দুমকিতে খাস জমিতে নির্মাণ হচ্ছে ইটভাটা, নির্বাক প্রশাসন

প্রথম পাতা » সর্বশেষ » দুমকিতে খাস জমিতে নির্মাণ হচ্ছে ইটভাটা, নির্বাক প্রশাসন
মঙ্গলবার ● ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২০


দুমকিতে খাস জমিতে নির্মাণ করা হচ্ছে ইটভাটা, নির্বাক প্রশাসন

দুমকি (পটুয়াখালী) সাগরকন্যা প্রতিনিধি॥

পটুয়াখালীর পাতাবুনিয়া নদীর তীরবর্তি বাহেরচর মৌজায় জেগে ওঠা চরে বন্দোবস্তের সরকারী খাস জমিতে অবৈধ ইটভাটা নির্মাণ করা হচ্ছে। কার্ডহোল্ডার (বন্দোবস্ত প্রাপ্ত) ৭/৮জন কৃষকের অন্তত: ৫ একর জমি জবর-দখল করে স্কাভেটর মেশিন দিয়ে চলছে মাটি কাটার কাজ। গড়ে তোলা হচ্ছে সুউচ্চ মাটির স্তুপ। প্রকাশ্য দিবালোকে এমন দখল-দাড়িত্বের অবৈধ ইটভাটা নির্মান করার কাজ চললেও প্রশাসন রয়েছে নির্বিকার। অভিযোগ রয়েছে, অর্থ-বিত্ত আর পেশীশক্তির জোড় খাটিয়ে থানা পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনকে ম্যানেজ করেই দ্রুততার সাথে চলছে অবৈধ ইটভাটার নির্মাণ কাজ।
স্থানীয় সূত্রে জানাযায়, উপজেলার জেএল-৫৩ বাহেরচর মৌজায় সরকারী বন্দোবস্তের অন্তত: ৫একর খাস জমি জবর-দখল করে অবৈধভাবে ইটভাটা তৈরীর চেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে পাতাবুনিয়া  এলাকার মজিদ হাওলাদারের ছেলে ধনাঢ্য বাচ্চু হাওলাদার ও লাভলু শরীফ নামের দুই প্রভাবশালী ব্যক্তি। তারা প্রশাসনকে ম্যানেজ করে পেশীশক্তির জোড় খাটিয়ে ইটভাটাটি নির্মাণ করতে শুরু করেছেন। প্রশাসনিক অনুমোদন ও পরিবেশগত ছাড়পত্র ছাড়াই তারা চরের বন্দোবস্ত প্রাপ্ত মালিকদের জমি জোড় পূর্বক দখল করে স্কাভেটর দিয়ে মাটি কেটে সুবিশাল স্তুপ গড়ে তুলছে।
কার্ডহোল্ডার বাহেরচর মৌজার বাসিন্দা মো: নাসির উদ্দিন হাওলাদারের ছেলে মো: জিয়াউর রহমান অভিযোগ করেন, বাচ্চু হাওলাদার ও লাভলু গায়ের জোড়ে আমাদের জমিজমা দখল করে নিয়েছে। একই এলাকার বাসিন্দা মাওলানা আবদুল খালেকের ছেলে মো: কাইয়ুম অভিযোগ করে বলেন, চরে ইটভাটা নির্মাণে বাঁধা দিতে গেলে মেরে নদীতে ভাসিয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে বেড়াচ্ছেন ওই প্রভাবশালীরা।
নির্মাণাধীণ ইটভাটার মালিক বাচ্চু হাওলাদার অবশ্য অবৈধ দখল-দাড়িত্বের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি তাদের রেকর্ডিও জমিতে ইটভাটা নির্মাণ করছেন দাবি করে বলেন, প্রচলিত নিয়মের সকল বিধিবিধান অনুসরণ করেই কাজ শুরু করা হয়েছে। প্রশাসনিক অনুমতি ও পরিবেশগত ছাড়পত্র নেয়া আছে। কার্ডহোল্ডারদের কোন প্রকার হুমকি-ধমকি দেয়া হয়নি বলে দাবি করেছেন।
এবিষয়ে দুমকি থানার অফিসার ইনচার্জ মো: মনিরুজ্জামান বলেন, এ উপজেলায় ভূমি জবর-দখলের কোন সুযোগ নেই। ম্যানেজ হওয়ার প্রশ্ন অবান্তর। আমার অগোচরে কোথাও এমন ঘটনা ঘটলে তা তদন্ত করে অভিযুক্তে বিরুদ্ধে কঠর ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
সহকারী কমিশনার (ভূমি) আল-ইমরান বলেন, অবৈধ ইটভাটা নির্মাণের খবর পেয়ে সরেজমিন পরিদর্শণ করে তাদের নিষেধ করা হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলে তাদের বিরুদ্ধে কঠর পদক্ষেপ নেয়া হবে।

এমআর

বাংলাদেশ সময়: ২১:২৬:১৫ ● ১৯৭ বার পঠিত




পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

আর্কাইভ