
সাগরকন্যা প্রতিবেদক, ভোলা
আমীরে হিযবুল্লাহ ছারছীনা শরীফের পীর ছাহেব আলহাজ্ব হযরত মাওলানা শাহ্ আবু নছর নেছারুদ্দীন আহমদ হুসাইন (মা.জি.আ.) বলেছেন, আম্বিয়ায়ে কেরাম তথা নবী-রাসূলগণ (আ.) ব্যতীত সমগ্র মানবজাতি কমবেশি গুনাহগার। তবে গুনাহ থেকে পরিত্রাণের একমাত্র পথ হলো মহান আল্লাহর দরবারে আন্তরিক অনুশোচনা ও মাগফিরাত কামনা করা। গুনাহের কাজের উপলব্ধি আসা মাত্রই নিজেকে তা থেকে ফিরিয়ে নেওয়া এবং ভবিষ্যতে সে গুনাহে আর লিপ্ত না হওয়ার দৃঢ় সংকল্পই হলো তাওবা। প্রতিটি মুমিনের জন্য একনিষ্ঠভাবে তাওবা করা অপরিহার্য কর্তব্য।
তিনি বলেন, বান্দা যখন নিজের কৃত গুনাহের জন্য আল্লাহর কাছে লজ্জিত হয় ও অনুশোচনা করে, তখন আল্লাহ তায়ালা তাঁর অসীম রহমতে তাকে ক্ষমা করার এখতিয়ার রাখেন। খালেস অন্তরে করা তাওবার মাধ্যমে মহান আল্লাহ বান্দার অতীত গুনাহসমূহ নেকিতে রূপান্তরিত করে দেন। পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি তাওবা না করে অথবা মৌখিকভাবে তাওবা করেও বারবার গুনাহে লিপ্ত থাকে এবং তা অভ্যাসে পরিণত করে, এমন ব্যক্তির তাওবা কবুল হয় না; ফলে সে তাওবাবিহীন অবস্থায় মৃত্যুর মুখে পতিত হওয়ার আশঙ্কায় থাকে।
পীর ছাহেব আরও উল্লেখ করেন, রাসূলুল্লাহ (সা.)সহ সকল নবী-রাসূলগণ মাসুম তথা নিষ্পাপ হওয়া সত্ত্বেও প্রিয় নবী (সা.) দৈনিক সত্তরের অধিকবার তাওবা করতেন এবং সাহাবায়ে কেরাম ও উম্মতদের তাওবার প্রতি উৎসাহিত করতেন।
শনিবার (৩ জানুয়ারি) রাতে ভোলা জেলা শহরের বাংলা স্কুল মাঠ প্রাঙ্গণে বাংলাদেশ জমইয়াতে হিযবুল্লাহ ভোলা জেলা শাখার আয়োজনে অনুষ্ঠিত ঈছালে ছাওয়াব মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মাহফিলে আরও গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করেন বাংলাদেশ জমইয়াতে হিযবুল্লাহর নায়েবে আমীর আলহাজ্ব হযরত মাওলানা মির্জা নূরুর রহমান বেগ, সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা মো. হেমায়েত বিন তৈয়্যেব এবং পীর ছাহেব কেবলার সফরসঙ্গী মাওলানা মো. মোহেব্বুল্লাহ আল মাহমুদ। শেষে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করা হয়।