উপজেলা বাস্তবায়ন নিয়ে বিতর্ক ‘কুয়াকাটা’ প্রশাসনিক নাম ও পরিচয় প্রশ্নে একটি বাস্তবসম্মত দৃষ্টিভঙ্গি

হোম » মতামত » উপজেলা বাস্তবায়ন নিয়ে বিতর্ক ‘কুয়াকাটা’ প্রশাসনিক নাম ও পরিচয় প্রশ্নে একটি বাস্তবসম্মত দৃষ্টিভঙ্গি
বুধবার ● ১০ জুন ২০২৬


শাহাবুদ্দীন শিহাব

শাহাবুদ্দীন শিহাব

 

পর্যটন নগরী কুয়াকাটাকে ঘিরে প্রশাসনিক কাঠামো ও স্থানীয় পরিচয় নির্ধারণ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই মহিপুর ও কুয়াকাটা- এই দুই নামের মধ্যে একটি টানাপোড়েন লক্ষ্য করা যায়। তবে সাম্প্রতিক মতামতধর্মী বিশ্লেষণে একটি বিষয় স্পষ্ট হয়ে উঠছে- আন্তর্জাতিক পর্যটন ব্র্যান্ড হিসেবে কুয়াকাটার পরিচয়কে কেন্দ্র করেই ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা সাজানো অধিক কার্যকর ও বাস্তবসম্মত।

 

কুয়াকাটা ইতোমধ্যে দেশের অন্যতম সমুদ্র পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি অর্জন করেছে। ফলে বৈশ্বিক পর্যটন বাজারে একটি একক ও সুসংহত নাম হিসেবে ‘কুয়াকাটা’ ব্র্যান্ডিং ব্যবহারের যৌক্তিকতা অনেক বেশি। মতামত অনুযায়ী, আলাদা উপজেলা নাম বা প্রশাসনিক বিভাজনের বিতর্ক পর্যটন উন্নয়নের গতি ব্যাহত করতে পারে।

 

অন্যদিকে, স্থানীয় প্রশাসনিক ও অবকাঠামোগত ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে মৎস্য বন্দর হিসেবে পরিচিত ‘আলীপুর’ ও ‘মহিপুর’ এলাকাকে একীভূত উন্নয়ন বলয়ের মধ্যে আনা যেতে পারে। বিশেষ করে পর্যটন নগরীর বিস্তার যখন সৈকত এলাকা থেকে কুয়াকাটার বাস টার্মিনাল এলাকা ‘তুলাতলী’ পর্যন্ত সম্প্রসারিত হবে, তখন আবাসিক, বাণিজ্যিক এবং প্রশাসনিক কেন্দ্র এই অঞ্চলে গড়ে ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে।

 

এই দৃষ্টিভঙ্গিতে বলা হচ্ছে, কুয়াকাটা হবে মূল পর্যটন কেন্দ্র এবং ব্র্যান্ড নাম, আর আলীপুর-মহিপুর হবে তার সহায়ক প্রশাসনিক ও আবাসিক অবকাঠামোর কেন্দ্র। ফলে নাম নিয়ে বিভাজন বা বিরোধের পরিবর্তে একটি সমন্বিত উন্নয়ন কাঠামো তৈরি করা সম্ভব হবে।

 

মতামতকারীদের মতে, ‘কুয়াকাটা নাকি মহিপুর’- এই স্থানীয় বিতর্কের চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো আন্তর্জাতিক পর্যটন বাজারে একটি শক্তিশালী পরিচয় প্রতিষ্ঠা করা। সেই দৃষ্টিকোণ থেকে ‘কুয়াকাটা’ নামটিই সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য, নিরপেক্ষ এবং ব্র্যান্ডযোগ্য সমাধান হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

 

সব মিলিয়ে, উন্নয়ন পরিকল্পনায় নামকেন্দ্রিক বিভাজনের পরিবর্তে সমন্বিত পর্যটন অঞ্চল গঠনের ধারণাই ভবিষ্যৎ উন্নয়নের জন্য অধিক কার্যকর বলে মনে করা হচ্ছে।

 

তবে বাস্তবতা হলো, নতুন উপজেলা বাস্তবায়নের বিষয়টি পুরোপুরি নির্ভর করছে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত ও প্রশাসনিক মূল্যায়নের ওপর। স্থানীয় পর্যবেক্ষকদের মতে, পটুয়াখালী-৪ সংসদীয় আসনের জনপ্রতিনিধি, সরকারের নীতিনির্ধারক মহল এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো এই প্রস্তাবকে কীভাবে মূল্যায়ন করছে- তার ওপরই নির্ধারিত হবে আদৌ কুয়াকাটা বা মহিপুর এলাকায় নতুন উপজেলা গঠিত হবে কি না।

 

প্রথমত, উপজেলা প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তা ও প্রশাসনিক কার্যকারিতা সরকার কতটা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে, সেটিই এখানে মূল নির্ধারক বিষয়। ফলে বিষয়টি এখনো প্রস্তাব ও মূল্যায়নের পর্যায়েই রয়েছে।

 

লেখক: খেলাঘর কর্মী ও সংগঠক এবং শিক্ষাবিদ

বাংলাদেশ সময়: ১৫:৪৩:৫৬ ● ৫২ বার পঠিত




পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

আর্কাইভ