কলাপাড়ায় বেপরোয়া ভূমিদস্যুরা, রাখাইনদের জড়িতের অভিযোগ

হোম পেজ » পটুয়াখালী » কলাপাড়ায় বেপরোয়া ভূমিদস্যুরা, রাখাইনদের জড়িতের অভিযোগ
শনিবার ● ৩০ আগস্ট ২০২৫


---

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, কলাপাড়া (পটুয়াখালী)

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় পায়রা সমুদ্রবন্দর, তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং কুয়াকাটার উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডকে ঘিরে এ উপজেলার গুরুত্ব দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।

বৃদ্ধি পাচ্ছে দেশী-বিদেশী বিনিয়োগ। এতে জমির দামও বৃদ্ধি পাচ্ছে কয়েকগুন। এসব কর্মকান্ডকে ঘিরে মানুষের মধ্যে আশার সঞ্চার হলেও ভূমিদস্যুতা চরমভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় সে আশায় নৈরাশ্য ঘটেছে এলাকার মানুষের। ভূমিদস্যুরা এখন বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।

ভূমিদস্যুদের রোসানলে পড়ে থমকে গেছে এলাকার শত শত মানুষ ও বিনিয়োগকারীদের উন্নয়ন কর্মকান্ড। এ ভূমিদস্যুদের অধিকাংশই কোন না কোন রাজনৈতিক দলের ছত্র ছায়ায় থেকে অনৈতিক এ কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছে।

ভূমিদস্যু চক্র’র সাথে জড়িত রয়েছে রাখাইন সম্প্রদায়ের কতিপয় টাউট বাটপাররাও। এরা তাদের পূর্বপুরুষদের বিক্রিত জমিতে পুনরায় মালিকানা দাবী করে ভূমিদস্যুদের পাওয়ার দিচ্ছে। অথবা মামলা করে কক্সবাজার,টেকনাফ, উখিয়া কিংবা অন্য এলাকা থেকে রাখাইন সম্প্রদায়ের কাউকে ওয়ারিস সাজিয়ে আদালতে মামলা করানো হচ্ছে।
বিশেষ করে ১৯৬২/১৯৬৩ সনের বালাম বই ১৯৬৫,১৯৭০ সনের বন্যায় নষ্ট হয়ে যাওয়ায়। এ সুযোগও নিচ্ছে ভূমিদস্যু টাউট বাটপাররা।

এসব ভূমিদস্যুরা অবৈধ এ উপার্জন করে এখন রয়েছেন ধনাঢ্যদের তালিকায়। হয়ে গেছে আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ। এলাকায় জনশ্রুতি রয়েছে, এসব অবৈধ উপার্জন দীর্ঘ ২০/২৫ বছর ধরে চলে আসছে।
এরা এক সময় সরকারি অধিগ্রহনের জমিতে মামলা টুকে, জমিতে খুটা গেঁড়ে জমির মালিকদের চাঁপ প্রয়োগ করে সমঝোতার ভিত্তিতে মোটা অংকের টাকা নিয়ে যেতেন। ওই ভূমিদস্যুরা এখন ধরন পরিবর্তন করেছে মাত্র।

ভূমি দস্যুতার প্রভাব দিন দিন বৃদ্ধি পাওয়ায় নিরুপায় হয়ে পড়েছে সাধারন মানুষ। এদের প্রতিরোধে কারোর কোন ভূমিকা নেই।বিশেষ করে কোন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ ও প্রশাসনের কাছ থেকেও এমন কোন আশার বানী শোনা যাচ্ছে না।

রাখাইন দামো মাতুব্বর বলেন, তবে রাখাইন সম্প্রদায়ের ভুয়া ওয়ারিশ সাজানোর এমন ঘটনাও আছে,তবে তা পরিহার করা উচিৎ।

টিয়াখালী ইউনিয়নের বাসিন্দা সলিমুল্লাহ তালুকদার বলেন, জমিতে খুটা দেয়া কিংবা জমির পাওয়ার নিজেদের অনুকূলে নিয়ে মামলা করা একটা ভালো ব্যবসায় পরিনত হয়েছে। এতে ভূমির মালিকরা ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে পড়েছে। এ ভূমিদস্যুতার সাথে জনপ্রতিনিধিদের কেউ কেউ জড়িত রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

নাগরিক ঐক্য কলাপাড়ার আহবায়ক কমরেড নাসির তালুকদার বলেন, ভূমিদস্যুরা বিভিন্ন সময় সংশ্লিষ্ট অফিস থেকে বালাম বই ছিঁড়ে ফেলার ঘটনাও ঘটিয়েছে। এদের প্রতিহত করতে প্রশাসনের জরুরী ব্যবস্থা নেয়া দরকার বলে তিনি উল্লেখ করেন।

কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা(ভারপ্রাপ্ত) সহকারী কমিশনার(ভূমি) মো. ইয়াসীন সাদেক বলেন, সকল ওয়ারীশ সনদ ইউপি চেয়ারম্যানগন সঠিকভাবে খোঁজখবর নিয়ে দেয়া উচিত।নামজারির সময় অত্র এলাকার তহসিলদার সরেজমিনে গিয়ে তদন্ত প্রতিবেদন ও রাখাইনদের ক্ষেত্রে আদালত কতৃক সনদ সংযুক্ত করা হলে এ ভূমিদস্যুতার হাত থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে।

এমবি/এমআর

বাংলাদেশ সময়: ১৯:৪৪:৪৪ ● ১৭০ বার পঠিত




পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

আর্কাইভ