দেড় মাসেই ধসে যাচ্ছে পায়রা নদীর তীররক্ষা বাঁধ, ঝুঁকিতে ১৫ গ্রাম

হোম » বরগুনা » দেড় মাসেই ধসে যাচ্ছে পায়রা নদীর তীররক্ষা বাঁধ, ঝুঁকিতে ১৫ গ্রাম
বৃহস্পতিবার ● ৫ নভেম্বর ২০২৬


দেড় মাসেই ধসে যাচ্ছে পায়রা নদীর তীররক্ষা বাঁধ, ঝুঁকিতে ১৫ গ্রামসাগরকন্যা প্রতিবেদক, তালতলী (বরগুনা)

 

বরগুনার তালতলীতে পায়রা নদীর ভাঙন রোধে নির্মিত বালুভর্তি জিও ব্যাগ ও সংস্কার করা বন্যা নিয়ন্ত্রণ বেড়িবাঁধ দেড় মাসের মধ্যেই ধসে পড়তে শুরু করেছে। এতে নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের অন্তত ১৫টি গ্রামের মানুষ প্লাবিত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, নিম্নমানের কাজ ও অনিয়মের কারণে সরকারি অর্থ ব্যয়ে নির্মিত এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা টেকসই হয়নি।

 

স্থানীয়দের অভিযোগ, পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) কিছু অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলো বেড়িবাঁধের পাশের নদীর তীর থেকেই ভেকু দিয়ে মাটি কেটে বাঁধ নির্মাণ করেছে। এ ছাড়া জিও ব্যাগে নিয়ম অনুযায়ী পর্যাপ্ত বালু না ভরে নামমাত্র বালু ও মাটি দিয়ে ডাম্পিং করা হয়েছে। কাজ শুরুর সময়ই তাঁরা এসব অনিয়মের প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন। তবে কর্তৃপক্ষ তাতে কর্ণপাত করেনি।

 

পাউবো সূত্রে জানা গেছে, নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের তেঁতুলবাড়িয়া-নলবুনিয়া এলাকায় পাঁচটি প্যাকেজের আওতায় ৫৯০ মিটার বেড়িবাঁধ সংস্কার ও জিও ব্যাগ ফেলার কাজ করা হয়। ১ কোটি ৪৭ লাখ ৭৪ হাজার টাকা চুক্তিমূল্যের প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করে মেসার্স পপুলার কনস্ট্রাকশন, মেসার্স আরএস কনস্ট্রাকশন, মেসার্স সোহেল এন্টারপ্রাইজ ও মেসার্স মণি ট্রেডার্স। গত ২১ সেপ্টেম্বর প্রকল্পের কাজ শেষ হয়।

 

গত ১ নভেম্বর সরেজমিনে দেখা যায়, তেঁতুলবাড়িয়া-নলবুনিয়া এলাকায় নদীভাঙন রোধে ফেলা জিও ব্যাগের প্রায় ৩০০ মিটার অংশ নদীগর্ভে ধসে যেতে শুরু করেছে। একই সঙ্গে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বেড়িবাঁধের প্রায় ২০০ মিটার অংশে দেখা দিয়েছে বড় ধরনের ফাটল।

 

স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত সংস্কার করা না হলে যেকোনো মুহূর্তে বাঁধ ভেঙে নদীর পানি লোকালয়ে ঢুকে পড়তে পারে। এতে তেঁতুলবাড়িয়া, বড় অঙ্কুজান, নলবুনিয়া ও আগাপাড়াসহ নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের ১৫টি গ্রাম প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে ঘরবাড়ি, ফসলি জমি, আমন ধান ও মাছের ঘের।

 

স্থানীয় বাসিন্দা মো. বাবুল হাওলাদার, মো. হাসান মিয়া ও মো. নুর-আলম মাতুব্বর বলেন, ‘প্রতি বছরই পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের যোগসাজশে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলো নামমাত্র বেড়িবাঁধ সংস্কার করে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করে। কাজ শুরুর সময়ই আমরা অনিয়মের প্রতিবাদ জানালেও কর্তৃপক্ষ কোনো কর্ণপাত করেনি। এখন জিও ব্যাগগুলো নদীতে ধসে যাচ্ছে এবং বাঁধে বড় ফাটল দেখা দিয়েছে। যেকোনো সময় বাঁধ ভেঙে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করবে।’

 

এ বিষয়ে মেসার্স সোহেল এন্টারপ্রাইজ ও মেসার্স মণি ট্রেডার্সের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

 

মেসার্স পপুলার কনস্ট্রাকশনের স্বত্বাধিকারী লিমন বলেন, ‘ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কোনো গাফিলতি নেই। যে জায়গাটিতে ভাঙন দেখা দিয়েছে, সেটি আসলে একটি নদীর মোহনা। মোহনার এই জটিল প্রকৃতির কারণে সেখানে বারবার ভাঙন ধরছে। তাই নদীর এই পয়েন্টে স্থায়ী প্রতিরক্ষামূলক কাজ করা ছাড়া ভাঙন রোধ করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়।’

 

অন্যদিকে, মেসার্স আরএস কনস্ট্রাকশনের স্বত্বাধিকারী রাসেল বাঁধের একটি অংশে ধসের মতো পরিস্থিতি তৈরির বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ‘বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে, এক সপ্তাহের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত অংশের সংস্কারকাজ সম্পন্ন করা হবে।’

 

অভিযোগ অস্বীকার করে বরগুনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আব্দুল হান্নান প্রধান বলেন, ‘নদীভাঙন রোধে নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের তেঁতুলবাড়িয়া-নলবুনিয়া এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছিল। তবে নদীর তলদেশ থেকে ভাঙন শুরু হওয়ায় শুধু জিও ব্যাগ ফেলে আপাতত বাঁধ রক্ষা করা সম্ভব হচ্ছে না।’

 

তিনি আরও বলেন, ‘এ এলাকায় সিসি ব্লক ও জিও ব্যাগ ডাম্পিংয়ের মাধ্যমে টেকসই বাঁধ নির্মাণের লক্ষ্যে বৈদেশিক অর্থায়ন চেয়ে প্রধান কার্যালয়ে উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) পাঠানো হয়েছে। সেটি বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’

বাংলাদেশ সময়: ২২:৫১:২৬ ● ৯ বার পঠিত




পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

আর্কাইভ