নেছারাবাদে সংঘবদ্ধ হামলায় অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূর গর্ভপাতের অভিযোগ, থানায় জিডি

হোম » পিরোজপুর » নেছারাবাদে সংঘবদ্ধ হামলায় অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূর গর্ভপাতের অভিযোগ, থানায় জিডি
সোমবার ● ৮ জুন ২০২৬


 

নেছারাবাদে সংঘবদ্ধ হামলায় অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূর গর্ভপাতের অভিযোগ, থানায় জিডি

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, নেছারাবাদ (পিরোজপুর)

 

পিরোজপুর জেলার নেছারাবাদে পূর্ব বিরোধের জেরে সংঘবদ্ধ হামলায় দুই মাসের অন্তঃসত্ত্বা এক গৃহবধূর গর্ভের সন্তান নষ্ট হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার বলদিয়া ইউনিয়নের রাজাবাড়ি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আহত ওই গৃহবধূ আফসানা ও তাঁর স্বামী মো. আলী আকবর বর্তমানে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

 

ভুক্তভোগীর পরিবার জানায়, গত বৃহস্পতিবার (৪ জুন) দুপুরে পূর্ব শত্রুতার জেরে প্রতিবেশী চান মিয়া, রওসোনারা, রুমানা ও শিমুল আলী আকবরের ওপর হামলা চালান। এ সময় স্বামীকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে অন্তঃসত্ত্বা আফসানাকেও মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়।

 

রবিবার (৭ জুন) দুপুরে আফসানার পিতা মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, মেয়ে প্রাণে বেঁচে আছে, কিন্তু তার গর্ভের সন্তানকে বাঁচানো যায়নি। আমার মেয়ে এখন বরিশালে চিকিৎসাধীন। ঘটনার বিষয়ে আমি নেছারাবাদ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছি।

 

তিনি আরও অভিযোগ করে বলেন, হামলার পর স্থানীয়দের সহায়তায় আহত দম্পতিকে হাসপাতালে নেওয়ার পথে ইন্দেরহাট বাজার এলাকায় অনিক ও কাওসার আবারও তাদের ওপর হামলা চালায়। পরে তাঁদের হাসপাতালে ভর্তি করা হলে অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

 

আফসানার পিতা মো. শহিদুল ইসলাম দাবি করেন, হামলাকারীদের নির্যাতনের কারণেই তাঁর মেয়ের গর্ভের সন্তান নষ্ট হয়ে গেছে। বর্তমানে জামাতা আলী আকবর কিছুটা শঙ্কামুক্ত থাকলেও আফসানার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানান তিনি। তিনি আরও বলেন, ঘটনার বিচার ও দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে থানায় লিখিত অভিযোগ দিলেও এখনো মামলা গ্রহণ করা হয়নি।

 

অন্যদিকে অভিযুক্ত অনিক অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি কাউকে মারধর করেননি; বরং তাঁর পরিবারই হামলার শিকার হয়েছে বলে দাবি করেন। একইভাবে চান মিয়া ও রওসোনারা তাঁদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

 

নেছারাবাদ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সঞ্জয় মজুমদার বলেন, শহিদুল ইসলাম একটি জিডি করেছেন। তখন গর্ভপাতের বিষয়ে এমন কোনো তথ্য জানা যায়নি। মেডিকেল সনদ ও প্রয়োজনীয় প্রমাণপত্র পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জিডিটি ইতোমধ্যে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

বাংলাদেশ সময়: ১৫:৩৭:১৯ ● ৩২ বার পঠিত




পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

আর্কাইভ