
সাগরকন্যা প্রতিবেদক, গৌরনদী (বরিশাল)
বরিশালের গৌরনদী উপজেলার মাহিলাড়া ইউনিয়নের ভীমেরপাড় এলাকায় দীর্ঘদিনের একটি জমি বিরোধে প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের পর দাগ ও খতিয়ান সংশোধনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই ঘটনায় সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ও পরবর্তীতে প্রকাশিত বিভিন্ন অনলাইন প্রতিবেদনের সত্যতা নিয়ে স্থানীয়ভাবে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভীমেরপাড় মৌজার বিএস ৪২৭ নম্বর দাগের জমি নিয়ে শিরিন আক্তার, তার স্বামী হাফিজুল ইসলাম এবং স্থানীয় বাসিন্দা কমল চন্দ্র বেপারী-এর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল।
কমল চন্দ্র বেপারী জানান, ২০২২ সালে নামজারি প্রক্রিয়ায় দাগ নম্বর সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক ত্রুটির কারণে ৪২৭ নম্বর দাগের পরিবর্তে ৪২২ নম্বর দাগে নামজারি সম্পন্ন হয়। পরবর্তীতে বিষয়টি নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হলে তা প্রশাসনিক পর্যায়ে গড়ায়।
তিনি আরও বলেন, পূর্ব সম্পত্তি হস্তান্তর আইন অনুযায়ী যার দলিল আগে সম্পাদিত, তিনিই বৈধ মালিক। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর প্রশাসনিক তদন্তে আমার নামজারির ত্রুটি শনাক্ত হয়েছে এবং সংশোধনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে হাফিজুল ইসলাম পক্ষের দাবি, জমি সংক্রান্ত দলিল ও দখল পরিস্থিতি নিয়ে তাদের অবস্থান আইনগতভাবে যথাযথ।
বুধবার উপজেলা প্রশাসনের শুনানি শেষে সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ মেহেদী হাসান দাগ ও খতিয়ান পর্যালোচনা করে সংশোধনের নির্দেশ দেন বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে।
আদেশে উল্লেখ করা হয়, সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র, কানুনগো ও ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তার প্রতিবেদন পর্যালোচনায় দাগ নম্বর সংক্রান্ত ভুল শনাক্ত হওয়ায় পূর্বের নামজারি সংশোধনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একই সঙ্গে অপর পক্ষের নামজারিতে প্রাপ্যতার অতিরিক্ত অংশ কর্তন করে খতিয়ান সংশোধনের নির্দেশ দেওয়া হয়।
এদিকে জমি বিরোধের ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ ও পাল্টা প্রতিবাদে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগকারী শিরিন আক্তার জানান, গত ১২ জুন বিকেলে জমি বিরোধের ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে সাংবাদিক পরিচয়ে মেহেদী হাসান ও নাসির উদ্দীন তার পরিবারের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেছেন এবং পরিস্থিতি উত্তপ্ত করেছেন।
অন্যদিকে অভিযুক্ত সাংবাদিকরা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তারা পেশাগত দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবে ঘটনাস্থলে গিয়ে উভয় পক্ষের বক্তব্য সংগ্রহ করেন।
মেহেদী হাসান বলেন, আমাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। আমরা ঘটনার উভয় পক্ষের বক্তব্য নিয়ে তথ্যভিত্তিক সংবাদ করার চেষ্টা করেছি। কিন্তু কোনো ধরনের যাচাই ছাড়াই কিছু অনলাইন গণমাধ্যমে একপাক্ষিকভাবে আমাদের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে।
নাসির উদ্দীন বলেন, আমার ব্যক্তিগত ও পারিবারিক বিষয় নিয়ে যেসব তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে, তা ভুল ও বিভ্রান্তিকর। অভিযোগ থাকলে তদন্ত হতে পারে, কিন্তু সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসরণ না করে কাউকে সামাজিকভাবে হেয় করা গ্রহণযোগ্য নয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কয়েকটি অনলাইন প্ল্যাটফর্মে এ ঘটনায় বিভিন্ন প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়, যা নিয়ে স্থানীয়ভাবে সমালোচনা তৈরি হয়েছে।
তবে এসব অনলাইন গণমাধ্যমের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, দীর্ঘদিনের জমি বিরোধ প্রশাসনিকভাবে কিছুটা নিষ্পত্তির পথে এগোলেও সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের কারণে ঘটনাটি নতুন মাত্রা পেয়েছে। তারা বলেন, অভিযোগ ও সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে তথ্য যাচাই ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা না হলে বিভ্রান্তি ও সামাজিক উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে।