গলাচিপায় মৃতদেহের জন্য মিলছিল না বরফ, ইউএনওর হস্তক্ষেপে ব্যবস্থা

হোম » পটুয়াখালী » গলাচিপায় মৃতদেহের জন্য মিলছিল না বরফ, ইউএনওর হস্তক্ষেপে ব্যবস্থা
সোমবার ● ১২ অক্টোবর ২০২৬


 

গলাচিপায় মৃতদেহের জন্য মিলছিল না বরফ, ইউএনওর হস্তক্ষেপে ব্যবস্থা

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, গলাচিপা (পটুয়াখালী)

 

পটুয়াখালীর গলাচিপায় মা ইলিশ রক্ষার অবরোধে বন্ধ রাখা বরফকলগুলোতে বরফ না পেয়ে মৃতদেহ সংরক্ষণ নিয়ে বিপাকে পড়ে একটি পরিবার। চার থেকে পাঁচটি বরফকল ঘুরেও বরফ না পেয়ে তাঁরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) দ্বারস্থ হন। পরে জেলা প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে প্রশাসনের উদ্যোগে একটি বরফকল থেকে বরফের ব্যবস্থা করা হয়।

 

সোমবার (১২ অক্টোবর) দুপুর ১২টার দিকে গলাচিপা পৌরশহরের খেয়াঘাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। মৃত ব্যক্তির নাম মো. বেল্লাল সরদার (৪০)। তিনি উপজেলার উত্তর চরকাজল ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা।

 

পরিবারের সদস্যরা জানান, সোমবার ভোর সাড়ে চারটার দিকে বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বেল্লাল সরদারের মৃত্যু হয়। তিনি জ্বর, কিডনিসহ বিভিন্ন শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন। তিন দিন আগে জ্বরে আক্রান্ত হলে তাঁকে চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে সেখান থেকে বরিশালে এনে রোববার সন্ধ্যায় শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।

 

স্বজনেরা জানান, মরদেহটি উপজেলার চরকাজল এলাকায় গ্রামের বাড়িতে নিয়ে দাফন করতে দীর্ঘ নদীপথ পাড়ি দিতে হবে। যাতায়াত ও অন্যান্য প্রস্তুতি শেষে বাড়িতে পৌঁছাতে বিকেল হয়ে যাবে। দূরে থাকা স্বজনদের শেষবারের মতো মরদেহ দেখার সুযোগ দিতে বিকেলে দাফনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এদিকে মরদেহের অবস্থা খারাপ হতে থাকায় দ্রুত বরফের প্রয়োজন দেখা দেয়। কিন্তু চার থেকে পাঁচটি বরফকল ঘুরেও বরফ পাওয়া যায়নি।

 

পরে বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানানো হলে তিনি জেলা প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের অনুমতি নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. ফারুকুজ্জামাকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। তাঁর উপস্থিতিতে একটি বরফকল থেকে কিছু বরফ সংগ্রহ করে দেওয়া হয়। এতে মরদেহ বাড়িতে নেওয়া ও দাফনের প্রস্তুতি নিয়ে পরিবারের উদ্বেগ কিছুটা কমে।

 

বরফকলের মালিক মুনতাসীর রহমান তালুকদার জানান, মা ইলিশ রক্ষায় সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী ৮ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা চলাকালে প্রশাসনের নির্দেশে বরফকল বন্ধ রাখা হয়েছে। এ কারণে অনুমতি ছাড়া মরদেহের জন্য বরফ সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না। গত দুই দিনে দুটি মরদেহের জন্য বরফ চাওয়া হলেও অনুমতি না থাকায় তা দেওয়া যায়নি।

 

তিনি আরও জানান, প্রতিবছর একটি বরফকল চালু থাকলেও এবার সব বরফকল বন্ধ রাখায় চাষের মাছ সংরক্ষণ ও পরিবহন নিয়ে ব্যবসায়ীরাও বিপাকে পড়েছেন।

 

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ভিক্টর বাইন জানান, মা ইলিশ রক্ষা ও অবরোধ বাস্তবায়নে জেলা কমিটির সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বরফকল বন্ধ রাখা হয়েছে। এ জন্য বরফকলগুলোর বিদ্যুৎ-সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। নিষেধাজ্ঞার পুরো সময় এ সিদ্ধান্ত কার্যকর থাকবে।

 

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবুজর মোহাম্মদ ইজাজুল হক বলেন, ‘খবরটি পেয়ে আমরা জেলা পর্যায়ে জানাই। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের অনুমতি সাপেক্ষে প্রশাসনিক কর্মকর্তাকে পাঠানো হয়। তাঁর উপস্থিতিতে একটি বরফকল থেকে কিছু বরফ সংগ্রহ করে দেওয়া হয়েছে। পরে বরফকলটি আবার বন্ধ করে দেওয়া হয়।’

 

স্থানীয়দের দাবি, প্রতিবছর মা ইলিশ রক্ষার নিষেধাজ্ঞার সময় অন্তত একটি বরফকল চালু রাখা হলেও এবার সব বরফকল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তে এমন সংকট তৈরি হয়েছে। মানবিক দিক বিবেচনায় অন্তত একটি বরফকল চালু রাখার ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। এতে মৃতদেহ সংরক্ষণের পাশাপাশি চাষের মাছ সংরক্ষণ ও পরিবহনে ব্যবসায়ীদের ভোগান্তিও কমবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

বাংলাদেশ সময়: ১৯:৫০:২৭ ● ১৭ বার পঠিত




পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

আর্কাইভ