
সাগরকন্যা প্রতিবেদক, বরগুনা
বরগুনা জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে গত ২৪ ঘণ্টায় পৃথক স্থান থেকে দুই নারীসহ পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার বরগুনা সদর হাসপাতালের মর্গে মরদেহগুলোর ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার সকালে বরগুনা সদর উপজেলার আয়লাপাতাকাটা ইউনিয়নের লেমুয়া গ্রামে সাইফুল ইসলাম কিসলুর স্ত্রী কনা নিজ বাড়িতে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ সময় মরদেহের পাশে একটি চিরকুট পাওয়া যায়, যেখানে স্বামীর দ্বিতীয় বিয়ের অভিমানে আত্মহত্যা করেছে বলে উল্লেখ ছিল।
এর কিছু সময় পর সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সদর উপজেলার নলী এলাকায় নিজ বাসা থেকে ৯৩ বছর বয়সী বৃদ্ধা সালেহা বেগমের ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পান স্বজনরা। পরে পুলিশ গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠায়।
বামনা উপজেলার কলাগাছিয়া এলাকায় চাচার বাসা থেকে আবির হোসেন এহসান নামে এক কলেজ ছাত্রের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
অন্যদিকে পাথরঘাটা পৌর শহরের ইমান আলী সড়ক এলাকায় নিজ বাসার সামনে থেকে অটোচালক মিজানুর রহমানের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
এর আগে শুক্রবার সন্ধ্যায় বরগুনা সদর উপজেলার বদরখালী ইউনিয়নে প্যানেল চেয়ারম্যানকে কুপিয়ে জখমের জেরে পাতাকাটা এলাকায় গ্রামবাসীর গণপিটুনিতে ইব্রাহীম কালু ওরফে বস্তি কালু নিহত হন। পরে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে।
এদিকে একাধিক মৃত্যু ও সহিংস ঘটনার বিষয়ে বরগুনার পুলিশ সুপার মো. কুদরাত-ই-খুদা সাগরকন্যার এ প্রতিবেদককে বলেন, সবগুলো ঘটনা এক রকম নয়। কয়েকটি আত্মহত্যা, একটি গণপিটুনির ঘটনা এবং কয়েকটি হত্যাকাণ্ডও রয়েছে। আমরা সবগুলো ঘটনা নিয়েই কাজ করছি, ইনশাল্লাহ দ্রুতই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসবে।
তিনি আরও বলেন, যেগুলো হত্যাকাণ্ড, সেগুলোর অগ্রগতিও রয়েছে। পাথরঘাটার ঘটনায় একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আর মস্তকবিহীন লাশ উদ্ধারের ঘটনায় তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
বরগুনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল আলীম বলেন, উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলোর ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। আইনগত প্রক্রিয়া অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।