেহেতু পটুয়াখালী সদর থানার এলাকায়, তাই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে সংশ্লিষ্ট থানায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


কেবিডি/এমআর

বাংলাদেশ সময়: ২১:৩৭:১১ ● ১৪ বার পঠিত




পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

আর্কাইভ