
সাগরকন্যা প্রতিবেদক, কলাপাড়া (পটুয়াখালী)
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় ব্যবসায়ীর দোকান ও বাসায় সন্ত্রাসীদের হামলায় নারীসহ তিনজন আহত হয়েছেন। আহতরা হলেন কলাপাড়া পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর কালাম সরদার (৫২), ব্যবসায়ী মো. আনিছুর রহমান (৫১) এবং রোকসানা আক্তার (৪৬)। রবিবার রাত ৯টার দিকে কলাপাড়া পৌর শহরের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের স্লুইস এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে।
গুরুতর আহত কালাম সরদারকে কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে রাতেই বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ সময় হামলাকারীরা মুদি দোকানের ক্যাশ থেকে ১০ হাজার টাকা লুট করে এবং ব্যবসায়ীর বাসার দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে এক নারীকে মারধর করে স্বর্ণের চেইন নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগীদের সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় মুদি দোকানদার মো. আনিছুর রহমান কলাপাড়া পৌর ওলামা দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। রাত ৯টার দিকে তিনি দোকানে বসে ছিলেন। এ সময় ১৫/২০ জনের একটি দল সাবেক কাউন্সিলর কালাম সরদারকে ধাওয়া দিলে তিনি দৌড়ে ওই মুদি দোকানে আশ্রয় নেন। পরে হামলাকারীরা তাকে ও আনিছুর রহমানকে মারধর করে।
পরে কালাম সরদার পিছনের দরজা দিয়ে আনিছুর রহমানের ঘরে গিয়ে আশ্রয় নেন এবং দরজা বন্ধ করেন। এ সময় কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে রড দিয়ে তাকে মারধর করে। এতে তিনি অজ্ঞান হয়ে পড়েন। এ সময় আনিছুর রহমানের স্ত্রী রোকসানা আক্তার এগিয়ে এলে তাকেও রড দিয়ে আঘাত করা হয় এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয় বলে অভিযোগ।
ভুক্তভোগী রোকসানা আক্তার বলেন, তিনি নাতিকে ভাত খাওয়াচ্ছিলেন। হঠাৎ কয়েকজন ঘরে ঢুকে তাণ্ডব চালায় এবং তার ডান হাতের কনুইয়ের ওপর রড দিয়ে আঘাত করে, এতে ফ্যাকচার হয়। তিনি আরও জানান, গলায় থাকা ৮ আনা ওজনের স্বর্ণের চেইন খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।
ব্যবসায়ী আনিছুর রহমান বলেন, তিনি দীর্ঘদিন বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। ঘটনার পর দোকান ও বাসায় গিয়ে ক্যাশে থাকা ১০ হাজার টাকা না পাওয়ার কথা জানান তিনি এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন।
৯ নম্বর ওয়ার্ডের বিএনপি নেতা মো. বশির উদ্দিন বলেন, ঘটনাটি নিন্দনীয় এবং তীব্র নিন্দা জানান।
কলাপাড়া পৌর ওলামা দলের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মো. আফজাল হোসেন বলেন, এ ধরনের হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
কলাপাড়া উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি কাজী ইয়াদুল ইসলাম তুষার বলেন, ঘটনাস্থলে গিয়ে ভাঙচুরের আলামত পাওয়া গেছে।
কলাপাড়া পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মুসা তাওহীদ নান্নু মুন্সী বলেন, এ ধরনের ঘটনা কাম্য নয়, তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কলাপাড়া পৌর বিএনপির সভাপতি গাজী মো. ফারুক বলেন, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বাসাবাড়িতে হামলা কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়। তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং বিষয়টি উপজেলা বিএনপিকে অবহিত করেছেন।
কলাপাড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি হাজী হুমায়ুন সিকদার বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
কলাপাড়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ইলিয়াস হোসেন বলেন, আহত নারীকে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে এবং লিখিত অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।