
সাগরকন্যা প্রতিবেদক, আমতলী (বরগুনা)
আমতলী উপজেলার চুনাখালী বাজার স্লুইজগেট সংলগ্ন বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের দুই পাশের মেহগনি, রেইন্টি ও চাম্বলসহ লাখ টাকার গাছ কেটে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে পটুয়াখালী গৃহায়ণ ও গণপূর্ত অধিদপ্তরের উচ্চমান সহকারী মো. রুবেল আহমেদের বিরুদ্ধে। স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, প্রভাব খাটিয়ে তিনি এসব গাছ বিক্রি করেছেন। দ্রুত তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৬৮ সালে বরগুনা পানি উন্নয়ন বোর্ড আমতলী উপজেলার চুনাখালী এলাকায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণ করে। বাঁধের দুই পাশে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ রোপণ করা হয়। কিন্তু সম্প্রতি ওই বাঁধের শতাধিক গাছ রুবেল আহমেদ স্থানীয় ব্যবসায়ী জলিল বেপারীর কাছে এক লাখ টাকায় বিক্রি করেন। শনিবার থেকে গাছ কাটা শুরু হয় এবং সোমবার রাতে ট্রাকে করে বিপুল পরিমাণ গাছ সরিয়ে নেওয়া হয়।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, গাছ কাটার বিষয়টি পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জানালেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তারা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, এভাবে চলতে থাকলে বাঁধ সংলগ্ন অন্তত ৫ কিলোমিটার এলাকার গাছ কেটে নেওয়া হবে। তাই রুবেল আহমেদসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
ব্যবসায়ী জলিল বেপারী বলেন, রুবেল আহমেদ তার কাছে এক লাখ টাকায় গাছ বিক্রি করেছেন। তিনি ইতিমধ্যে কিছু গাছ কলাপাড়ায় বিক্রি করেছেন। এখন পর্যন্ত ২০ হাজার টাকা পরিশোধ করা হয়েছে, বাকিটা গাছ বিক্রি করে দেওয়া হবে।
এদিকে অভিযুক্ত কর্মকর্তা মো. রুবেল আহমেদ স্বীকার করে বলেন, সরকারি জমির গাছ কেটে বিক্রি করা আমার ভুল হয়েছে। ১৬ হাজার টাকার গাছ বিক্রি করেছি। আর গাছ কাটা হবে না।
আমতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রোকনুজ্জামান খান বলেন, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে অবহিত করা হয়েছে। তারা এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেবে।
বরগুনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. হান্নান প্রধান বলেন, লোক পাঠানো হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বরগুনা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সফিউল আলম বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডকে অবিলম্বে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।