মহিপুরে ড্রাগন চাষে সফলতার দৃষ্টান্ত গড়েছেন শিক্ষিত যুবক সৌরভ

হোম » ফিচার » মহিপুরে ড্রাগন চাষে সফলতার দৃষ্টান্ত গড়েছেন শিক্ষিত যুবক সৌরভ
সোমবার ● ২২ জুন ২০২৬


 

মহিপুরে ড্রাগন চাষে সফলতার দৃষ্টান্ত গড়েছেন শিক্ষিত যুবক সৌরভ

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, মহিপুর (পটুয়াখালী)

 

পটুয়াখালীর মহিপুরে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ড্রাগন চাষ করে সফলতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন শিক্ষিত যুবক সৌরভ কুমার বিশ্বাস। মহিপুর থানার লতাচাপলী ইউনিয়নের তুলাতলী গ্রামের এই তরুণের দুই বিঘা জমির ড্রাগন বাগান এখন স্থানীয় কৃষক ও দর্শনার্থীদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

 

সোমবার সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, ২০১৮ সালে এক শিক্ষকের কাছ থেকে মাত্র ১২টি ড্রাগনের কাটিং সংগ্রহ করে বাড়ির পাশে পরীক্ষামূলকভাবে চাষ শুরু করেন সৌরভ। পড়াশোনার পাশাপাশি নিয়মিত পরিচর্যায় গাছগুলোতে ফল ধরতে শুরু করলে ড্রাগন চাষের প্রতি তার আগ্রহ বাড়ে।

 

২০২২ সালে উচ্চ মাধ্যমিক পাসের পর শৈশবের স্বপ্ন পুলিশ বাহিনীতে যোগ দেওয়ার চেষ্টা করলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। এরপর কৃষিকেই নিজের পেশা হিসেবে বেছে নেন তিনি। আধুনিক লাইটিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে সারা বছর ড্রাগন উৎপাদনের মাধ্যমে মৌসুমের বাইরেও বাজারের চাহিদা পূরণ করে বাড়তি লাভ করছেন তিনি।

 

সৌরভ কুমার বিশ্বাস জানান, ২০২৩ সালে বাবা স্বপন কুমার বিশ্বাসের সহযোগিতায় বড় পরিসরে ড্রাগন চাষ শুরু করেন। বর্তমানে দুই বিঘা জমিতে ইলোরা, পালোরা, রেড ভেলভেট, বোল্ডার ও থাই রেডসহ বিভিন্ন জাতের প্রায় দুই হাজার ড্রাগন গাছ রয়েছে। কৃত্রিম আলো ব্যবহার করে বছরজুড়ে ফল উৎপাদন সম্ভব হওয়ায় এসব ফল বিক্রি করে বছরে প্রায় ৮ থেকে ৯ লাখ টাকা আয় হচ্ছে।

 

তিনি বলেন, এখন আর চাকরি করার ইচ্ছা নেই। প্রযুক্তিনির্ভর চাষাবাদ করলে যে কোনো কৃষিতেই সফল হওয়া সম্ভব। আমি চাই তরুণরা বেকার না থেকে কৃষিতে এগিয়ে আসুক।

 

ড্রাগন বাগান পরিদর্শন শেষে প্রভাষক মো. ঈদুর রহমান বলেন, এটি যেন একটি স্বপ্নরাজ্য। ড্রাগন একটি উচ্চমূল্যের ফল। পরিকল্পিতভাবে চাষ করলে ভালো লাভ করা সম্ভব। সৌরভ প্রমাণ করেছে, শিক্ষিত যুবকরাও কৃষিতে সফল হতে পারে।

 

সাংবাদিক মিজানুর রহমান বুলেট আকন বলেন, এখানে এসে জানতে পারলাম, সারা বছরই ড্রাগন ফল উৎপাদন করা যায়। তাই ছোট পরিসরে হলেও এমন একটি বাগান করার ইচ্ছা রয়েছে। সাংবাদিকতার পাশাপাশি আমিও ড্রাগন চাষ করতে চাই।

 

কলাপাড়া উপজেলা সিনিয়র কৃষি কর্মকর্তা মো. আরাফাত হোসেন বলেন, কলাপাড়া উপজেলা বহুমুখী কৃষির জন্য সমৃদ্ধ। এরই অংশ হিসেবে মহিপুরের তুলাতলী গ্রামের সৌরভ একজন মডেল কৃষক। সাধারণত মে থেকে নভেম্বর পর্যন্ত ড্রাগন ফল পাওয়া যায়। তবে কৃত্রিম আলো ব্যবহার করে আধুনিক পদ্ধতিতে বছরের ১২ মাসই ড্রাগন উৎপাদন করা সম্ভব, যার উজ্জ্বল উদাহরণ সৌরভ। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে তাকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ সময়: ১৫:২৬:৪৪ ● ২৮ বার পঠিত




পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

আর্কাইভ