পটুয়াখালীতে অবৈধ বাঁধ অপসারণে ফিরল খালের স্বাভাবিক প্রবাহ

হোম » পটুয়াখালী » পটুয়াখালীতে অবৈধ বাঁধ অপসারণে ফিরল খালের স্বাভাবিক প্রবাহ
রবিবার ● ২১ জুন ২০২৬


পটুয়াখালীতে অবৈধ বাঁধ অপসারণে ফিরল খালের স্বাভাবিক প্রবাহ

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, পটুয়াখালী

পটুয়াখালীর উপকূলীয় দশমিনা উপজেলায় সংরক্ষিত বনাঞ্চলের জলজ প্রাণী, মৎস্যসম্পদ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় অভিযান চালিয়ে ১৬টি অবৈধ বাঁধ অপসারণ করেছে বন বিভাগ। তিন দিনের এ অভিযানে দীর্ঘদিন ধরে খালের স্বাভাবিক পানিপ্রবাহে বাধা সৃষ্টি করা বাঁধগুলো অপসারণের ফলে খালগুলোতে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরে এসেছে।

গত মঙ্গলবার, বুধবার ও বৃহস্পতিবার উপজেলার চরহাদী ও চর হায়দার ফরেস্ট ক্যাম্পের উদ্যোগে এ অভিযান পরিচালিত হয়।

বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চরহাদী ফরেস্ট ক্যাম্পের আওতাধীন লালচর, কাউয়ার চর ও মাঝের চর এলাকায় নিয়মিত টহল ও নজরদারির সময় বনাঞ্চলের অভ্যন্তর ও সংলগ্ন বিভিন্ন খালে অবৈধভাবে নির্মিত একাধিক বাঁধ শনাক্ত করা হয়। পরে অভিযান চালিয়ে তিনটি বড় বাঁধ ও ছয়টি ছোট শাখা খালের বাঁধসহ মোট নয়টি অবৈধ বাঁধ অপসারণ করা হয়।

অন্যদিকে চর হায়দার ফরেস্ট ক্যাম্পের আওতাধীন চর হায়দার ও চর আজমাইন এলাকার বনাঞ্চলে তিনটি বড় বাঁধ এবং চারটি শাখা খালের ছোট বাঁধসহ মোট সাতটি অবৈধ বাঁধ কেটে অপসারণ করা হয়েছে।

দুই ফরেস্ট ক্যাম্পের আওতায় মোট ১৬টি অবৈধ বাঁধ অপসারণের ফলে খালের পানিপ্রবাহ স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে এসেছে।

বন বিভাগ জানিয়েছে, এসব বাঁধের কারণে খালের স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছিল। এতে বিভিন্ন প্রজাতির মাছের চলাচল বাধাগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি জলজ প্রাণী, মৎস্যসম্পদ এবং বনাঞ্চলের সামগ্রিক জীববৈচিত্র্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় তাৎক্ষণিকভাবে অভিযান পরিচালনা করে সব অবৈধ বাঁধ অপসারণ করা হয়।

চরহাদী ফরেস্ট ক্যাম্পের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ইলিয়াস হোসেন বলেন, এসব বাঁধ নতুন নয়। প্রায় পাঁচ থেকে সাত বছর আগে স্থানীয়ভাবে মাছ আহরণের উদ্দেশ্যে এগুলো নির্মাণ করা হয়েছিল। সাধারণত প্রতি বছর শীত মৌসুম শেষে স্থানীয়রা মাছ ধরা শেষ করে বাঁধগুলো অপসারণ করে দেয়। কিন্তু বর্ষা মৌসুম শুরু হলে একই স্থানে আবারও বাঁধ নির্মাণের প্রবণতা দেখা যায়, যা সংরক্ষিত বনাঞ্চলের জন্য উদ্বেগজনক।

স্থানীয়দের মতে, বন বিভাগের এ উদ্যোগের ফলে খালের স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরবে এবং উপকূলীয় বনাঞ্চলের পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা ও মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের এগ্রোফরেস্ট্রি বিভাগ ও ক্লাইমেট-স্মার্ট এগ্রিকালচার বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ড. মো. আলমগীর কবির বলেন, উপকূলীয় বনাঞ্চলের খালগুলো জোয়ার-ভাটার পানির স্বাভাবিক চলাচল নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিভিন্ন প্রজাতির মাছ, কাঁকড়া, চিংড়ি ও অন্যান্য জলজ প্রাণীর প্রজনন ও বিচরণের গুরুত্বপূর্ণ আবাসস্থল হিসেবে কাজ করে। এসব খালে অবৈধ বাঁধ নির্মাণের ফলে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হলে পুরো বাস্তুতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।

দশমিনা রেঞ্জের বন বিভাগের কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, অভিযানের সময় ঘটনাস্থলের স্থিরচিত্র সংরক্ষণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে অবৈধ বাঁধ নির্মাণের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রমও চলমান রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, সংরক্ষিত বনাঞ্চলের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় নিয়মিত টহল, নজরদারি ও প্রয়োজনীয় অভিযান অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি স্থানীয় জনগণকে বন ও জলজ সম্পদ সংরক্ষণে সচেতন করা এবং অবৈধ কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।


এসডি/এমআর

বাংলাদেশ সময়: ১৯:৫৬:১৪ ● ১৫ বার পঠিত




পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

আর্কাইভ