
সাগরকন্যা প্রতিবেদক, কুয়াকাটা (পটুয়াখালী)
পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে জেলেদের জালে ধরা পড়েছে বিরল প্রজাতির দুইটি পাখি মাছ (সেইল ফিশ)। রবিবার (৪ জানুয়ারি) সকালে মাছ দু’টি মহিপুর মৎস্য বন্দরে বিক্রির জন্য আনা হলে এক নজর দেখতে ভিড় করেন উৎসুক লোকজন। মাছ দু’টির মোট ওজন প্রায় ১৬০ কেজি (৪ মণ)।
মৎস্য আড়তদার ও স্থানীয় জেলেদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বিশাল আকৃতির পৃষ্ঠীয় পাখনার কারণে মাছটি স্থানীয়ভাবে ‘পাখি মাছ’ বা ‘গোলপাতা’ নামে পরিচিত। গভীর সমুদ্রে জাল ফেললে অন্যান্য মাছের সঙ্গে এগুলো মাঝেমধ্যে ধরা পড়ে।
মহিপুরের মৎস্য ব্যবসায়ী মোস্তাফিজ বলেন, উপকূলীয় এলাকায় পাখি মাছের তেমন চাহিদা না থাকায় প্রত্যাশিত দাম পাওয়া যায় না। পরে খোলা বাজারে উন্মুক্ত নিলামে মাছ দু’টি মোট ২৫ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে।
মাছ দুটি প্রতি কেজি ১৫৬ টাকা দরে কিনে নেন টিপু ফিসের মালিক টিপু। তিনি জানান, বাড়তি দামে বিক্রির আশায় মাছগুলো ঢাকায় পাঠানো হবে।
মাছ দুটি শিকার করে ঘাটে ফেরা জেলে কামাল মাঝি বলেন, জাল টানার সময় অন্য মাছের সঙ্গে এই দুইটি পাখি মাছ উঠেছে। চাহিদা কম থাকায় তুলনামূলক কম দাম পেয়েছি।
ক্রেতারা জানান, পাখি মাছ সচরাচর পাওয়া যায় না এবং এটি বিদেশেও রপ্তানি হয়। দেশের নামিদামি রেস্টুরেন্টগুলোতে এ মাছের ভালো চাহিদা রয়েছে। মাছগুলো কেটে প্রসেসিং করে ঢাকায় পাঠানো হবে।
এ বিষয়ে প্রাকৃতিক ও জীববৈচিত্র্য নিয়ে গবেষণার কাজে নিয়োজিত বেসরকারি সংস্থা ইকোফিশ-বাংলাদেশের গবেষণা সহকারী বখতিয়ার রহমান বলেন, সেইল ফিশ মহাসাগরের দ্রুততম মাছগুলোর একটি। এটি ঘণ্টায় প্রায় ১১০ থেকে ১৩০ কিলোমিটার বেগে চলতে পারে। নৌকার পালের মতো বড় পৃষ্ঠীয় পাখনার কারণে একে ‘সেইল ফিশ’ বলা হয়। শিকারের সময় রং পরিবর্তনের সক্ষমতাও রয়েছে এ মাছের।
কলাপাড়া উপজেলার সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন, পাখি মাছ মূলত গভীর সমুদ্রের মাছ। বৈজ্ঞানিকভাবে একে সেইল ফিশ বলা হয়। এ অঞ্চলের জেলেরা একে পাখি মাছ নামে চেনে। মাছটি অত্যন্ত সুস্বাদু ও পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ, যা মানবদেহের জন্য উপকারী।