হাতকড়া অবস্থায় বিষখালী নদীতে ঝাঁপ, তিন দিনেও নিখোঁজ জেলে

হোম পেজ » লিড নিউজ » হাতকড়া অবস্থায় বিষখালী নদীতে ঝাঁপ, তিন দিনেও নিখোঁজ জেলে
শনিবার ● ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬


 

হাতকড়া অবস্থায় বিষখালী নদীতে ঝাঁপ, তিন দিনেও নিখোঁজ জেলে

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, বরগুনা

বরগুনা পাথরঘাটায় কোস্টগার্ডের অভিযানে আটক হওয়ার পর হাতকড়া অবস্থায় বিষখালী নদীতে ঝাঁপ দিয়ে এক জেলে নিখোঁজ হয়েছেন। তিন দিনেও তার সন্ধান মেলেনি। নিখোঁজের ঘটনায় পরিবারে চলছে কান্নার রোল।

বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে সাতটার দিকে উপজেলার চরদুয়ানী ইউনিয়নের জানপাড়া গ্রামের বান্দাঘাটা খাল সংলগ্ন বলেশ্বর নদীর জ্ঞানপাড়া বান্দাঘাটা এলাকা থেকে অবৈধ ট্রলিং ট্রলার ও বিপুল পরিমাণ মাছসহ এফবি আব্দুল্লাহ ট্রলারের মাঝি মাসুদ খলিফা (৪০) ও ট্রলারের মিস্ত্রি মো. মুনসুর মিয়াকে আটক করে কোস্টগার্ড। তাদের বাড়ি চরদুয়ানী ইউনিয়নে।

জানা গেছে, আটক ট্রলার ও দুই জেলেকে পাথরঘাটা কোস্টগার্ড স্টেশনে নেওয়ার পথে ওই দিন রাত আনুমানিক ১২টার দিকে হাতকড়া পরা অবস্থায় মাসুদ মাঝি বিষখালী নদীতে ঝাঁপ দেন। এরপর থেকে তিনি নিখোঁজ রয়েছেন। ঘটনা জানার পর ট্রলার মালিক মো. লিটন কোস্টগার্ডের নতুন বাজার বোর্ডপুলে গেলে তাকেও আটক করা হয়।

বরগুনা জেলা মৎস্যজীবী ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী বলেন, বৃহস্পতিবার রাতে মাছ ও ট্রলারসহ মাঝি মাসুদ খলিফা ও মিস্ত্রি মুনসুরকে আটক করে কোস্টগার্ড সদস্যরা। পরে ক্যাম্পে নেওয়ার পথে বিষখালী নদীতে হাতকড়াসহ মাসুদ খলিফা নদীতে লাফিয়ে পড়েন। এখন পর্যন্ত তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

নিখোঁজ মাঝি মাসুদ খলিফার স্ত্রী নুপুর বেগম জানান, বৃহস্পতিবার গভীর রাতে কোস্টগার্ডের ৩ থেকে ৪ জন সদস্য তাদের বাসায় এসে তল্লাশি চালায় এবং নুপুর বেগমের বক্তব্য ভিডিও ধারণ করেন। এ সময় তার স্বামী হাতকড়া নিয়ে বাসায় এসে থাকলে হাতকড়া জমা দিতে বলেন। পরে তারা চলে যায়। তার স্বামী বেঁচে আছেন কি না, তা তিনি জানেন না বলেও জানান।

ওই ট্রলারের অপর জেলে ইয়াছিন মিয়া বলেন, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে সাতটার দিকে কোস্টগার্ড সদস্যরা ট্রলারের কাছে এসে মাঝি ও মিস্ত্রিকে আটক করে। মাসুদ মাঝির দুই হাত পিছমোড়া করে বেঁধে ট্রলারে উঠিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে শোনা যায়, কোস্টগার্ডের ভয়ে তিনি ট্রলার থেকে লাফিয়ে পড়েন। পিছমোড়া করে বাঁধা অবস্থায় নদীতে ঝাঁপ দেওয়ায় পরিবারের সদস্যরা তার প্রাণহানির আশঙ্কা করছেন।

কোস্টগার্ড স্টেশনের বোর্ডপুলে গিয়ে স্টেশন কমান্ডার কাওছারের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি অফিসিয়াল আনুষ্ঠানিকতা শেষে বক্তব্য দেওয়া হবে বলে গণমাধ্যমকর্মীদের জানান।

এদিকে আটক ট্রলার থেকে জব্দ করা প্রায় ২০ মন মাছ কোস্টগার্ড ও মৎস্য বিভাগের সমন্বয়ে দরিদ্রদের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে।

পাথরঘাটার সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা হাসিবুল হক জানান, কোস্টগার্ডের অভিযানে মাছ, ট্রলার ও দুই জেলেকে আটক করা হয়। মাসুদ খলিফা নামের একজন নদীতে ঝাঁপ দিয়েছেন- এমন খবর পাওয়া গেছে। আটক ট্রলার ও জেলেদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পাথরঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মংচেনলা জানান, নিখোঁজের ঘটনায় পরিবার থেকে এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ করা হয়নি।

বাংলাদেশ সময়: ১৫:১৪:৫৭ ● ৩৬ বার পঠিত




পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

আর্কাইভ