
সাগরকন্যা প্রতিবেদক, কয়রা (খুলনা)
বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনের বনজ সম্পদ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় বন বিভাগের নিয়মিত অভিযান ও নজরদারিতে অপরাধ প্রবণতা কমেছে। চলতি বছরের প্রথম ১০ মাসে সুন্দরবন পশ্চিম বিভাগের খুলনা ও সাতক্ষীরা রেঞ্জে বন অপরাধের অভিযোগে ৪০৩টি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় ৩৯৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ছাড়া ৩৪ জন আসামি পলাতক রয়েছেন।
জানুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত পরিচালিত অভিযানে ২ হাজার ৮৯২ মিটার হরিণ ধরার ফাঁদ, ৫২২ কেজি হরিণের মাংস, ২৯টি ট্রলার, ৪০৫টি নৌকা, ৪৮৩টি অবৈধ কাঁকড়া ধরার আটন, ৯ হাজার ৫৩২ মিটার দড়ি, ৩ হাজার ৭৬০ কেজি মাছ এবং ৪ হাজার ১৪২ কেজি অবৈধভাবে আহরিত কাঁকড়া জব্দ করা হয়েছে।
এ ছাড়া সুন্দরবনের নদী ও খালে বিষ প্রয়োগ করে মাছ শিকার প্রতিরোধে অভিযান চালিয়ে ১৮৮ বোতল অবৈধ কীটনাশক এবং ১ হাজার ২৭৩ কেজি মধু জব্দ করেছে বন বিভাগ।
বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য ও বন্যপ্রাণী রক্ষায় বনরক্ষীরা বনের দুর্গম এলাকায় পায়ে হেঁটে এবং জলপথে নিয়মিত টহল ও বিশেষ অভিযান পরিচালনা করছেন। একই সঙ্গে হরিণসহ বন্যপ্রাণী শিকার এবং অন্যান্য বন অপরাধে জড়িত ১৩৫ জনের একটি বিশেষ তালিকা তৈরি করে তাদের নজরদারিতে রাখা হয়েছে।
খুলনা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক ও রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. সাজমিনুল ইসলাম যোগদানের পর বিভাগীয় বন কর্মকর্তা এজেডএম হাছানুর রহমানের পরামর্শে বন অপরাধ দমনে স্টেশন ও টহল ফাঁড়ির কর্মীদের কঠোর নির্দেশনা দেন। এর ধারাবাহিকতায় বিভিন্ন অভিযানে অবৈধ জাল, নৌকা, আটনসহ বন অপরাধে ব্যবহৃত সরঞ্জাম জব্দ এবং অপরাধীদের আটক করা হয়েছে। তিনি নিজেও কয়েকটি অভিযানে নেতৃত্ব দিয়ে অপরাধীদের আটক করেছেন। এতে খুলনা রেঞ্জে অপরাধ প্রবণতা কমেছে বলে বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে।
অন্যদিকে, সাতক্ষীরা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক ও রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. শাহিনুর ইসলাম বলেন, বনরক্ষীরা ঝুঁকি ও প্রতিকূলতা উপেক্ষা করে দুর্গম বনে পায়ে হেঁটে এবং নদীপথে নিয়মিত টহল দিচ্ছেন। ফুট পেট্রোলিং, ড্রোনের মাধ্যমে অপরাধী শনাক্ত এবং সচেতনতামূলক কার্যক্রমের ফলে বন অপরাধ অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে।
পশ্চিম বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা এজেডএম হাছানুর রহমান বলেন, বিশাল আয়তনের সুন্দরবনের সম্পদ রক্ষায় বন বিভাগের কর্মীরা সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে অল্পসংখ্যক জনবল দিয়ে এত বড় বনাঞ্চল রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়ছে। বনকর্মীদের জনবল ও সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো প্রয়োজন। সবার সহযোগিতায় আগের তুলনায় সুন্দরবনে অপরাধ প্রবণতা অনেক কমেছে।
তবে বন প্রহরীদের মতে, জনবল সংকট দূর করার পাশাপাশি আধুনিক সুযোগ-সুবিধা ও প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো গেলে সুন্দরবন সংরক্ষণে আরও কার্যকর ফল পাওয়া সম্ভব হবে।