
সাগরকন্যা প্রতিবেদক, বাগেরহাট
ভুয়া জমা রসিদে আউটলেটের সিল ব্যবহার এবং নিজের মোবাইল ফোন থেকে ভুয়া জমার এসএমএস পাঠিয়ে গ্রাহকদের প্রায় পাঁচ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের এক এজেন্ট পরিচালকের বিরুদ্ধে। বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার তাফালবাড়ি বাজার আউটলেটের পরিচালক ওমর ফারুক রাজুর বিরুদ্ধে এ অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, বিপুল অঙ্কের টাকা নিয়ে তিনি নেপালে পালিয়ে গেছেন এবং সেখান থেকে ইউরোপে যাওয়ার চেষ্টা করছেন।
২৩ সেপ্টেম্বর থেকে ওমর ফারুক রাজুর কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। বন্ধ রয়েছে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন। ব্যাংকের আউটলেটেও ঝুলছে তালা। তিনি সাউথখালী ইউনিয়নের পূর্ব সোনাতলা গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক মো. শাহ আলম হাওলাদারের ছেলে।
স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ২০২১ সালে তাফালবাড়ি বাজারে ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেট চালু করেন রাজু। স্থানীয় পরিচয় ও আত্মীয়তার সুবাদে তিনি দ্রুত মানুষের আস্থা অর্জন করেন। এক লাখ টাকা জমা রাখলে মাসে দুই হাজার টাকা মুনাফা দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে শতাধিক মানুষের কাছ থেকে আমানত সংগ্রহ করেন তিনি।
অভিযোগ রয়েছে, গ্রাহকদের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার পর ব্যাংকের মূল সিস্টেমে তা জমা না দিয়ে ভুয়া রসিদ দেওয়া হতো। গ্রাহকদের আশ্বস্ত করতে নিজের মোবাইল ফোন থেকেই জমার ভুয়া এসএমএস পাঠাতেন রাজু।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী গ্রাহকদের পক্ষ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর শরণখোলা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।
জালিয়াতির খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। তারা আউটলেটটির কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ ঘোষণা করে সামনে নোটিশ টাঙিয়ে দেন। একই সঙ্গে প্রতারিত গ্রাহকদের দ্রুত জেলা কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।
এ ঘটনায় এলাকায় তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। ভুক্তভোগীরা পলাতক রাজুকে গ্রেপ্তার করে টাকা উদ্ধারের পাশাপাশি এজেন্ট আউটলেটগুলোর ওপর মূল ব্যাংকের কঠোর তদারকি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
এমই/এমআর