সাগরকন্যা প্রতিবেদক, চরফ্যাশন (ভোলা)
ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার শশীভূষণ থানার রসুলপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের আব্দুল জলিল পণ্ডিতের বাড়িতে মৃত্যুর পর সম্পত্তি ও দাফনকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার (১৯ জুন) রাত ৩টার দিকে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে আব্দুল জলিল পণ্ডিত মারা যান। তার মৃত্যুর খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে আগের চার স্ত্রীর সন্তানরা এসে ওয়ারিশ সূত্রে সম্পত্তিসহ তাদের পাওনা বুঝিয়ে দেওয়ার দাবি জানান।
এ সময় জলিল পণ্ডিতের ছোট ঘরের মেয়ে খাদিজা আক্তার স্মৃতি দাবি করেন, তার বাবার কোনো সম্পদ নেই এবং অন্যরা কিছুই পাবেন না। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
ছোট ঘরের মেয়ের সাবেক স্বামী খোকন অভিযোগ করে বলেন, ২০১৬ সালে স্মৃতির সঙ্গে তার বিয়ে হয় এবং তাদের সংসারে দুটি সন্তান রয়েছে। তিনি দাবি করেন, তার অর্থ ও স্বর্ণালংকার জলিল পণ্ডিত ও স্মৃতির কাছে ছিল। সেই অর্থ দিয়ে দুটি বসতঘর নির্মাণ ও জমি কেনা হয়েছে। খোকনের ভাষ্য, ২০২৫ সালে তার স্ত্রী তাকে তালাক দিয়ে অন্য একজনের সঙ্গে চলে যান। তিনি বলেন, আমার সব সম্পদ বুঝিয়ে না দেওয়া পর্যন্ত লাশ দাফন করতে দেব না।
পরে স্থানীয়রা তাকে বিষয়টির সমাধানের আশ্বাস দিলে দাফনের প্রস্তুতি শুরু হয়। তবে দাফনের সময় আবারও দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়। বড় তিন পরিবারের সদস্যদের দাবি ছিল, জীবদ্দশায় জলিল পণ্ডিত বলে গেছেন তাকে যেন বাড়ির সামনে দাফন করা হয়। অন্যদিকে ছোট পরিবারের সদস্যদের দাবি, তিনি এমন কোনো কথা বলে যাননি এবং বাড়ির বাইরে কোনো কবরস্থানে দাফন করতে হবে।
এ নিয়ে পুনরায় দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। একপর্যায়ে পুলিশি পাহারায় বসতঘরের সামনে জলিল পণ্ডিতকে দাফন করা হয়।
এ ঘটনার পর থেকে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয় সচেতন মহলের আশঙ্কা, বিষয়টি নিয়ে যেকোনো সময় বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে পারে।
শশীভূষণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফিরোজ আহমেদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। স্থানীয়দের দাবি অনুযায়ী লাশ দাফন করা হয়েছে। সংঘর্ষের ঘটনায় কোনো অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।