বাবুগঞ্জে নিয়মিত সাব-রেজিস্ট্রার না থাকায় বেড়েছে জনভোগান্তি

হোম » বরিশাল » বাবুগঞ্জে নিয়মিত সাব-রেজিস্ট্রার না থাকায় বেড়েছে জনভোগান্তি
রবিবার ● ১০ মে ২০২৬


বাবুগঞ্জে নিয়মিত সাব-রেজিস্ট্রার না থাকায় বেড়েছে জনভোগান্তি

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, বাবুগঞ্জ (বরিশাল)

বরিশালের বাবুগঞ্জে রহমতপুর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিত সাব-রেজিস্ট্রার না থাকায় সেবা প্রত্যাশীদের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে। জমি রেজিস্ট্রি করতে এসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও কাঙ্ক্ষিত সেবা না পেয়ে হতাশ হয়ে ফিরছেন সাধারণ মানুষ।

 

স্থানীয়দের অভিযোগ, একদিকে সরকারি রাজস্ব আদায় ব্যাহত হচ্ছে, অন্যদিকে জমি ক্রয়-বিক্রয় কার্যক্রম প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি দলিল লেখক, ভেন্ডার ও সংশ্লিষ্ট পেশাজীবীরা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

সেূত্র জানায়, বর্তমানে খণ্ডকালীন দায়িত্বে থাকা সাব-রেজিস্ট্রার মো. যোবায়ের হোসেন একসঙ্গে তিন উপজেলার দায়িত্ব পালন করায় রহমতপুর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে সপ্তাহে মাত্র একদিন (বুধবার) দলিল সম্পাদনের কার্যক্রম করে থাকেন। ফলে নির্ধারিত দিনে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়ে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে সেবাগ্রহীতাদের।

 

সরেজমিনে জানা যায়, ছয়টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত এই অফিসের আওতায় প্রায় দেড় লাখ মানুষের সেবা নির্ভরশীল হলেও দীর্ঘদিন স্থায়ী কর্মকর্তা না থাকায় কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

 

সেবাপ্রার্থীরা জানান, সকাল থেকে অপেক্ষা করেও অনেক সময় সন্ধ্যা পর্যন্ত কাজ শেষ হয় না। কোনো কারণে দলিল সম্পাদন না হলে আবার পরবর্তী সপ্তাহ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়। এতে বয়স্ক ও অসুস্থদের ভোগান্তি আরও বেড়েছে।

 

দেহেরগতি গ্রামের শফিকুল ইসলাম সাগরকন্যাকে বলেন, সকাল থেকে এসে রাত পর্যন্ত অপেক্ষা করেছি, কিন্তু কাজ শেষ হয়নি। সময় ও টাকা- দুটোই নষ্ট হয়েছে।

 

দলিল লেখক সমিতির নেতারা জানান, আগে সপ্তাহে তিন দিন কার্যক্রম চলাকালে ২০০-৩০০টি দলিল সম্পাদিত হতো। বর্তমানে একদিনে গড়ে মাত্র ৭০টি দলিল সম্পাদন হচ্ছে। এতে অনেকেই পেশাগতভাবে ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

 

রহমতপুর দলিল লেখক সমিতির সভাপতি জুয়েল তালুকদার বলেন, সপ্তাহে একদিন অফিস চালু থাকায় সেবার মান ভেঙে পড়েছে। দ্রুত স্থায়ী সাব-রেজিস্ট্রার পদায়ন করে সপ্তাহে পাঁচ দিন কার্যক্রম চালু করা জরুরি।

 

খণ্ডকালীন সাব-রেজিস্ট্রার মো. যোবায়ের হোসেন বলেন, একসঙ্গে তিন উপজেলার দায়িত্ব থাকায় স্বাভাবিক সেবা দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। নির্দেশনা অনুযায়ী সপ্তাহে একদিনই কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

 

 

এ বিষয়ে বরিশাল জেলা রেজিস্ট্রার জানান, পদ শূন্য থাকায় এ সমস্যা তৈরি হয়েছে। মন্ত্রণালয় থেকে দ্রুত পদায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এএ/এমআর

বাংলাদেশ সময়: ২০:০৪:২৯ ● ৪৪ বার পঠিত




পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

আর্কাইভ