
সাগরকন্যা প্রতিবেদক, আমতলী (বরগুনা)
বরগুনার আমতলী উপজেলায় তরমুজ ক্ষেতে আগাছা দমননাশক প্রয়োগ করে চার হাজার তরমুজ চারা ধ্বংস করে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। বুধবার গভীর রাতে এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী তরমুজ চাষি রিয়াজ প্যাদা জানান, তিনি দীর্ঘদিন ধরে তরমুজ চাষ করে আসছেন। চলতি মৌসুমে তিনি আমতলী উপজেলার গুলিশাখালী ইউনিয়নের ডালাচারা গ্রামের মফিজ ফকিরের কাছ থেকে তিন একর জমি এক বছরের জন্য ৪০ হাজার টাকায় বন্দোবস্ত নিয়ে তরমুজ চাষ শুরু করেন। ওই জমিতে প্রায় চার হাজার তরমুজ চারা রোপণ করা হয়।
রিয়াজ প্যাদার অভিযোগ, জমি প্রস্তুতকালীন সময়ে একই গ্রামের নজরুল ইসলাম মুন্সি তার চাষাবাদে বাধা দেন। এ ঘটনায় তিনি থানায় অভিযোগ করলে পুলিশ এসে তাকে জমিতে তরমুজ চাষ করার নির্দেশ দেয়। পুলিশের নির্দেশনার পর তিনি চারা রোপণ করেন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, বুধবার গভীর রাতে দুর্বৃত্তরা তার তরমুজ ক্ষেতে আগাছা দমননাশক প্রয়োগ করে সব চারা নষ্ট করে দেয়। বৃহস্পতিবার সকালে ক্ষেতে গিয়ে চারাগুলো ঢলে পড়তে দেখে তার সন্দেহ হয়। পরে স্থানীয় লোকজন ও উপজেলা কৃষি বিভাগের কর্মকর্তাদের খবর দিলে তারা তরমুজ ক্ষেতে আগাছা দমননাশক প্রয়োগ করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেন।
রিয়াজ প্যাদা বলেন, চার হাজার তরমুজ চারা নষ্ট হওয়ায় আমার অন্তত দুই লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। আমি এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।
এ বিষয়ে অভিযোগ অস্বীকার করে নজরুল ইসলাম মুন্সি বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। উল্টো প্রশ্ন করে তিনি বলেন, আমি কেন তার তরমুজ ক্ষেতে আগাছানাশক দেব?
আমতলী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. রাসেল বলেন, তরমুজ ক্ষেতে আগাছানাশক প্রয়োগ করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষককে কীভাবে ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া যায়, সে বিষয়ে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জাহাঙ্গির হোসেন বলেন, এ বিষয়ে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।