বরগুনায় অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূকে ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে তলপেটে লাথি, গর্ভপাত

হোম » বরগুনা » বরগুনায় অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূকে ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে তলপেটে লাথি, গর্ভপাত
রবিবার ● ৪ জানুয়ারী ২০২৬


 

প্রতীকী ছবি

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, বরগুনা

বরগুনায় তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা এক গৃহবধূকে ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে তলপেটে লাথি মেরে গর্ভপাত ঘটানোর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী গৃহবধূ চিকিৎসা শেষে রবিবার বরগুনার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে হাজির হয়ে চারজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেছেন। ট্রাইব্যুনালের বিচারক জেলা ও দায়রা জজ মো. ওচমান গনি মামলাটি গ্রহণ করে পাথরঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে এজাহারভুক্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন।

মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে বরগুনা জেলার পাথরঘাটা উপজেলার মো. দুলাল হাওলাদারের ছেলে মো. রিপন (২৭)। অপর আসামিরা হলেন একই এলাকার তুহিন, ইউনুস ও নয়া মিয়া। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউট রনজুয়ারা সিপু।

মামলার এজাহার ও ভুক্তভোগীর অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্তরা সবাই একই গ্রামের বাসিন্দা। গৃহবধূর স্বামী কৃষিকাজের জন্য সকাল-সন্ধ্যা মাঠে কাজ করেন। নিকটতম প্রতিবেশী হওয়ার সুযোগে রিপন ওই ১৯ বছর বয়সী গৃহবধূকে কুপ্রস্তাব দিলে তিনি তা প্রত্যাখ্যান করে স্বামীকে জানান। পরে স্বামী রিপনকে তাদের বাড়িতে আসতে নিষেধ করেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে রিপন প্রতিশোধপরায়ণ হয়ে ওঠে এবং সহযোগীদের সঙ্গে মিলে গৃহবধূকে ধর্ষণের পরিকল্পনা করে।

গত মাসের ১৫ তারিখ সকালে গৃহবধূর স্বামী প্রতিদিনের মতো ট্রাক্টর নিয়ে মাঠে গেলে রিপন সহযোগীদের নিয়ে গৃহবধূর বাড়িতে যায়। সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে রিপন ধারালো চাকু হাতে ঘরে ঢুকে গৃহবধূকে জাপটে ধরে ধর্ষণের চেষ্টা করে। বাধা দিলে চাকু দিয়ে হত্যা করার হুমকি দেয় এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে কামড় দিয়ে রক্তাক্ত জখম করে। গৃহবধূর চিৎকারে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এলে রিপনের সহযোগীরা ঘরে ঢুকে তাকে মারধর শুরু করে। পালিয়ে যাওয়ার সময় রিপন গৃহবধূর তলপেটে জোরে লাথি মারলে গুরুতর আঘাত পান তিনি।

ভুক্তভোগী গৃহবধূ আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে বলেন, তিনি বারবার নিজেকে অন্তঃসত্ত্বা উল্লেখ করে মারধর না করার অনুরোধ জানান। কিন্তু রিপন উত্তেজিত হয়ে তলপেটে লাথি মারলে সঙ্গে সঙ্গে রক্তক্ষরণ শুরু হয়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১৭ ডিসেম্বর বিকেলে তার তিন মাসের গর্ভের সন্তান নষ্ট হয়ে যায়। তিনি বরগুনা সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে আদালতে মামলা করেন।

এ বিষয়ে আসামি রিপনের বক্তব্য জানতে তার মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোন বন্ধ থাকায় মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

বাংলাদেশ সময়: ১৭:১৩:০৫ ● ৩১৪ বার পঠিত




পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

আর্কাইভ