গৌরনদীতে ভাইস চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে পে-অর্ডার জালিয়াতি অভিযোগ

প্রথম পাতা » বরিশাল » গৌরনদীতে ভাইস চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে পে-অর্ডার জালিয়াতি অভিযোগ
সোমবার ● ৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৩


গৌরনদীতে ভাইস চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে পে-অর্ডার জালিয়াতি অভিযোগ

গৌরনদী (বরিশাল) সাগরকন্যা প্রতিনিধি॥

বরিশাল জেলা খাদ্য বিভাগে খাদ্য সামগ্রীতে পুস্টিগুণ বাড়ানোর কাজে জামানত হিসেবে এক আওয়ামী লীগ নেতা ও উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যানের দেয়া ২কোটি ৬৮ লাখ ৩৬ হাজার ৫০৪ টাকার ১১টি পে অর্ডার ভুয়া প্রমানিত হয়েছে। এক ব্যাংকারের সহযোগীতায় এই পে-অর্ডার জালিয়াতী করেন তিনি। ১১টি পেঅর্ডারের মাধ্যমে সরকারকে জামানত বাবদ ২ কোটি ৬৮ লাখ ৩৬ হাজার ৫০৪ টাকা দেয়া হলেও সরকারের কোষাগারে জমা হয়েছে ৭ হাজার ২ শ’ টাকা। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর অভিযুক্ত মিল মালিক ও এক ব্যাংকারকে আসামী করে বরিশাল কোতয়ালী মডেল থানায় মামলা করে খাদ্য বিভাগ। এ ঘটনা তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলেছেন মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার।
মামলায় অভিযুক্ত দুই জন হলেন গৌরনদীর এলাহী এ্যাগ্রো লিমিটেডের (পুস্টি মিশ্রন মিল) সত্ত্বাধিকারী মো. ফরহাদ হোসেন এবং অগ্রনী ব্যাংকের স্থানীয় শাখা ব্যবস্থাপক মো. আলী রেজা। মিলের সত্ত্বাধিকারী হিসেবে কাগজপত্রে ফরহাদ হোসেন লেখা থাকলেও তার প্রকৃত নাম মো. নুরুজ্জামান ফরহাদ মুন্সি। তিনি গৌরনদী উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারন সম্পাদক।
গত রোববার মধ্য রাতে জেলা খাদ্য বিভাগের পরিদর্শক মো. দেলোয়ার হোসেন বাদি হয়ে বিশ্বাস ভঙ্গ ও প্রতারণার মাধ্যমে ২কোটি ৬৮ লাখ ৩৬ হাজার ৫০৪ টাকার ১১ টি পে অর্ডার জালিয়াতির অভিযোগ করেন আসামীদের বিরুদ্ধে।
অভিযোগে বলা হয়- এলাহী এগ্রো লিমিটেড খাদ্য বিভাগের খাদ্যে পুস্টিগুন বাড়ানোর তালিকাভূক্ত প্রতিষ্ঠান। এই কাজে ২০১৮ সালের ১২ ডিসেম্বর থেকে ২০২২ সালের ১৫ জুন পর্যন্ত মোট ১১টি পেঅর্ডারের মাধ্যমে ২ কোটি ৬৮ লাখ ৩৬ হাজার ৫০৪ টাকার জামানত দেয় এলাহী এগ্রো লিমিটেড। যা যাচাইয়ে ভূয়া প্রমানিত হয়। খাদ্য বিভাগের হিসেবে জমা হওয়া ২ কোটি ৬৮ লাখ ২৯ হাজার টাকার পে অর্ডারের প্রকৃত মূল্য মাত্র ৭ হাজার ২ শ’ টাকা। ১শ’ টাকার একটি পেঅর্ডার জালিয়াতি করে ১ কোটি ৯ লাখ ৩৯ হাজার ৫০৪ টাকা দেখানো হয়েছে। ৩ লাখ ৩৪ হাজার ৪শ’ টাকার একটি পে অর্ডার যাচাই করে পাওয়া গেছে ২শ’ টাকা। অন্য ৯টি পেঅর্ডারও অনুরূপ জালিয়াতি করে খাদ্য বিভাগে জমা দেয় এলাহী এগ্রো। এছাড়াও ফরহাদ হোসেনের আরও দুটি প্রতিষ্ঠান খাদ্য বিভাগের তালিকাভূক্ত।
বিষয়টি জানাজানি হলে গত রবিবার মধ্য রাতে অভিযুক্ত ফরহাদ হোসেন এবং অগ্রনী ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট শাখা ব্যবস্থাপক মো. আলী রেজাকে আসামী করে বরিশাল কোতয়ালী থানায় মামলা করে খাদ্য বিভাগ। একই সাথে ফরহাদ হোসেনের সাথে সম্পাদিত চুক্তি বাতিল করে তার মালিকানাধীন ৩টি মিল কালো তালিকাভূক্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা খাদ্য অফিসের পরিদর্শক মো. দেলোয়ার হোসেন।
২০১৮ সাল থেকে জালিয়াতির ঘটনা ঘটলেও ৫ বছর পর বিষয়টি খাদ্য বিভাগের নজরে পড়ার বিষয়টি রহস্যজনক বলে মনে করেন বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. সাইফুল ইসলাম। এর সাথে জড়িত অন্যদেরও শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন দাবি করে মিল মালিক ও গৌরনদী উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান নুরুজ্জামান ফরহাদ মুন্সী জানান, পে-অর্ডার যাচাই বাছাই করে খাদ্য বিভাগ আমাদের প্রতিষ্ঠানকে ওয়ার্ক অর্ডার দিয়েছে। ঘটনার ৫ বছর পর পে-অর্ডার জালিয়াতির ঘটনা সঠিক নয় বলে তিনি দাবি করছেন।

এআর/এমআর

বাংলাদেশ সময়: ১৮:৫৭:১০ ● ২৪৭ বার পঠিত




পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

আর্কাইভ