বসে জুমার খুতবা দেওয়া যাবে কি, খুতবার সময় কথা বলার বিধান কী?

হোম » ইসলামী জীবন » বসে জুমার খুতবা দেওয়া যাবে কি, খুতবার সময় কথা বলার বিধান কী?
শুক্রবার ● ৬ নভেম্বর ২০২৬


বসে জুমার খুতবা দেওয়া যাবে কি, খুতবার সময় কথা বলার বিধান কী?সাগরকন্যা ইসলামী ডেস্ক

 

জুমার খুতবা দাঁড়িয়ে দেওয়া রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নত। তিনি নিয়মিত দাঁড়িয়ে খুতবা দিতেন এবং দুই খুতবার মাঝখানে কিছুক্ষণ বসতেন। তবে অসুস্থতা, শারীরিক দুর্বলতা বা বিশেষ কোনো গ্রহণযোগ্য ওজরের কারণে ইমাম দাঁড়িয়ে খুতবা দিতে না পারলে বসে খুতবা দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। অন্যদিকে, খুতবা চলাকালে কথা বলা থেকেও মুসল্লিদের বিরত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন রাসুলুল্লাহ (সা.)।

 

হজরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,

 

كَانَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ يَخْطُبُ يَوْمَ الْجُمُعَةِ قَائِمًا ثُمَّ يَجْلِسُ ثُمَّ يَقُومُ

 

অর্থ: ‘জুমার দিন রাসুলুল্লাহ (সা.) দাঁড়িয়ে খুতবা দিতেন। এরপর বসতেন, তারপর আবার দাঁড়িয়ে খুতবা দিতেন।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস ৮৬১)

 

এ হাদিস থেকে বোঝা যায়, দাঁড়িয়ে খুতবা দেওয়া রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর নিয়মিত আমল ছিল। তাই শারীরিকভাবে সক্ষম ইমামের জন্য দাঁড়িয়ে খুতবা দেওয়াই সুন্নত। তবে অসুস্থতা, শারীরিক দুর্বলতা কিংবা অন্য কোনো গ্রহণযোগ্য ওজরের কারণে দাঁড়িয়ে খুতবা দেওয়া সম্ভব না হলে বসে খুতবা দেওয়ার অবকাশ রয়েছে। হজরত ওসমান (রা.) ও হজরত মুআবিয়া (রা.)-এর শেষ বয়সে বসে খুতবা দেওয়ার কথাও বিভিন্ন বর্ণনায় উল্লেখ রয়েছে।

 

অতএব, গ্রহণযোগ্য ওজরে ইমাম বসে খুতবা দিলেও জুমার নামাজ শুদ্ধ হবে। তবে বিনা ওজরে বসে খুতবা দেওয়া রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর নিয়মিত সুন্নতের পরিপন্থি। ফকিহদের অনেকে বিনা ওজরে এমনটি করাকে মাকরুহ বলেছেন।

 

খুতবা চলাকালে কথা বলার বিধান

 

জুমার খুতবা মুসল্লিদের জন্য দ্বীনি শিক্ষা, নসিহত ও উপদেশের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। তাই এ সময় মনোযোগ দিয়ে খুতবা শোনা এবং অপ্রয়োজনীয় কথাবার্তা ও কাজ থেকে বিরত থাকা জরুরি।

 

হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন,

 

إِذَا قُلْتَ لِصَاحِبِكَ يَوْمَ الْجُمُعَةِ أَنْصِتْ وَالْإِمَامُ يَخْطُبُ فَقَدْ لَغَوْتَ

 

অর্থ: ‘জুমার দিন ইমাম যখন খুতবা দিচ্ছেন, তখন তুমি যদি তোমার সঙ্গীকে বলো, চুপ করো, তাহলেও তুমি অনর্থক কাজ করলে।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস ৯৩৪; সহিহ মুসলিম, হাদিস ৮৫১)

 

এই হাদিসে খুতবা চলাকালে কথাবার্তা বলার ব্যাপারে কঠোর সতর্কতা দেওয়া হয়েছে। এমনকি অন্যকে চুপ থাকতে বলার মতো কথাও অনর্থক কাজ হিসেবে গণ্য হয়েছে। তাই খুতবা শুরু হওয়ার আগেই মসজিদে উপস্থিত হওয়া, নীরব থাকা এবং ইমামের বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শোনা প্রত্যেক মুসল্লির কর্তব্য।

 

সুতরাং, সক্ষম ইমামের জন্য দাঁড়িয়ে খুতবা দেওয়া সুন্নত। গ্রহণযোগ্য ওজর থাকলে বসে খুতবা দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। অন্যদিকে, খুতবা চলাকালে মুসল্লিদের নীরব থেকে মনোযোগ দিয়ে তা শোনা উচিত। জুমার খুতবার সুন্নত ও আদব যথাযথভাবে অনুসরণ করা ইমাম ও মুসল্লি উভয়ের দায়িত্ব।

বাংলাদেশ সময়: ৯:২৪:১০ ● ২২ বার পঠিত




পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

আর্কাইভ