
সাগরকন্যা প্রতিবেদক, কুয়াকাটা (পটুয়াখালী)
পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় মহান স্বাধীনতা দিবস যথাযথ মর্যাদা ও আয়োজনের মধ্য দিয়ে পালিত না হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। দেশের অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত এ এলাকায় ২৬ মার্চে দৃশ্যমান বড় কোনো কর্মসূচি না থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দিবসটি উপলক্ষে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন, বড় ধরনের আনুষ্ঠানিকতা কিংবা উল্লেখযোগ্য সাংস্কৃতিক আয়োজন লক্ষ্য করা যায়নি। এতে এলাকাবাসী ও আগত পর্যটকদের মধ্যে অসন্তোষ ও হতাশা তৈরি হয়েছে।
পর্যটন ব্যবসায়ী জহিরুল ইসলাম মিরন বলেন, ‘মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে কুয়াকাটায় তেমন কোনো আয়োজন নেই। তবে উপজেলা পর্যায়ে দিবসটি যথাযথভাবে উদযাপিত হচ্ছে। পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে সামাজিক, রাজনৈতিক ও ব্যবসায়ীদের সম্মিলিতভাবে দিবসটি উদযাপন করা উচিত ছিল। আয়োজন না হওয়ায় আমি দুঃখ প্রকাশ করছি। ভবিষ্যতে এ বিষয়ে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করবো।’
কুয়াকাটা শিল্পী গোষ্ঠীর সভাপতি হোসাইন আমির বলেন, ‘এত গুরুত্বপূর্ণ দিনে কুয়াকাটায় রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক তেমন কোনো কার্যক্রম চোখে পড়েনি, যা দুঃখজনক। তবে আমাদের সংগঠনের পক্ষ থেকে সন্ধ্যায় একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।’
কুয়াকাটা হোটেল-মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোতালেব শরীফ বলেন, ‘কুয়াকাটায় স্বাধীনতা দিবসের কোনো আয়োজন না থাকাটা দুঃখজনক।’
এদিকে কুয়াকাটা পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মতিউর রহমান জানান, ‘স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে বাদ আসর দলীয় কার্যালয়ে দোয়া ও মোনাজাতের আয়োজন রয়েছে।’
কুয়াকাটা পৌর প্রশাসক ইয়াসীন সাদেক জানান, পৌরসভার পক্ষ থেকে আলাদা কোনো কর্মসূচি ছিল না। জেলা প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী উপজেলা পর্যায়ের কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করা হয়েছে এবং অন্যান্য কর্মসূচিতেও অংশ নেওয়া হবে।
অন্যদিকে পর্যটকদের মতে, দেশের গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে কুয়াকাটায় জাতীয় দিবসগুলো আরও জাঁকজমকপূর্ণভাবে পালন করা উচিত, যাতে দেশপ্রেমের চেতনা জাগ্রত হওয়ার পাশাপাশি পর্যটকদের কাছেও ইতিবাচক বার্তা পৌঁছায়।