কুয়াকাটায় সৈকতে বেপরোয়া মোটরসাইকেল, আতঙ্কে পর্যটক-শিশু

হোম পেজ » কুয়াকাটা » কুয়াকাটায় সৈকতে বেপরোয়া মোটরসাইকেল, আতঙ্কে পর্যটক-শিশু
মঙ্গলবার ● ২৪ মার্চ ২০২৬


 

কুয়াকাটায় সৈকতে বেপরোয়া মোটরসাইকেল, আতঙ্কে পর্যটক-শিশু

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, কুয়াকাটা (পটুয়াখালী)

কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে মোটরসাইকেলের অবাধ ও বেপরোয়া চলাচলে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। বালিয়াড়িতে উচ্চগতিতে মোটরসাইকেল চালানোর কারণে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, এতে বিশেষ করে শিশুদের নিয়ে আসা পরিবারগুলো চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।

 

মঙ্গলবার সরেজমিনে দেখা যায়, সৈকতের বিভিন্ন পয়েন্টে, এমনকি ট্যুরিস্ট পুলিশ বক্সের সামনেও মোটরসাইকেল চলাচল অব্যাহত রয়েছে। অনেক চালক পর্যটকদের ঘোরানোর জন্য দরদাম করছেন, কেউ ঘণ্টাভিত্তিক ভাড়ায় বাইক দিচ্ছেন, আবার কেউ বেপরোয়া গতিতে সৈকতজুড়ে চালাচ্ছেন।

 

শুধু চালকরাই নয়, অনেক পর্যটকও নিজেদের মোটরসাইকেল নিয়ে সৈকতে প্রবেশ করছেন। তাদের ভাষ্য, সৈকতে মোটরসাইকেল চালানো নিষিদ্ধ- এ বিষয়ে তারা অবগত ছিলেন না এবং কেউ তাদের বাধাও দেয়নি। অন্যদিকে জীবিকার তাগিদে ভাড়ায় চালানো মোটরসাইকেল চালকরাও ঝুঁকি নিয়েই সৈকতে নামছেন। পর্যাপ্ত নজরদারির অভাবে পরিস্থিতি আরও নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে উঠছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

 

পর্যটকদের অভিযোগ, সচেতনতা বাড়াতে মাইকিংয়ের কথা থাকলেও ট্যুরিস্ট পুলিশের তৎপরতা যথেষ্ট নয়। মোটরসাইকেলের অবাধ চলাচলে একদিকে কুয়াকাটার প্রাকৃতিক পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, অন্যদিকে পর্যটকদের নিরাপত্তাও হুমকির মুখে পড়ছে।

 

ঢাকা থেকে আসা পর্যটক সারওয়ার ও সীমা দম্পতি সাগরকন্যাকে বলেন, ‘পরিবার নিয়ে বেড়াতে এসে বাচ্চাদের নিয়ে নিরাপদে হাঁটতে পারছি না, সবসময় ভয় কাজ করছে।’ খুলনা থেকে আগত মো. ব্যবসায়ী জসিম বলেন, ‘সৈকতে মোটরসাইকেলের দৌরাত্ম্যে স্বাভাবিকভাবে সময় কাটানো যাচ্ছে না, দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।’

 

এক মোটরসাইকেল চালক রহমান সাব্বির বলেন, ‘সবাই চালাচ্ছে, তাই আমরাও চালাই, আমাদের তো কেউ নিষেধ করেনি।’

 

স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘আমরা কুয়াকাটাবাসী’র সভাপতি হাফিজুর রহমান আকাশ জানান, এভাবে মোটরসাইকেল চলাচল অব্যাহত থাকলে কুয়াকাটা তার আকর্ষণ হারাবে। তিনি বলেন, পর্যটকদের নিরাপত্তা ও পরিবেশ রক্ষায় নির্দিষ্ট এলাকার বাইরে যান্ত্রিক যান চলাচল বন্ধ করা জরুরি। প্রয়োজনে নির্ধারিত মোটরসাইকেল জোন চালু করা যেতে পারে। অতীতে সৈকতে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় শিশু মৃত্যুসহ একাধিক হতাহতের ঘটনাও ঘটেছে।

 

কুয়াকাটা ট্যুরিস্ট পুলিশ রিজিয়নের পরিদর্শক তাপস চন্দ্র রায় সাগরকন্যাকে বলেন, ‘আমরা মাইকিং করছি, তবে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। বিষয়টি নিয়ে বীচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির সঙ্গে সমন্বয় করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

 

কুয়াকাটা বীচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির সদস্য সচিব ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কাউছার হামিদ বলেন, ‘মাঝেমধ্যে অভিযান চালানো হয়, কিন্তু অভিযান শেষ হলেই আবার মোটরসাইকেল চলাচল শুরু হয়। এটি বন্ধে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।’

 

স্থানীয়দের দাবি, নামমাত্র অভিযান নয়- স্থায়ীভাবে সৈকতে মোটরসাইকেল প্রবেশ নিষিদ্ধ করতে কঠোর আইনি পদক্ষেপ জরুরি। অন্যথায় কুয়াকাটার পর্যটন পরিবেশ ও নিরাপত্তা আরও ঝুঁকির মুখে পড়বে।

বাংলাদেশ সময়: ১৪:৪৪:২৯ ● ১৯ বার পঠিত




পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

আর্কাইভ