ওভারটাইম ভাতা পুনর্বহাল দাবিতে বেনাপোল বন্দরে কর্মবিরতি

হোম » খুলনা » ওভারটাইম ভাতা পুনর্বহাল দাবিতে বেনাপোল বন্দরে কর্মবিরতি
রবিবার ● ১০ মে ২০২৬


অধিকাল ভাতা পুনর্বহালের দাবিতে বেনাপোল বন্দরে কর্মবিরতি,

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, বেনাপোল (যশোর)

অধিকাল ভাতা (ওভারটাইম) পুনর্বহালের দাবিতে  বেনাপোল স্থলবন্দরে দুই ঘণ্টার কর্মবিরতি পালন করেছেন বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। রবিবার (১০ মে) বিকেল ৫টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত এ কর্মবিরতি পালন করা হয়। একই সময়ে বন্দরের কার্গো ভেহিকেল টার্মিনাল এলাকায় মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে দেশের বৃহত্তম স্থলবন্দরের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে ধীরগতি দেখা দেয়।

বিকেল ৫টার দিকে শুরু হওয়া কর্মসূচিতে বেনাপোল স্থলবন্দরে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অংশ নেন। এ সময় বন্দরে প্রবেশ ও পণ্য খালাস কার্যক্রম ব্যাহত হয়। টার্মিনাল এলাকায় একের পর এক পণ্যবাহী ট্রাক আটকে থাকতে দেখা যায়। ফলে ভারত-বাংলাদেশের মধ্যকার আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের স্বাভাবিক কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটে। পাশাপাশি পাসপোর্টধারী যাত্রীদের চলাচলেও ভোগান্তি সৃষ্টি হয়।

আন্দোলনরত কর্মচারীরা জানান, অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রবিধি-৩ শাখা থেকে ২০২৫ সালের ২৩ নভেম্বর জারি করা এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের আওতাধীন বন্দরের কর্মচারীদের অধিকাল ভাতা বন্ধ করে দেওয়া হয়। এরপর থেকে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করলেও তারা কোনো ধরনের ভাতা পাচ্ছেন না।

আন্দোলনরত কর্মচারী নাহিদ সাগরকন্যাকে বলেন, বেনাপোল বন্দরের কার্যক্রম নির্ধারিত অফিস সময়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য সচল রাখতে প্রতিদিন ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করতে হয়। অনেক সময় সরকারি ছুটি ও ঈদের দিনেও কাজ করতে হয়। অথচ অতিরিক্ত শ্রমের ন্যায্য মূল্য থেকে আমরা বঞ্চিত হচ্ছি।

বিক্ষোভ সমাবেশে কর্মচারী শাহাদৎ বলেন, অধিকাল ভাতা বন্ধ থাকায় কর্মচারীদের মধ্যে হতাশা ও অসন্তোষ বাড়ছে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে পরিবার নিয়ে চলা কঠিন হয়ে পড়েছে। দ্রুত অধিকাল ভাতা পুনর্বহাল ও বকেয়া ভাতা পরিশোধ করতে হবে।

বেনাপোল স্থলবন্দর কর্মচারী দাবি আদায় পরিষদের আহ্বায়ক হাফিজুর রহমান মিয়া বলেন, দাবি আদায় না হলে ১১ মে আবারও বিকেল ৫টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত কর্মবিরতি পালন করা হবে। প্রয়োজনে আরও কঠোর কর্মসূচিও ঘোষণা করা হতে পারে।

তিনি জানান, একই দাবিতে দেশের অন্যান্য স্থলবন্দরেও একযোগে আন্দোলন চলছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে একাধিকবার আবেদন করা হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

এদিকে বন্দর সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও পরিবহন খাতের সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, দ্রুত সমস্যার সমাধান না হলে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই স্থলবন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে। এতে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য, পণ্য পরিবহন, খালাস কার্যক্রম এবং আন্তর্জাতিক যাত্রী চলাচলে দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।


ডিকে/এমআর

বাংলাদেশ সময়: ২০:৫৭:০৩ ● ৪২ বার পঠিত




পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

আর্কাইভ