
সাগরকন্যা প্রতিবেদক, পটুয়াখালী
শীতের আমেজ শেষ হতেই পটুয়াখালী জেলাজুড়ে মশার উপদ্রব ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গে মশার আক্রমণ শুরু হয়ে গভীর রাত পর্যন্ত অব্যাহত থাকছে। শহর থেকে গ্রাম- সর্বত্র মশার অত্যাচারে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে জেলা শহরের পৌর এলাকাগুলোতে পরিস্থিতি দিন দিন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে।
গলাচিপা শহরের বাসিন্দারা জানান, কয়েক সপ্তাহ ধরে মশার প্রকোপ এতটাই বেড়েছে যে সন্ধ্যার পর ঘরে থাকা দায় হয়ে পড়ছে। শিশু ও বয়স্করা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন। মশার কামড়ে অতিষ্ঠ হয়ে স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসাগামী শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায়ও মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটছে। অনেক অভিভাবক জানান, পড়ার টেবিলে বসেও মশার যন্ত্রণায় শিক্ষার্থীরা মনোযোগ ধরে রাখতে পারছে না।
মশার উপদ্রব থেকে রেহাই পাচ্ছে না জেলার হাসপাতালগুলোও। বেসরকারি কিছু ক্লিনিকে নিজস্ব উদ্যোগে মশা নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা থাকলেও সরকারি হাসপাতালগুলোর চিত্র ভিন্ন। রোগীদের অভিযোগ, মশার কারণে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শারীরিক অস্বস্তি আরও বাড়ছে। অনেকেই সরকারি পর্যায়ে কার্যকর মশক নিধন কার্যক্রমের অভাবকে দায়ী করছেন।
এদিকে মশা থেকে বাঁচতে বাজারে কয়েল, অ্যারোসল স্প্রে ও ইলেকট্রিক ব্যাটের চাহিদা কয়েক গুণ বেড়েছে। তবে নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতির বাজারে নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য উন্নতমানের মশা প্রতিরোধী পণ্য কেনা কঠিন হয়ে পড়েছে। বাজারে কম দামের নিম্নমানের কয়েল ব্যবহারে কাঙ্ক্ষিত ফল মিলছে না বলে অভিযোগ রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে এসব কয়েলের ধোঁয়ায় শ্বাসকষ্টসহ নানা শারীরিক সমস্যাও দেখা দিচ্ছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অপরিকল্পিত পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা, নিয়মিত ড্রেন পরিষ্কার না করা এবং বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা নোংরা পানি মশার প্রজননকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। সামনে বর্ষা মৌসুম ঘনিয়ে আসায় এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়া ও চিকুনগুনিয়ার মতো রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
পটুয়াখালীর সচেতন মহলের দাবি, দ্রুত সমন্বিতভাবে মশক নিধন কার্যক্রম জোরদার করতে হবে। নিয়মিত ফগিং, ড্রেনেজ ব্যবস্থার সংস্কার এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে স্থানীয় প্রশাসনের জরুরি উদ্যোগ প্রয়োজন বলে তারা মনে করছেন। অন্যথায় পটুয়াখালীবাসীকে বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকির মুখোমুখি হতে হতে পারে।