কলাপাড়ার মঙ্গল সুখ মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষার বাতিঘর

হোম » শিক্ষা » কলাপাড়ার মঙ্গল সুখ মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষার বাতিঘর
মঙ্গলবার ● ৯ জুন ২০২৬


 

কলাপাড়ার মঙ্গল সুখ মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষার বাতিঘর

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, কলাপাড়া (পটুয়াখালী)

 

পটুয়াখালীর কলাপাড়ার মঙ্গল সুখ মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আধুনিক শিক্ষা পদ্ধতি ও এফএলএন (ফাউন্ডেশনাল লিটারেসি অ্যান্ড নিউমেরেসি) কার্যক্রমে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। তথ্যপ্রযুক্তি নির্ভর পাঠদান, শিক্ষার্থী-কেন্দ্রিক শিখন ও ধারাবাহিক মূল্যায়নের মাধ্যমে বিদ্যালয়টি শিক্ষার বাতিঘর হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।

 

কলাপাড়া পৌর শহরে অবস্থিত বিদ্যালয়টির দেয়ালে ১৯৫২ থেকে ১৯৭১ সালের ইতিহাস, শহীদ বুদ্ধিজীবী ও মীনা-রাজুর কার্টুন অঙ্কিত রয়েছে। প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের জন্য খেলাধুলার সামগ্রী, শিক্ষাসামগ্রী এবং মাটির তৈরি বিভিন্ন উপকরণ রাখা হয়েছে। প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পাঠ্যবইয়ের বিষয়বস্তুও দেয়ালে চিত্রায়িত।

 

প্যারেড গ্রাউন্ডে নিয়মিত জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়। ঘণ্টা বাজতেই শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষে ফিরে যায়। তৃতীয় শ্রেণিতে শিক্ষক প্রবেশের পর শিক্ষার্থীরা সমবেত কণ্ঠে অভিবাদন জানায়। পরে প্রজেক্টরের মাধ্যমে মাল্টিমিডিয়ায় পাঠদান পরিচালনা করা হয় এবং ভিডিওভিত্তিক আলোচনার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হয়।

 

বিদ্যালয়টি ২০২৪ ও ২০২৬ সালে বিভাগীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ বিদ্যালয় হিসেবে প্রথম স্থান অর্জন করেছে। পাশাপাশি এফএনএল কার্যক্রমে শিক্ষার্থীরা বাংলা, ইংরেজি ও গণিতে ধারাবাহিক অগ্রগতি অর্জন করছে। পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা বাংলা বিষয়ে শতভাগ দক্ষতার কাছাকাছি পৌঁছেছে এবং তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণিতে গণিতে প্রায় ৯৫ শতাংশ অগ্রগতি রয়েছে।

 

শিক্ষকদের নিয়মিত মূল্যায়ন ও শিক্ষার্থী-কেন্দ্রিক পাঠদানের ফলে পাঠ, লিখন ও গণনাক্ষমতা উন্নত হচ্ছে। আধুনিক শিক্ষা কার্যক্রমে দেশের তিনটি বিদ্যালয়ের মধ্যে মঙ্গল সুখ মডেল বিদ্যালয় অন্যতম হিসেবে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

 

পড়াশোনার পাশাপাশি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা খেলাধুলা ও সহশিক্ষা কার্যক্রমে সাফল্য অর্জন করেছে। ২০২২ সালে শতভাগ বৃত্তি অর্জন এবং বিভিন্ন জাতীয় ও বিভাগীয় পর্যায়ে সাফল্য বিদ্যালয়টির অর্জনের তালিকায় রয়েছে।

 

প্রধান শিক্ষক মোসা. নাজমুস সাকিব খান কনা বলেন, ‘বিদ্যালয়টি ১৯৫৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। বর্তমানে ১৬ জন শিক্ষক ও ৭৬৮ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। নিয়মিত মূল্যায়ন ও অভিভাবকদের সহযোগিতায় শিক্ষার্থীরা দ্রুত অগ্রগতি অর্জন করছে।’

 

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোসা. শাহিদা বেগম বলেন, ‘এফএনএল কার্যক্রমসহ প্রতিটি ক্ষেত্রে মঙ্গল সুখ মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সফলভাবে এগিয়ে যাচ্ছে। এ সাফল্য দেশের আধুনিক শিক্ষা কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’

বাংলাদেশ সময়: ১৮:০৪:১৭ ● ৩০ বার পঠিত




পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

আর্কাইভ