নেছারাবাদে ভ্যান উল্টে বাবা নিহত, আহত শিশুসন্তানের চিকিৎসায় প্রতিমন্ত্রীর সহায়তা

হোম » পিরোজপুর » নেছারাবাদে ভ্যান উল্টে বাবা নিহত, আহত শিশুসন্তানের চিকিৎসায় প্রতিমন্ত্রীর সহায়তা
বুধবার ● ৭ অক্টোবর ২০২৬


 

নেছারাবাদে ভ্যান উল্টে বাবা নিহত, আহত শিশুসন্তানের চিকিৎসায় প্রতিমন্ত্রীর সহায়তা

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, পিরোজপুর

 

বাবার সঙ্গেই কাজে বের হয়েছিল চার বছরের নাঈম। কাজ শেষে বাবার সঙ্গে বাড়ি ফেরার কথা ছিল তার। কিন্তু কাঠবোঝাই ভ্যান উল্টে কাঠের নিচে চাপা পড়ে প্রাণ হারিয়েছেন বাবা মো. বশির (৫০)। গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া নাঈমকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। শিশুটির চিকিৎসায় নগদ ৪০ হাজার টাকা সহায়তা দিয়েছেন পিরোজপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য ও গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মঞ্জুর।

 

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) দুপুরে পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার সোহাগদল গ্রামের হাজীরপুর এলাকায় স্টিলব্রিজের পাশে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত বশির বলদিয়া ইউনিয়নের রাজাবাড়ী গ্রামের মো. মোস্তফা মিয়ার ছেলে। তিনি দিনমজুরের কাজ করতেন।

 

বুধবার (৭ অক্টোবর) দুপুরে প্রতিমন্ত্রীর পক্ষ থেকে নেছারাবাদ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশিক আহমেদ ওই ৪০ হাজার টাকা নিহত বশিরের বাবার হাতে তুলে দেন।

 

ইউএনও আশিক আহমেদ বলেন, দুর্ঘটনায় নাঈম গুরুতর আহত হয়েছে। তার চিকিৎসার জন্য প্রতিমন্ত্রীর পক্ষ থেকে ৪০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে প্রতিমন্ত্রী ও উপজেলা প্রশাসন শিশুটির পরিবারের পাশে থাকবে বলেও আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

 

নাঈমের চাচা মো. সাদ্দাম বলেন, ‘আমার ভাই আর নেই। তাঁর চার বছরের ছেলেটা এখন হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে। নাঈমের কান দিয়ে কিছুক্ষণ পরপর রক্ত বের হচ্ছে। বাম পায়ের নিচের অংশের হাড় ভেঙে গেছে। মাথায়ও প্রচণ্ড আঘাত পেয়েছে।’

 

তিনি বলেন, ‘প্রতিমন্ত্রী নাঈমের চিকিৎসার জন্য ৪০ হাজার টাকা পাঠিয়েছেন। তাঁর এই সহায়তার জন্য আমরা কৃতজ্ঞ। তিনি নাঈমের উন্নত চিকিৎসায় পাশে থাকার কথা জানিয়েছেন। রাতে শিশুটির চিকিৎসা নিয়ে খুব দুশ্চিন্তায় ছিলাম। এখন সহায়তা পাওয়ায় ভালো চিকিৎসা করানোর চেষ্টা করতে পারব।’

 

স্থানীয়রা জানান, বশিরের স্ত্রী ছোট সন্তান নাঈমকে রেখে অন্যত্র চলে গেছেন। বাড়িতে ছেলেকে দেখাশোনার মতো কেউ না থাকায় বশির নিয়মিত নাঈমকে সঙ্গে নিয়েই কাজে বের হতেন। তিনি সোহাগদল উপজেলার বছরাকাঠি এলাকার একটি কাঠের দোকান থেকে ভ্যানে কাঠ পরিবহনের কাজ করতেন।

 

ঘটনার দিন বশির ভ্যানে চেরাই কাঠ বোঝাই করে হাজীরপুর হয়ে অন্যত্র যাচ্ছিলেন। স্টিলব্রিজের উঁচু অংশে ওঠার সময় ভ্যানটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে খালের পাড়ে ব্যবসায়ীদের রাখা গোলকাঠের ওপর উল্টে পড়ে। এতে ভ্যান ও কাঠের নিচে চাপা পড়েন বশির। নাঈম ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হয়।

 

প্রত্যক্ষদর্শী মো. মাসুদ বলেন, দুর্ঘটনাস্থলের পাশে তাঁর দোকান। হঠাৎ বিকট শব্দ ও চিৎকার শুনে বাইরে এসে তিনি স্টিলব্রিজের কাছে খালের পাড়ে গোলকাঠের ওপর কাঠবোঝাই ভ্যানটি উল্টে পড়ে থাকতে দেখেন। ভ্যানচালক বশির কাঠের নিচে চাপা পড়ে ছিলেন। পাশে পড়ে ছিল শিশুটি।

 

পরে স্থানীয়দের সহায়তায় রক্তাক্ত অবস্থায় বশির ও নাঈমকে উদ্ধার করে নেছারাবাদ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক বশিরকে মৃত ঘোষণা করেন। নাঈমকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বরিশালে পাঠানো হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে নেওয়া হয়।

 

নিহত বশিরের মেয়ে সুবর্ণা বলেন, ‘নাঈম আমার ছোট ভাই, আর যিনি মারা গেছেন তিনি আমার বাবা। আমাদের মা নেই। তাই বাবা নিয়মিত ছোট ভাইকে সঙ্গে নিয়েই কাজে বের হতেন। মা আগেই চলে গেছে, শেষমেশ বাবাও চলে গেল। এখন আমার ভাইটাও মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে।’

 

কান্নাজড়িত কণ্ঠে সুবর্ণা আরও বলেন, ‘এমপি সাহেবের সহায়তা আমার ভাইয়ের চিকিৎসার জন্য আমাদের মনোবল বাড়িয়েছে।’

 

নেছারাবাদ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক আরিফা সিদ্দিকা বলেন, ‘হাসপাতালে আনার আগেই লোকটির মৃত্যু হয়েছে। তাঁর ছেলেকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।’

 

নেছারাবাদ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সঞ্জয় মজুমদার বলেন, দুর্ঘটনায় নিহত ব্যক্তির মরদেহ থানায় আনা হয়েছে। সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে আইনগত প্রক্রিয়া অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বাংলাদেশ সময়: ১৯:০৮:৫৫ ● ২১ বার পঠিত




পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

আর্কাইভ