
আবদুল্লাহ জুয়েল, মনপুরা (ভোলা) থেকে
ভোলার মনপুরা সরকারি ডিগ্রি কলেজে ২০২৬ সালের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষার ফলাফলে চরম বিপর্যয় ঘটেছে। এ বছর কলেজটি থেকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ১৫৮ শিক্ষার্থীর মধ্যে অকৃতকার্য হয়েছে ১২৮ জন। পাস করেছে মাত্র ৩০ জন। পাসের হার ১৮ দশমিক ৯৯ শতাংশ। কলেজটি প্রতিষ্ঠার পর গত ২৫ বছরের মধ্যে এবারই সবচেয়ে খারাপ ফল হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
ফলাফল বিপর্যয়ের জন্য কলেজের অধ্যক্ষ ও শিক্ষকদের অনিয়মিত উপস্থিতি এবং নিয়মিত পাঠদান না হওয়াকে দায়ী করছেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা। তাঁদের অভিযোগ, অধ্যক্ষসহ অধিকাংশ শিক্ষক বহিরাগত হওয়ায় মাসের পর মাস কলেজে উপস্থিত থাকেন না। এতে নিয়মিত ক্লাস ব্যাহত হচ্ছে, যার প্রভাব পড়েছে পরীক্ষার ফলাফলে।
কলেজের বিভাগভিত্তিক ফলাফলে দেখা গেছে, বাণিজ্য বিভাগ থেকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া তিন শিক্ষার্থীর কেউই পাস করতে পারেনি। বিজ্ঞান বিভাগে ১৯ জনের মধ্যে অকৃতকার্য হয়েছে ১৪ জন, পাস করেছে পাঁচজন। মানবিক বিভাগে ১৩৬ জনের মধ্যে ১১১ জন ফেল করেছে, পাস করেছে ২৫ জন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে অকৃতকার্য শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা জানান, কলেজের অধিকাংশ শিক্ষক বহিরাগত হওয়ায় তাঁরা নিয়মিত উপস্থিত থাকেন না। নিয়মিত ক্লাসের পরিবর্তে অনেক শিক্ষক রোটেশন পদ্ধতিতে পাঠদান করেন। এইচএসসি ও ডিগ্রি শাখায় একই বিষয়ে একাধিক প্রভাষক থাকায় এক সপ্তাহ একজন এবং পরের সপ্তাহে অন্যজন ক্লাস নেন। এতে পাঠদানের ধারাবাহিকতা নষ্ট হচ্ছে। পাশাপাশি কলেজে কার্যকর প্রশাসনিক তদারকি ও জবাবদিহির অভাব রয়েছে।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ভাস্কর চন্দ্র নন্দী গত রমজান মাসে ছুটিতে বাড়িতে যাওয়ার পর কোরবানির ঈদের পর কলেজে ফেরেন। এ বছর এইচএসসি পরীক্ষা চলাকালেও তিনি কলেজে উপস্থিত ছিলেন না। তাঁর বিরুদ্ধে দায়িত্ব পালনে অবহেলার অভিযোগও করেছেন শিক্ষার্থীরা।
এ ছাড়া শরীরচর্চা শিক্ষক বাবু রসরাজসহ একাধিক প্রভাষকের বিরুদ্ধে মাসের শেষে কলেজে এসে বেতন উত্তোলন এবং এক দিন উপস্থিত হয়ে পুরো মাসের হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করে চলে যাওয়ার অভিযোগ করেছেন শিক্ষার্থীরা।
কলেজ সূত্রে জানা গেছে, মনপুরা সরকারি ডিগ্রি কলেজে প্রভাষক ও সহকারী অধ্যাপক মিলিয়ে ২৫ জন শিক্ষক কর্মরত রয়েছেন। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, তাঁদের মধ্যে ৯ জন কলেজে উপস্থিত থাকলেও বাকি ১৬ জন নিয়মিত থাকেন না এবং ক্লাসও নেন না।
অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের অভিভাবকেরা বলেন, নিয়মিত ক্লাস নিশ্চিত করা এবং শিক্ষকদের উপস্থিতির বিষয়ে কার্যকর নজরদারি থাকলে এমন ফল বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হতো। তাঁরা ফল বিপর্যয়ের প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান করে দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে ঢাকায় অবস্থান করা মনপুরা সরকারি ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ভাস্কর চন্দ্র নন্দী মুঠোফোনে বলেন, ‘ফলাফল বিপর্যয়ে আমরা বিস্মিত। শিক্ষকদের নিয়ে বসে এর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন করে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’
শিক্ষকদের নিয়মিত ক্লাস না করার অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রতিটি বিষয়ে দুজন করে শিক্ষক রয়েছেন। প্রতিদিন একজন শিক্ষক ক্লাস নেন।’