বরিশাল বিভাগের ৮৭১ প্রাথমিক বিদ্যালয় ঝুঁকিপূর্ণ, আতঙ্কে শিক্ষার্থী-অভিভাবক

হোম » বরিশাল » বরিশাল বিভাগের ৮৭১ প্রাথমিক বিদ্যালয় ঝুঁকিপূর্ণ, আতঙ্কে শিক্ষার্থী-অভিভাবক
বুধবার ● ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬


 

বরিশাল বিভাগের ৮৭১ প্রাথমিক বিদ্যালয় ঝুঁকিপূর্ণ, আতঙ্কে শিক্ষার্থী-অভিভাবক

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, বরিশাল

 

বরিশাল বিভাগের ৮৭১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবন ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। এসব ভবনের কোনোটি জরাজীর্ণ, কোনোটি দেয়াল ও ছাদে ফাটল ধরেছে। কোথাও খসে পড়ছে পলেস্তারা, আবার কোনো ভবনের ছাদের রড বেরিয়ে গেছে। সামান্য বৃষ্টিতেই শ্রেণিকক্ষে পানি ঢুকে পড়ে অনেক বিদ্যালয়ে। এমন ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশেই প্রতিদিন ক্লাস করছে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা।

 

স্থানীয় বাসিন্দা, অভিভাবক ও শিক্ষকদের অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে জরাজীর্ণ বিদ্যালয় ভবন সংস্কারের দাবি জানানো হলেও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে অনেক ভবনের অবস্থা দিন দিন আরও নাজুক হচ্ছে। ঝড়-বৃষ্টির সময় শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগে থাকতে হয় শিক্ষক ও অভিভাবকদের।

 

বরিশাল বিভাগীয় প্রাথমিক শিক্ষা দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, বিভাগের ছয় জেলায় মোট ৬ হাজার ২৪৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এর মধ্যে ৮৭১টি বিদ্যালয় ভবন ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এসব বিদ্যালয়ের তালিকা তৈরি করে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।

 

ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যালয়ের সংখ্যায় সবচেয়ে এগিয়ে বরিশাল জেলা। এ জেলায় ৩২০টি বিদ্যালয় ভবন ঝুঁকিপূর্ণ। পিরোজপুরে ১৯৯টি, বরগুনায় ১৩২টি, ভোলায় ১১৫টি, ঝালকাঠিতে ৮৫টি এবং পটুয়াখালীতে ২২টি বিদ্যালয় রয়েছে এই তালিকায়।

 

বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা যায়, অনেক বিদ্যালয় ভবনের দেয়ালে ফাটল ধরেছে। ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ছে। কোথাও ছাদের রডও বেরিয়ে এসেছে। বৃষ্টির সময় শ্রেণিকক্ষে পানি পড়ায় ব্যাহত হচ্ছে পাঠদান। কোনো কোনো বিদ্যালয়ে দরজা-জানালা ভাঙা। পর্যাপ্ত বেঞ্চ ও আসবাব না থাকায় শিক্ষার্থীদের মেঝেতে বসেও ক্লাস করতে হচ্ছে।

 

বাকেরগঞ্জ উপজেলার কয়েকজন অভিভাবক বলেন, সন্তানকে বিদ্যালয়ে পাঠিয়ে তারা দুশ্চিন্তায় থাকেন। জরাজীর্ণ ভবনে কখন কী ঘটে, সেই আতঙ্ক রয়েছে তাদের মধ্যে। যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

 

বাবুগঞ্জ উপজেলার ছানিকেদারপুর বিদ্যালয়ের অবস্থা আরও নাজুক। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ১৯৯৭ সালে ভবনটি নির্মাণের পর আর উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন বা সংস্কার হয়নি। দীর্ঘদিনের জরাজীর্ণতায় ভবনটির বর্তমান অবস্থা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে সেখানে স্বাভাবিকভাবে পাঠদান করাও কঠিন। উপজেলার আরও অন্তত এক ডজন বিদ্যালয়ের ভবনের অবস্থাও নাজুক বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

 

দেহেরগতি ইউনিয়নের বাসিন্দা শাহজাহান হাওলাদার বলেন, ছানিকেদারপুর বিদ্যালয়সহ উপজেলার কয়েকটি বিদ্যালয় ভবন বেহাল অবস্থায় রয়েছে। দ্রুত এসব বিদ্যালয়ে উন্নয়নমূলক কাজ না হলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

 

একাধিক শিক্ষক জানান, ভবনের অবস্থা খারাপ হওয়ায় বর্ষাকালে পাঠদান ব্যাহত হয়। ঝড়-বৃষ্টির সময় শিক্ষার্থীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে হয়। কয়েকটি বিদ্যালয় ভবন ইতোমধ্যে পরিত্যক্ত ঘোষণার উপযোগী হলেও বিকল্প ভবন না থাকায় পুরোনো ভবনেই শিক্ষা কার্যক্রম চালাতে হচ্ছে।

 

বরিশাল জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোস্তফা কামাল বলেন, জেলার ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যালয়গুলোর তালিকা করে শিক্ষা অধিদপ্তরে পাঠানো হয়েছে। দ্রুত এসব কাজ বাস্তবায়ন হলে শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি কমবে।

 

বরিশাল জেলা শিক্ষা প্রকৌশলী মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যালয় ভবনগুলো চারটি ক্যাটাগরিতে তালিকাভুক্ত করে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিদ্যালয়গুলোর সংস্কার ও নতুন ভবন নির্মাণের কাজ শিগগিরই শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

বাংলাদেশ সময়: ১৭:৪১:১৬ ● ১০ বার পঠিত




পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

আর্কাইভ