
উত্তম গোলদার, মির্জাগঞ্জ (পটুয়াখালী) থেকে
পেশায় ছিলেন দিনমজুর। পরবর্তীতে গাছকাটা শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন মির্জাগঞ্জ উপজেলার উত্তর আমড়াগাছিয়া গ্রামের আইয়ুব আলী (৬৮)। বারো বছর আগে গাছ কাটতে গিয়ে মগডাল থেকে পড়ে মেরুদণ্ড ভেঙে যায় তাঁর। এতে ঘাড়ের রগ ছিঁড়ে গিয়ে তিনি শয্যাশায়ী হয়ে পড়েন। চিকিৎসার জন্য সহায়-সম্বল বিক্রি করে ও ভিক্ষাবৃত্তি করে প্রায় চার লাখ টাকা খরচ করেন তিনি।
এরপর আশ্রয় হয় সরকারি আশ্রয়ন প্রকল্পের একটি ঘরে। অসুস্থতার কারণে লাঠিতে ভর করে ভিক্ষাবৃত্তিই হয়ে ওঠে তাঁর একমাত্র জীবিকা। প্রতিদিন সুবিদখালী বাজারে ভিক্ষা করেই চলে তাঁর জীবন।
আইয়ুব আলী জানান, ভিক্ষাবৃত্তি করে সংসার চলে না। স্ত্রী মারা গেছেন অনেক আগে। একমাত্র মেয়ে সাবানা আক্তার (১৭) বাকপ্রতিবন্ধী। তিনি বলেন, সরকার থেকে বয়স্কভাতা পেলেও মেয়ের জন্য কোনো ভাতা নেই। কারণ ভাতা নিতে হলে টাকা লাগে, যা তাঁর পক্ষে সম্ভব নয়।
কষ্টের কথা বলতে বলতে আবেগে কেঁদে ফেলেন তিনি। বলেন, ১২ বছর ধরে মানুষের দয়ায় জীবন কাটাচ্ছি। এখন আর ভিক্ষা করতে চাই না। নিজের চেষ্টায় স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে চাই। সল্প পুঁজিতে সুবিদখালী বাজারে একটি ছোট সবজির দোকান দিতে চান তিনি।
আইয়ুব আলী বলেন, কিছু টাকা জোগাড় করতে পারলে বাজারে এক দোকানদারের পাশে বসে সবজি বিক্রি শুরু করতে পারবো। বাজারের ইজারাদারও খাজনা না নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। কিন্তু পুঁজির অভাবে ব্যবসা শুরু করতে পারছি না। কিছু সহযোগিতা পেলে ভিক্ষা ছেড়ে সম্মানের সঙ্গে বাঁচতে পারবো।
সাহায্য পাঠানো যাবে নগদ নম্বরে- ০১৩০৩১৩৮৩৪০।
মির্জাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, আইয়ুব আলী ভিক্ষাবৃত্তি ছেড়ে ব্যবসা করতে চায়, এটি সত্যিই প্রশংসনীয়। তিনি যদি স্থায়ী আয়ের উদ্যোগ নেন, উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহায়তা দেওয়া হবে। এমন ইচ্ছাশক্তি অন্যদের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়লে ভিক্ষাবৃত্তি কমে আসবে।