গলাচিপায় নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে চলছে ইলিশ শিকার, গোপনে বিক্রি

হোম » জেলে-মৎস্য » গলাচিপায় নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে চলছে ইলিশ শিকার, গোপনে বিক্রি
সোমবার ● ১৯ অক্টোবর ২০২৬


 

গলাচিপায় নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে চলছে ইলিশ শিকার, গোপনে বিক্রি

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, গলাচিপা (পটুয়াখালী)

 

পটুয়াখালীর গলাচিপায় মা ইলিশ সংরক্ষণে সরকারি নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও চলছে ইলিশ শিকার ও গোপন বেচাকেনা। স্থানীয় প্রভাবশালী একটি চক্রের সহায়তায় উপজেলার বিভিন্ন নদী ও উপকূলীয় এলাকায় মাছ ধরা এবং নির্ধারিত ক্রেতাদের কাছে তা বিক্রি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অপরিচিত ক্রেতার কাছে মাছ বিক্রি না করে আগে নাম-পরিচয় নিশ্চিত করছেন জেলেরা।

 

স্থানীয় সূত্র ও সরেজমিন অনুসন্ধানে জানা গেছে, উপজেলার অন্তত ১০ থেকে ১৫টি স্থানে দালাল ও নির্ধারিত ক্রেতাদের মাধ্যমে অবৈধভাবে ইলিশ বিক্রি হচ্ছে। প্রশাসনের অভিযান চললেও দুর্গম এলাকায় মাছ শিকার বন্ধ করা যাচ্ছে না। কোথাও কোথাও অভিযানের সময় জেলেদের বাধার মুখেও পড়তে হচ্ছে ভ্রাম্যমাণ আদালতকে।

 

চরবিশ্বাস ইউনিয়নের নোমোর স্লুইস এলাকায় অভিযান চলাকালে জেলেদের একটি সংঘবদ্ধ চক্র প্রশাসনের ট্রলারকে ধাওয়া দেওয়ার চেষ্টা করে বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, একদিকে প্রশাসনের অভিযান চলছে, অন্যদিকে নদীতে ইলিশ শিকার ও বিক্রি অব্যাহত রয়েছে।

 

গলাচিপা পৌর এলাকা-সংলগ্ন রামনাবাদ নদী, চিকনিকান্দির দয়াময়ী মন্দির-সংলগ্ন তেঁতুলিয়া পয়েন্ট, বন্যাতলীর তেঁতুলিয়া পয়েন্ট এবং পানপট্টি লঞ্চঘাট-সংলগ্ন আগুনমুখার মোহনায় রাতের আঁধারে জাল ফেলা হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রশাসনের ট্রলার দেখলে জেলেরা দ্রুত বন বিভাগের সংরক্ষিত বনে আশ্রয় নিয়ে আত্মগোপন করেন বলেও স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।

 

ফোনে অর্ডার, নির্ধারিত স্থানে সরবরাহঃ

 

রবিবার সকালে ছদ্মবেশে ক্রেতা সেজে চরবিশ্বাস ইউনিয়নের জেলে মো. মন্নানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। ইলিশ কিনতে চাইলে তিনি প্রথমে নাম-পরিচয় জানতে চান। পরে সম্ভাব্য ক্রেতাকে দুপুর ২টার দিকে চরআগস্তি বাজারে অপেক্ষা করতে বলেন এবং সেখানে মাছ সরবরাহের আশ্বাস দেন।

 

একই এলাকার মো. মিজানের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনিও কয়েক দফা প্রশ্ন করে ক্রেতার পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা করেন। পরে তিনি বিভিন্ন আকারের ইলিশের দাম জানান। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এক কেজি ওজনের ইলিশের দাম ১ হাজার ৫০০ টাকা, এক কেজির কম ওজনের ইলিশের দাম ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা এবং আরও ছোট ইলিশের দাম কেজিপ্রতি ৪০০ টাকা।

 

তবে সরাসরি মাছ দিতে রাজি হননি তিনি। তাঁর ভাষ্য, চরকাজল এলাকার মিজানের ওয়ার্কশপে টাকা রেখে গেলে সেখানেই চাহিদামতো ইলিশ পৌঁছে দেওয়া হবে।

 

স্থানীয় সূত্রের দাবি, চরকাজল ইউনিয়নের লঞ্চঘাট, চরশিবা লঞ্চঘাট, বড় শিবা, চরবিশ্বাসের চরআগস্তি, জিমতলা, নোমোর স্লুইসগেট, আমড়াগাছিয়া ও চরবাংলা খেয়াঘাটসহ বিভিন্ন স্থানে এভাবে ইলিশ শিকার ও বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া রতনদী তালতলী ইউনিয়নের বন্যাতলী ও পাতাবুনিয়া স্লুইসগেট, সদর ইউনিয়নের চরকারফারমা, পানপট্টি লঞ্চঘাট, বোয়ালিয়া ও পক্ষিয়া স্লুইসগেট, লোন্দা স্লুইসগেট এবং গলাচিপা-পাটুয়া খেয়াঘাট এলাকাতেও অবৈধ বেচাকেনার অভিযোগ রয়েছে।

 

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় কয়েকজন বলেন, প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে কথা বলতে অনেকে সাহস পান না। জেলেরা মাছ ধরতে যাওয়ার সময় নৌকায় মোবাইল ফোন নেওয়া এবং মাছের কাছে ফোন রাখার ক্ষেত্রেও বিধিনিষেধ রয়েছে বলে তাঁরা দাবি করেন।

 

১১ দিনে জব্দ ২৮৫ মেট্রিক টন ইলিশঃ

 

গলাচিপা উপজেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে গত ১১ দিনে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ২৮৫ মেট্রিক টন ইলিশ জব্দ করা হয়েছে। এ সময় বিভিন্ন ধরনের জাল জব্দ করা হয়েছে বলেও সূত্রটি জানিয়েছে। তবে জালের পরিমাণ ও আর্থিক মূল্যসংক্রান্ত তথ্যে অসংগতি রয়েছে। সূত্রের দেওয়া তথ্যে ১২টি মামলায় ছয় জেলেকে সাজা এবং মোট ২০ হাজার টাকা জরিমানা করার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

 

গলাচিপা উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা ভিক্টর বাইন বলেন, মৎস্য অফিসসহ সরকারের বিভিন্ন বিভাগের সমন্বয়ে যৌথ অভিযান অব্যাহত রয়েছে। প্রতিদিন একাধিক অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। দুর্গম ও প্রত্যন্ত এলাকা হওয়ায় সব জায়গায় দ্রুত পৌঁছানো সম্ভব না হলেও সেসব এলাকাতেও অভিযান চালানো হচ্ছে।

 

চরবিশ্বাসের নোমোর স্লুইস এলাকায় জেলেদের হামলার চেষ্টা সম্পর্কে তিনি বলেন, ওই এলাকায় অভিযান চলাকালে সংঘবদ্ধ একটি চক্র তাঁদের ওপর হামলার চেষ্টা করে এবং চিৎকার-চেঁচামেচি করে। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।

বাংলাদেশ সময়: ১১:১১:১৭ ● ২৯ বার পঠিত




পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

আর্কাইভ