সাগরকন্যা ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক
ইসরাইলের নতুন সরকার গঠনের দৌড়ে বড় ধাক্কা খেয়েছেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। প্রেসিডেন্টের কাছে সংসদ সদস্যদের সমর্থন পাওয়ার ক্ষেত্রে তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ইয়াশার পার্টির নেতা গাদি আইজেনকট এগিয়ে গেছেন। আইজেনকটের পক্ষে ৬৭ জন সংসদ সদস্য সুপারিশ করলেও নেতানিয়াহুর পক্ষে রয়েছেন ৪৬ জন।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগের পরামর্শ বৈঠক শেষে এ তথ্য জানানো হয়। টাইমস অব ইসরাইলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নতুন সরকার গঠনের দায়িত্ব পাওয়ার ক্ষেত্রে আপাতত এগিয়ে রয়েছেন আইজেনকট। তবে প্রেসিডেন্ট এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি। আগামী রবিবার এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানানোর কথা রয়েছে।
এর আগে ধারণা করা হয়েছিল, নেতানিয়াহুর পক্ষে ৫৩ জন এবং আইজেনকটের পক্ষে ৫৬ জন সংসদ সদস্যের সুপারিশ থাকতে পারে। তবে নেতানিয়াহুর দীর্ঘদিনের মিত্র অতি-ধর্মীয় ইহুদিদের দল ইউনাইটেড তোরাহ জুদাইজম (ইউটিজে) তাঁর নাম সুপারিশ করতে অস্বীকৃতি জানায়। অন্যদিকে জয়েন্ট লিস্ট পার্টি আইজেনকটের পক্ষে অবস্থান নেয়। এতে দুই নেতার মধ্যে ব্যবধান বেড়ে যায়।
তবে ৬৭ জন সংসদ সদস্যের সুপারিশ পেলেই আইজেনকটের সরকার গঠন নিশ্চিত হচ্ছে না। ইসরাইলের ১২০ আসনের পার্লামেন্টে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ৬১ জনের সমর্থন। নির্বাচনে নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি এককভাবে ২৭টি আসন পেলেও তাঁর মিত্রদের নিয়ে গঠিত জোট পেয়েছে ৫৩টি আসন। অন্যদিকে নেতানিয়াহুবিরোধী ইহুদি দলগুলোর সম্মিলিত আসন ৪৮টি। আর আরব দলগুলো পেয়েছে ১৯টি আসন।
আইজেনকটের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে, আরব দলগুলোর সমর্থন পেলেও তাদের নিয়ে সরকার গঠনে রাজনৈতিক আপত্তি রয়েছে। জয়েন্ট লিস্ট ও রা’আম পার্টি তাঁর পক্ষে সুপারিশ করলেও তারা সরকারে সরাসরি অংশ নেবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। জয়েন্ট লিস্টের পক্ষ থেকে সরকারকে বাইরে থেকে সমর্থন দেওয়ার ইঙ্গিত রয়েছে।
এদিকে ডানপন্থী ইসরাইল বেইতেনু পার্টির নেতা আভিগদর লিবারম্যানের অবস্থানও সরকার গঠনের সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ। আরব দলগুলোর সমর্থননির্ভর জোট নিয়ে তাঁর আপত্তি রয়েছে। তবে ইউটিজের সঙ্গে জোট গঠনের সম্ভাবনা নিয়ে তিনি আগের অবস্থান থেকে নমনীয় হয়েছেন বলে ইসরাইলি সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে।
ইউটিজের সঙ্গে সমঝোতার ক্ষেত্রেও আইজেনকটকে কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে। দলটি অতি-ধর্মীয় ইহুদিদের বাধ্যতামূলক সামরিক নিয়োগ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার পক্ষে। কিন্তু আইজেনকটের সম্ভাব্য জোটের অধিকাংশ দল এর বিরোধী।
অন্যদিকে আরব দলগুলোর সমর্থন নিয়ে সরকার গঠনের চেষ্টা করলে নেতানিয়াহু ও তাঁর মিত্ররা সেটিকে রাজনৈতিক ইস্যুতে পরিণত করতে পারেন। নির্বাচনে আরব ভোট নিয়ে প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি আরব দলগুলোর সমর্থননির্ভর সরকারকে রাজনৈতিকভাবে চাপে ফেলার চেষ্টা করতে পারে লিকুদ পার্টি।
ইসরাইলের রাজনীতিতে জোট গঠন ও দর-কষাকষিতে নেতানিয়াহুর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে। বিপরীতে আইজেনকটের এ ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতা তুলনামূলক কম। ফলে সংসদ সদস্যদের সুপারিশ পাওয়ার ক্ষেত্রে এগিয়ে থাকলেও সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সমর্থন নিশ্চিত করতে তাঁকে কঠিন রাজনৈতিক সমীকরণ মোকাবিলা করতে হবে।
সব মিলিয়ে, সরকার গঠনের দায়িত্ব পাওয়ার দৌড়ে আইজেনকট এগিয়ে থাকলেও ইসরাইলের পরবর্তী সরকার কার নেতৃত্বে গঠিত হবে, তা নির্ধারণে প্রেসিডেন্টের সিদ্ধান্ত ও দলগুলোর মধ্যে জোট সমঝোতাই এখন গুরুত্বপূর্ণ।