সাগরকন্যা প্রতিবেদক, কলাপাড়া (পটুয়াখালী)
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় সরকারি খাসজমি দখল, বসতবাড়ির মাটি কেটে মাছের ঘের নির্মাণ, হামলা ও স্বর্ণালংকার লুটের অভিযোগ উঠেছে ডালবুগঞ্জ ইউনিয়ন শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর হাওলাদারের বিরুদ্ধে। এসব অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন আছিয়া বেগম নামের এক নারী। তাঁর অভিযোগ, জমি নিয়ে বিরোধের জেরে মিথ্যা মামলায় তাঁর স্বামীকেও কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টায় কলাপাড়া প্রেসক্লাবের প্রকৌশলী তৌহিদুর রহমান মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এসব অভিযোগ করেন আছিয়া বেগম। এ সময় তাঁর মেয়ে ঝুমুর ও পুত্রবধূ সারমিন উপস্থিত ছিলেন।
লিখিত বক্তব্যে আছিয়া বেগম বলেন, উপজেলার ডালবুগঞ্জ ইউনিয়নের উত্তর মনসাতলী ও মেহেরপুরের সীমান্তবর্তী এলাকায় প্রায় ৩০ বছর ধরে সরকারি খাসজমিতে বসবাস করছেন তাঁরা। তাঁদের পরিবার ভূমিহীন। একই এলাকার জাহাঙ্গীর হাওলাদারের সঙ্গে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে তাঁর স্বামী মোস্তফা হাওলাদারের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। গত ২৯ আগস্ট পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠায়।
আছিয়ার অভিযোগ, স্বামী কারাগারে থাকার সুযোগে গত ৩১ আগস্ট জাহাঙ্গীর তাঁর স্ত্রী ও দুই ছেলেকে নিয়ে তাঁদের বসতবাড়ির মাটি কেটে মাছের ঘের তৈরি এবং নতুন ঘর নির্মাণের কাজ শুরু করেন। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে তিনি বাধা দিতে গেলে জাহাঙ্গীর তাঁদের হত্যার হুমকি দিয়ে তাড়িয়ে দেন।
পরে মহিপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সহকারী ভূমি কর্মকর্তাকে বিষয়টি জানালে তিনি সরেজমিনে গিয়ে খাসজমিতে সব ধরনের নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন। তবে এরপরও মাটি কাটা অব্যাহত রাখা হয় বলে অভিযোগ করেন আছিয়া। এ ঘটনায় গত ৪ অক্টোবর কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দেন তিনি। অভিযোগটি আমলে নিয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন ইউএনও।
আছিয়া আরও অভিযোগ করেন, গত ৯ অক্টোবর দুপুরে জাহাঙ্গীর তাঁর পরিবারের সদস্য ও কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তিকে নিয়ে তাঁদের ওপর হামলা চালান এবং স্বর্ণালংকার লুট করেন। মারধরে গুরুতর আহত হয়ে তিনি কলাপাড়া হাসপাতালে ভর্তি হন। পরে কর্তব্যরত চিকিৎসককে প্রভাবিত করে তাঁকে জোরপূর্বক হাসপাতাল থেকে বের করে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এ ঘটনায় আদালতে মামলা করেছেন আছিয়া।
বর্তমানে তাঁর স্বামী কারাগারে রয়েছেন এবং পরিবারের অন্য সদস্যরা জাহাঙ্গীরের ভয়ে বাড়িছাড়া বলে দাবি করেন আছিয়া। তিনি অভিযোগ করেন, মহিপুর থানা বিএনপির সভাপতি জলিল হাওলাদারের ছত্রচ্ছায়ায় জাহাঙ্গীর তাঁদের ওপর নির্যাতন চালিয়ে আসছেন।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন জাহাঙ্গীর হাওলাদার। তিনি বলেন, বিদেশে থাকাকালে বারেককে চার লাখ টাকা ধার দিয়েছিলেন তিনি। সেই টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে বারেক, মোস্তফা হাওলাদার ও তাঁদের ছেলেদের সঙ্গে তাঁর বিরোধ হয়। একপর্যায়ে তাঁরা তাঁকে মারধর করেন। এতে গুরুতর আহত হয়ে তিনি কলাপাড়া হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। পরে নিজের নিরাপত্তার স্বার্থে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা করেন।
জাহাঙ্গীর বলেন, মোস্তফার পরিবারের উচ্ছেদ বা জমিজমা নিয়ে তাঁর কোনো বিরোধ নেই। তাঁদের ওপর হামলাও করেননি তিনি। বরং তাঁর বিরুদ্ধে আদালতে মিথ্যা মামলা করা হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
অভিযোগের বিষয়ে মহিপুর থানা বিএনপির সভাপতি জলিল হাওলাদার বলেন, আছিয়াকে তিনি চেনেন না। এ বিষয়ে কেউ তাঁর কাছে আসেননি। জাহাঙ্গীর তাঁর ছত্রচ্ছায়ায় এসব করেছেন, এমন অভিযোগের প্রমাণ দেখাতে হবে। তাঁকে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করতে মিথ্যা ও বানোয়াট অভিযোগ আনা হয়েছে।
মহিপুর থানার ওসি (তদন্ত) রাসেল আহমেদ বলেন, বিষয়টি তাঁদের জানা নেই। খোঁজখবর নিয়ে দেখা হচ্ছে।