
সাগরকন্যা প্রতিবেদক, কলাপাড়া (পটুয়াখালী)
পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার ধানখালী ইউনিয়নের শত বছরের পুরোনো নমরহাট বাজারে চলাচলের রাস্তা ও টিয়াখালী নদীর তীর দখল করে পাকা স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। অন্তত তিন দশক ধরে ব্যবহৃত বাজারের একটি রাস্তা বন্ধ করে সেখানে গড়ে তোলা হয়েছে ‘আলভী শপিং মল’। এতে ওই পথে মানুষের চলাচল ও যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, উপজেলার ধানখালী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও অপসারিত ইউপি চেয়ারম্যান শাহজাদা পারভেজ টিনু মৃধা দলীয় প্রভাব খাটিয়ে এসব জায়গা দখল করেছেন। তাঁর ভয়ে সে সময় কেউ প্রতিবাদ করার সাহস পাননি। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের দুই বছর পরও উদ্ধার হয়নি বাজারের রাস্তাটি, সরানো হয়নি নদীতীরের স্থাপনা। এ নিয়ে উপজেলা প্রশাসনকে একাধিকবার জানিয়েও প্রতিকার পাননি ব্যবসায়ীরা।
সরেজমিনে দেখা যায়, নমরহাট বাজারের উত্তর পাশের একটি রাস্তা বন্ধ করে সেখানে পাকা স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে। ওই স্থানে মার্কেট গড়ে ওঠায় দীর্ঘদিনের চলাচলের পথটি কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
ব্যবসায়ী আজাদ মোল্লা সাগরকন্যার এ প্রতিবেদককে বলেন, ক্ষমতার দাপটে প্রায় তিন দশক ধরে ব্যবহৃত সরকারি রাস্তা ও আশপাশের জায়গা দখল করে অন্তত ১০ বছর আগে মার্কেট নির্মাণ করা হয়েছে। এতে মানুষ যানবাহন নিয়ে চলাচল করতে পারছেন না।
দোকানি মহিউদ্দিন লিমন বলেন, ‘রাস্তাটি খোলা রাখা প্রয়োজন।’
নমরহাট বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আলমগীর হাওলাদার বলেন, ‘আওয়ামী লীগের সভাপতির ক্ষমতা দেখিয়ে গায়ের জোরে রাস্তাসহ নদীর পাড় দখল করে মার্কেট করা হয়েছে। একটি গলি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এতে ব্যবসায়ীসহ সবাই দুর্ভোগে পড়েছেন। প্রশাসনকে বহুবার বলা হলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।’
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন শাহজাদা পারভেজ টিনু মৃধা। তিনি বলেন, ‘তিনি যা কিছু করেছেন, সব রেকর্ডীয় জমিতে। সরকারি কোনো খাসজমিতে স্থাপনা নির্মাণ করেননি। রেকর্ডীয় মালিকদের কাছ থেকে জমি কিনেছেন। তারপরও প্রশাসনের অনুরোধে কলাপসিবল গেট খুলে দিয়েছেন।’
কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আরিফুজ্জামান বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
স্থানীয়দের দাবি, তিন দশক ধরে ব্যবহৃত বাজারের চলাচলের রাস্তা কীভাবে ব্যক্তিমালিকানায় গেল, তা তদন্ত করে দেখতে হবে। একই সঙ্গে জোয়ারের পানিতে ডুবে যাওয়া নদীতীরের জমির মালিকানা ও দখলের বিষয়টিও খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। বাজারের স্বাভাবিক চলাচল নিশ্চিত করতে রাস্তাটি পুনরায় ব্যবহারের উপযোগী করা এবং জনদুর্ভোগ নিরসনে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয়রা।