জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় চরফ্যাশনে প্রান্তিক জনগোষ্ঠী ও শিক্ষার্থীদের মাঝে বিনামূল্যে চারা বিতরণ

হোম » ভোলা » জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় চরফ্যাশনে প্রান্তিক জনগোষ্ঠী ও শিক্ষার্থীদের মাঝে বিনামূল্যে চারা বিতরণ
সোমবার ● ২২ জুন ২০২৬


জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় চরফ্যাশনে প্রান্তিক জনগোষ্ঠী ও শিক্ষার্থীদের মাঝে বিনামূল্যে চারা বিতরণসাগরকন্যা প্রতিবেদক, চরফ্যাশন (ভোলা)

 

জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং উপকূলীয় প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে ভোলার চরফ্যাশনে বিনামূল্যে বৃক্ষের চারা বিতরণ করা হয়েছে।

 

পল্লী কর্মসহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ)অর্থায়নে এবং পরিবার উন্নয়ন সংস্থা (এফডিএ) এর বাস্তবায়নে পরিচালিত রেজিলিয়েন্ট হোমস্টেড অ্যান্ড লাইভলিহুড সাপোর্ট টু দ্য ভালনারেবল কোস্টাল পিপল অব বাংলাদেশ (আরএইচএল) প্রকল্পের আওতায় ব্যতিক্রমী এ বৃক্ষরোপণ ও চারা বিতরণ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

 

দুর্যোগ ঝুঁকিপূর্ণ পাঁচটি ইউনিয়নে আয়োজিত এ কর্মসূচির মাধ্যমে প্রায় ৫০০ উপকারভোগী পরিবার এবং স্থানীয় বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ফলদ, বনজ ও ঔষধি এই তিন শ্রেণির পাঁচ প্রজাতির গাছের চারা বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়।

 

চারা বিতরণ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে পরিবার উন্নয়ন সংস্থার (এফডিএ) সিনিয়র প্রোগ্রাম সমন্বয়কারী শংকর চন্দ্র দেবনাথ সভাপতিত্ব করেন। প্রধান অতিথি ছিলেন চরফ্যাশন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. মামুন হোসেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন এফডিএর কৃষিবিদ মো. মনিরুল ইসলাম। বক্তব্য দেন আরএইচএল প্রকল্পের প্রজেক্ট ম্যানেজার মেহেদী আজম।

 

বক্তারা বলেন, উপকূলীয় অঞ্চলে ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও নদীভাঙন নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা। তাই লবণাক্ত মাটির উপযোগী মেহগনি, নারিকেল, নিম ও কদবেলের মতো গভীর ও শক্ত শিকড়বিশিষ্ট গাছ একদিকে সবুজ বেষ্টনী হিসেবে বাতাসের তীব্রতা কমিয়ে ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের ক্ষয়ক্ষতি হ্রাস করবে, অন্যদিকে মাটিক্ষয় রোধ এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

 

তারা আরও বলেন, এসব গাছের ফল উপকূলীয় দরিদ্র জনগোষ্ঠীর পুষ্টির চাহিদা পূরণে সহায়ক হবে এবং ভবিষ্যতে টেকসই বিকল্প আয়ের উৎস হিসেবে ভূমিকা রাখবে। প্রতিকূল পরিবেশেও টিকে থাকার সক্ষমতার কারণে কদবেল গাছকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

 

পরিবেশ সংরক্ষণে নতুন প্রজন্মকে উদ্বুদ্ধ করার লক্ষ্যে শিক্ষার্থীদের মধ্যে চারা বিতরণকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলেও জানান আয়োজকরা। তাদের মতে, ছোটবেলা থেকেই পরিবেশবান্ধব কর্মকাণ্ডে শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করা গেলে ভবিষ্যতে জলবায়ু-সচেতন নাগরিক গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

 

প্রধান অতিথি মো. মামুন হোসেন বলেন, উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর জন্য এ ধরনের দীর্ঘমেয়াদি কর্মসূচি অত্যন্ত সময়োপযোগী। এটি শুধু পরিবেশ রক্ষাই নয়, মানুষের জীবন ও জীবিকাকে আরও টেকসই করতে সহায়তা করবে।

 

সভাপতির বক্তব্যে শংকর চন্দ্র দেবনাথ বলেন, আমাদের লক্ষ্য কেবল গাছ বিতরণ নয়; বরং উপকূলের ঝুঁকিপূর্ণ মানুষের বসতভিটাকে জলবায়ু-সহনশীল করে গড়ে তোলা। বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে আমরা একটি নিরাপদ ও সবুজ ভবিষ্যৎ নির্মাণের চেষ্টা করছি। জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে একটি সবুজ ঢাল গড়ে তুলতে চাই। প্রতিটি গাছের সঙ্গে জড়িয়ে আছে উপকূলের মানুষের টিকে থাকা ও ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন।

 

সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেন, পরিবার উন্নয়ন সংস্থা (এফডিএ) এই প্রকৃতিনির্ভর অভিযোজন উদ্যোগ ভবিষ্যতে উপকূলীয় অঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষয়ক্ষতি কমানো এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

বাংলাদেশ সময়: ৯:১৯:৫৩ ● ২২ বার পঠিত




পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

আর্কাইভ