ডাকঘর আছে, নিরাপদ ভবন নেই ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ছে, ঝুঁকিতে কয়রার ডাকঘর

হোম » খুলনা » ডাকঘর আছে, নিরাপদ ভবন নেই ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ছে, ঝুঁকিতে কয়রার ডাকঘর
শুক্রবার ● ৯ অক্টোবর ২০২৬


ডাকঘর আছে, নিরাপদ ভবন নেই; ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ছে, ঝুঁকিতে কয়রার ডাকঘর

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, কয়রা (খুলনা)

 

খুলনার কয়রা উপজেলার ৪ নম্বর কয়রা ব্রাঞ্চ পোস্ট অফিসের ভবন জরাজীর্ণ। ছাদের পলেস্তারা খসে বেরিয়ে এসেছে মরিচা ধরা লোহার রড। নষ্ট হয়ে গেছে আসবাবপত্র ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি। ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে কাজ করতে হচ্ছে ডাক বিভাগের কর্মীদের। দুর্ঘটনার আশঙ্কায় ডাকঘরে সেবা নিতে আসা মানুষও রয়েছেন উদ্বেগে।

 

দীর্ঘদিন সংস্কার না করায় ভবনটির এমন বেহাল দশা হয়েছে। পরিস্থিতি এতটাই খারাপ যে, বর্তমানে পাশের একটি মাদ্রাসার কক্ষে বসে অফিসের কার্যক্রম চালাতে হচ্ছে।

 

উপজেলা পোস্ট অফিস সূত্রে জানা গেছে, কয়রায় মোট ১৭টি ব্রাঞ্চ পোস্ট অফিস রয়েছে। এর মধ্যে ৪ নম্বর কয়রা ব্রাঞ্চ পোস্ট অফিসটি প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৭৫ সালে। দীর্ঘদিন নিজস্ব ভবন না থাকায় পাশের একটি মাদ্রাসার কক্ষে এর কার্যক্রম চলত। পরে ২০১১ সালের দিকে নিজস্ব জায়গায় বর্তমান ভবনটি নির্মাণ করা হয়। ২০১৭ সালের দিকে একবার সংস্কার করা হলেও ভবনটির বর্তমান অবস্থা ব্যবহারের অনুপযোগী।

 

ডাকঘরের ডাকপিয়ন মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘জরাজীর্ণ এই ভবনে বসে কাজ করার মতো পরিবেশ নেই। ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ছে। যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। ২০১৭ সালের দিকে একবার সংস্কার করা হলেও তা মানসম্মত হয়নি।’

 

পোস্টমাস্টার মো. মহিববুল্লাহ বলেন, ‘অফিসের অবস্থা খুবই খারাপ। বর্তমানে পাশের মাদ্রাসার একটি কক্ষে বসে অফিসের কার্যক্রম চালাতে হচ্ছে। চাকরির স্বার্থে অনেক কষ্ট করে আমরা দায়িত্ব পালন করছি।’

 

ডাকঘরের উদ্যোক্তা সালাহউদ্দীন (মুকুল) বলেন, অফিসের আসবাবপত্র থেকে শুরু করে বিভিন্ন যন্ত্রাংশ নষ্ট হয়ে গেছে। এগুলো দিয়ে ঠিকমতো কাজ করা যায় না। সংশ্লিষ্ট দপ্তরে বারবার জানানো হলেও এখনো মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

 

স্থানীয়দের অভিযোগ, শুধু ৪ নম্বর কয়রা ব্রাঞ্চ পোস্ট অফিস নয়, উপজেলার অধিকাংশ ডাকঘরের অবস্থাই নাজুক। দীর্ঘদিন ধরে এমন পরিস্থিতি চললেও প্রয়োজনীয় সংস্কারে কার্যকর উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না।

 

কয়রা উপজেলা পোস্টমাস্টার সৈয়দ মিজানুর রহমান বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ সরেজমিনে বিভিন্ন ব্রাঞ্চ পোস্ট অফিসের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করেছেন। জরাজীর্ণ ভবনগুলোর তালিকা করে পাঠানো হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা পেলে সংস্কারের কাজ শুরু হবে।

 

খুলনা বিভাগের ডেপুটি পোস্টমাস্টার জেনারেল মো. মিরাজুল হক বলেন, প্রকল্পের মাধ্যমে ব্রাঞ্চ পোস্ট অফিসের ভবন নির্মাণ করা হয়। আগে ‘গ্রামীণ ডাকঘর নির্মাণ’ নামে একটি প্রকল্প ছিল। বর্তমানে নতুন কোনো প্রকল্প নেই। নতুন প্রকল্পের জন্য প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। প্রকল্প অনুমোদন হলে পর্যায়ক্রমে ব্রাঞ্চ পোস্ট অফিসগুলোর সংস্কারের কাজ শুরু হবে।

 

স্থানীয়দের দাবি, দুর্ঘটনা ঘটার আগেই ঝুঁকিপূর্ণ ভবনটি সংস্কার অথবা নতুন ভবন নির্মাণ করতে হবে। একই সঙ্গে নষ্ট আসবাবপত্র ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি সরবরাহ করে ডাকসেবার স্বাভাবিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।

বাংলাদেশ সময়: ১৫:২৯:০১ ● ১৯ বার পঠিত




পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

আর্কাইভ