
সাগরকন্যা প্রতিবেদক, বরগুনা
সকালে যথারীতি আদালতে গিয়েছিলেন। সহকর্মীদের সঙ্গে কথা বলেছেন, আইনজীবী সমিতিতে কিছু সময় কাটিয়েছেন। প্রয়োজনীয় কাজ শেষে ফিরেছিলেন শহরের কালীবাড়ির বাসায়। কেউ ভাবেননি, সেটিই হবে আদালতপাড়ায় তাঁর শেষ উপস্থিতি। দুপুরে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে নেওয়ার পর মারা গেলেন বরগুনার সাবেক পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি), প্রবীণ আইনজীবী ও রাজনীতিবিদ ভুবন চন্দ্র হাওলাদার।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) দুপুর আড়াইটার দিকে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৭ বছর।
তাঁর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে বরগুনার আদালতপাড়া ও আইনজীবী সমিতিতে শোকের আবহ নেমে আসে। দীর্ঘদিনের সহকর্মীকে হারিয়ে অনেক আইনজীবীই হয়ে পড়েন বাকরুদ্ধ। আইন অঙ্গনের পাশাপাশি রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনেও শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
ভুবন চন্দ্র হাওলাদার বরগুনা সদর উপজেলার আয়লাপাতাকাটা ইউনিয়নের দক্ষিণ ইটবাড়িয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। কর্মজীবনের শুরুতে তিনি ইটবাড়িয়া কদমতলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন। পরে আশির দশকে আইন পেশায় যুক্ত হন। প্রায় ১২ বছর সরকারি আইন কর্মকর্তা হিসেবে পাবলিক প্রসিকিউটরের দায়িত্ব পালন করেন। দীর্ঘ পেশাজীবনে আইন অঙ্গনে দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার স্বাক্ষর রাখেন তিনি।
আইন পেশার পাশাপাশি রাজনীতিতেও সক্রিয় ছিলেন ভুবন চন্দ্র হাওলাদার। দীর্ঘদিন বরগুনা জেলা আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। সাংস্কৃতিক অঙ্গনেও ছিল তাঁর পরিচিতি। তিনি রবীন্দ্রসংগীতের একজন শিল্পী হিসেবেও পরিচিত ছিলেন।
আইনজীবী জগদীশ চন্দ্র জানান, মঙ্গলবার সকালে আদালতের কার্যক্রমে অংশ নেন ভুবন চন্দ্র হাওলাদার। পরে আইনজীবী সমিতিতে কিছু সময় অবস্থান করেন। প্রয়োজনীয় কাজ শেষে শহরের কালীবাড়ির বাসায় ফিরে যান। দুপুর আড়াইটার দিকে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে দ্রুত তাঁকে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, তিন ছেলে ও এক মেয়েসহ অসংখ্য আত্মীয়স্বজন, সহকর্মী ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
ভুবন চন্দ্র হাওলাদারের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন বরগুনা আইনজীবী সমিতির আহ্বায়ক ও পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) আলহাজ্ব মো. নুরুল আমীন এবং সদস্য সচিব আইনজীবী মনোয়ার আক্তার।
শোকবার্তায় আহ্বায়ক আলহাজ্ব মো. নুরুল আমীন বলেন, ভুবন চন্দ্র হাওলাদার শুধু একজন ভালো আইনজীবীই ছিলেন না, তিনি ছিলেন একজন অভিজ্ঞ ও সুনামধন্য আইনজীবী। দীর্ঘ কর্মজীবনে অত্যন্ত নিষ্ঠা ও সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁর মতো একজন প্রবীণ আইনজীবীর মৃত্যুতে বরগুনার আইন অঙ্গনের অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। তাঁর শূন্যতা সহজে পূরণ হওয়ার নয়।
তিনি আরও বলেন, ভুবন চন্দ্র হাওলাদারের কর্মময় জীবন ও সহকর্মীদের প্রতি তাঁর আন্তরিকতা দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তাঁর বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান তিনি।
এদিকে ভুবন চন্দ্র হাওলাদারের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন বরগুনা-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম সরোয়ার টুকু। এক শোকবার্তায় তিনি ভুবন চন্দ্র হাওলাদারকে অভিজ্ঞ আইনজীবী, দক্ষ সরকারি আইন কর্মকর্তা ও দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সহকর্মী হিসেবে উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, ‘ভুবন চন্দ্র হাওলাদারের মৃত্যুতে আমি গভীরভাবে শোকাহত ও মর্মাহত। তিনি ছিলেন একজন অভিজ্ঞ আইনজীবী, দক্ষ সরকারি আইন কর্মকর্তা এবং দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সহকর্মী। আইনাঙ্গন ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক অঙ্গনে তাঁর অবদান স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তাঁর মৃত্যুতে আমরা একজন গুণী ও বহুমুখী প্রতিভার মানুষকে হারালাম।’
তাঁর বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান তিনি।