গৌরনদীতে খাল পুনঃখননে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বাথরুম ভাঙার চাপের অভিযোগ

হোম » বরিশাল » গৌরনদীতে খাল পুনঃখননে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বাথরুম ভাঙার চাপের অভিযোগ
মঙ্গলবার ● ২৩ জুন ২০২৬


গৌরনদীতে খাল পুনঃখননে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বাথরুম ভাঙার চাপের অভিযোগ

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, গৌরনদী (বরিশাল)

বরিশালের গৌরনদী উপজেলার বাটাজোর-শরিকল খাল পুনঃখননকে কেন্দ্র করে চন্দ্রহার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ওয়াশব্লকসহ ছয়টি পাকা বাথরুম ভেঙে নেওয়ার জন্য চাপ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ সময় বাথরুমগুলোর পানির সরবরাহ লাইন বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ায় বিদ্যালয়ের ২৪৫ শিক্ষার্থী ও আটজন শিক্ষক চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।

এদিকে একই প্রকল্পকে কেন্দ্র করে চন্দ্রহার কে.আর. শিক্ষায়তন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ১৬টি বড় রেইনট্রি ও মেহগনি গাছ টেন্ডার ছাড়াই কম মূল্যে বিক্রির অভিযোগও উঠেছে। এছাড়া খাল পুনঃখনন চলাকালে বাটাজোর-শরিকল সড়কের পাশ থেকে রাতের আঁধারে তিন শতাধিক রেইনট্রি ও মেহগনি গাছ কেটে নেওয়ার অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।

বিদ্যালয়ের বাথরুম রক্ষার দাবিতে চন্দ্রহার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গত ১৮ জুন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত আবেদন করেছেন।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) খোকন চন্দ্র দাস জানান, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে ২ কোটি ৪৫ লাখ টাকা ব্যয়ে বাটাজোর-শরিকল খালের ১০ কিলোমিটার পুনঃখনন কাজ চলছে। প্রকল্প বাস্তবায়নে শরিকল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. ফারুক মোল্লা এবং বাটাজোর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুর রব হাওলাদারকে সভাপতি করে পৃথক দুটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রকল্পের নকশায় খালের ওপরের প্রস্থ ৫০ ফুট, তলদেশের প্রস্থ ১০ ফুট এবং গভীরতা ১৩ ফুট নির্ধারণ করা হয়েছে। তাঁর দাবি, উভয় ইউনিয়নে নকশা অনুযায়ী কাজ চলছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, চারটি এস্কেভেটর দিয়ে খাল পুনঃখননের কাজ চলছে। স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি অভিযোগ করেন, নকশা অনুযায়ী খনন করতে গিয়ে দক্ষিণ পাড়ের ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি ও গাছপালা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। একই সঙ্গে একটি চক্র রাতের আঁধারে সড়কের উত্তর পাশের তিন শতাধিক রেইনট্রি ও মেহগনি গাছ কেটে নিয়ে গেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় বাসিন্দা ও দুই বিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষক জানান, খালের উত্তর পাশে চন্দ্রহার বাজার এবং দক্ষিণ পাশে চন্দ্রহার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও চন্দ্রহার কে.আর. শিক্ষায়তন মাধ্যমিক বিদ্যালয় অবস্থিত। তাদের অভিযোগ, বাজার এলাকার খালের ভেতরে গড়ে ওঠা প্রায় অর্ধশত অবৈধ দোকান রক্ষার জন্য খননকাজের চাপ বিদ্যালয়ের দিকে দেওয়া হচ্ছে।

তাদের দাবি, মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রায় চার লাখ টাকা মূল্যের ১৬টি রেইনট্রি ও মেহগনি গাছ টেন্ডার ছাড়াই দেড় লাখ টাকায় বিক্রি করা হয়েছে। গাছের ক্রেতা বাটাজোর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মিজানুর রহমান রাজীব ১৫ জুন থেকে শ্রমিক দিয়ে গাছ কাটার কাজ শুরু করেন এবং ইতোমধ্যে ছয়টি গাছ কেটে নিয়েছেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, চন্দ্রহার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নামে বিএস রেকর্ডে ৩৩ শতক জমি থাকলেও বর্তমানে বিদ্যালয়টি ২৭ শতক জমি ভোগদখল করছে। বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের জন্য একটি ওয়াশব্লকসহ ছয়টি পাকা বাথরুম নির্মাণ করা হয়েছে। গত ১৬ জুন খাল পুনঃখনন প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির লোকজন শিক্ষকদের আপত্তি উপেক্ষা করে এসব বাথরুমের পানির লাইন বিচ্ছিন্ন করে দেয় এবং বাথরুমগুলো সরিয়ে নেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে খাল পুনঃখনন প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি শরিকল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. ফারুক মোল্লা এবং বাটাজোর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুর রব হাওলাদার বলেন, ডিজাইন অনুযায়ী খাল পুনঃখননের কাজ করা হচ্ছে। ডিজাইনের মধ্যে কোনো স্থাপনা বা গাছপালা থাকলে তা সরিয়ে নিতে হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইব্রাহীম বলেন, খালের জায়গার মধ্যে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বাথরুম রয়েছে। নকশা অনুযায়ী কাজ করতে হলে বাথরুম সরাতে হবে। প্রয়োজনে সরকারি বরাদ্দ দিয়ে নতুন বাথরুম নির্মাণ করে দেওয়া হবে। তবে চেষ্টা করে দেখব, দুই-একটি বাথরুম সংরক্ষণ করা যায় কি না।


এআর/এমআর

বাংলাদেশ সময়: ১৫:৫৮:০৮ ● ১৩ বার পঠিত




পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

আর্কাইভ