
সাগরকন্যা প্রতিবেদক, দশমিনা (পটুয়াখালী)
খুরা ও লাম্পি স্কিন রোগের প্রাদুর্ভাবে আতঙ্কে রয়েছেন পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার খামারি ও গৃহস্থরা। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপকহারে গরুর এ রোগ দেখা দিয়েছে। ইতিমধ্যে দশমিনা সদর, বাঁশবাড়িয়া, বহরমপুর, আলীপুর, রনগোপালদী, বেতাগী সানকিপুর ও চরবোরহান ইউনিয়নে লাম্পি স্কিন রোগে আক্রান্ত হয়ে খামারি ও গৃহস্থদের খুরা রোগে আক্রান্ত হয়ে ৯৬টি এবং লাম্পি রোগে আক্রান্ত হয়ে ৩টি গরুসহ মোট ৯৯টি গরু মারা যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এতে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন খামারি ও কৃষকরা।
এছাড়া খুরা ও লাম্পি স্কিন রোগে শত শত গরু আক্রান্ত হয়েছে বলে উপজেলার সাতটি ইউনিয়নের ছোট-বড় খামারি ও উপজেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগ নিশ্চিত করেছেন। উপজেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তারা খামারি ও গৃহস্থদের সঙ্গে যোগাযোগ করে নিয়মিত তদারকি করছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উপজেলার বহরমপুর ইউনিয়নের বগুড়া এলাকায় খুরা ও লাম্পি স্কিন রোগে আক্রান্ত হয়ে গত দুই সপ্তাহে একটি গর্ভবতী গাভিসহ তিনটি গরু মারা গেছে। অপরদিকে বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ দাসপাড়া এলাকায় খুরা রোগে আক্রান্ত হয়ে গত এক সপ্তাহে একটি গরু মারা গেছে। একইভাবে আলীপুর ইউনিয়নের খলিসাখালী এলাকায় খুরা ও লাম্পি স্কিন রোগে আক্রান্ত হয়ে আরও দুইটি গরু মারা গেছে।
এছাড়াও বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ দাসপাড়া এলাকায় খুরা রোগে প্রায় দুই শতাধিক এবং লাম্পি স্কিন রোগে ৩টি গরুসহ উপজেলার সাতটি ইউনিয়নে খুরা রোগে প্রায় দুই হাজার সাড়ে তিনশ ১২টি গরু এবং লাম্পি স্কিন রোগে ৭৩টি গরু আক্রান্ত হয়ে আছে।
দক্ষিণ দাসপাড়া গ্রামের কৃষক হারুন মৃধা জানান, তার ৯টি গরু রয়েছে। এর মধ্যে গত সপ্তাহে ৬টি গরু খুরা রোগে আক্রান্ত হয়েছে এবং চিকিৎসা চলছে। একই গ্রামের শহিদ হাওলাদার বলেন, তার ১৩টি গরুর মধ্যে ৫টি খুরা রোগে এবং একটি লাম্পি রোগে আক্রান্ত হয়েছে। তবে চিকিৎসা চললেও গরুগুলো মুখে খেতে পারছে না।
এ বিষয়ে দশমিনা উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা বলেন, খামারি ও সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টির জন্য ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা, মাঠ দিবস পালন, উঠান বৈঠক এবং লিফলেট বিতরণ করা হয়েছে। তারপরও অনেক খামারি ও সাধারণ কৃষক তাদের পশুকে হাসপাতালে না এনে স্থানীয় গ্রাম্য হাতুরে ডাক্তারদের মাধ্যমে চিকিৎসা করান। খুরা ও লাম্পি রোগ খামারি ও গৃহস্থদের লোকসানের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। একদিকে তারা রোগাক্রান্ত গরু বিক্রি করতে পারছে না, অন্যদিকে সুস্থ হওয়া গরুর স্বাস্থ্যহানির কারণে দাম কম মিলছে।
এসবি/এমআর