২০ লাখ টাকা ঘুস নিয়েও জাল পর্চা দেওয়ার অভিযোগ তহশিলদারের বিরুদ্ধে

হোম » পটুয়াখালী » ২০ লাখ টাকা ঘুস নিয়েও জাল পর্চা দেওয়ার অভিযোগ তহশিলদারের বিরুদ্ধে
বুধবার ● ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬


 

২০ লাখ টাকা ঘুস নিয়েও জাল পর্চা দেওয়ার অভিযোগ তহশিলদারের বিরুদ্ধে

সাগরকন্যা প্রতিবেদক,পটুয়াখালী

 

পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালীতে নামজারি ও জমির বিএস রেকর্ড করে দেওয়ার কথা বলে উপসহকারী ভূমি কর্মকর্তা (তহশিলদার) আবদুস সোবাহানের বিরুদ্ধে ঘুস নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ২৬ একর জমির বিএস রেকর্ড সংশোধনের জন্য ২০ লাখ টাকা নেওয়া এবং পরে জাল পর্চা দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। এ ছাড়া নামজারির জন্য সরকারি ফি এক হাজার ১৭০ টাকা হলেও হাজার হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগে তাঁর ঘুস লেনদেনের একাধিক ভিডিও গণমাধ্যমের হাতে এসেছে।

 

সম্প্রতি ২ একর ৪২ শতাংশ জমির নামজারি করতে গিয়ে আবদুস সোবাহানের বিরুদ্ধে ২০ হাজার টাকা ঘুস দাবির অভিযোগ করেন মহিউদ্দিন খন্দকার। তাঁর ভাষ্য, গত ২০ মে চারটি দলিল নিয়ে তহশিলদারের কাছে গেলে প্রথমে ৭০ হাজার টাকা দাবি করা হয়। পরে দরকষাকষির পর ২০ হাজার টাকায় সমঝোতা হয়। এর মধ্যে অগ্রিম ১০ হাজার টাকা দুই দফায় গুনে নেন আবদুস সোবাহান।

 

মহিউদ্দিন খন্দকার বলেন, চারটি দলিলের নামজারি করে দেওয়ার কথা থাকলেও পরে মাত্র দুটি দলিলের নামজারি করা হয়েছে।

 

তবে ঘুস নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আবদুস সোবাহান। তাঁর দাবি, নামজারি ও দাখিলা বাবদ সব মিলিয়ে তিনি ২ হাজার ৬৭০ টাকা নিয়েছেন। ঘুস লেনদেনের ভিডিও দেখানো হলেও নিজের বক্তব্যে অনড় থাকেন তিনি।

 

২৬ একর জমির অভিযোগ

 

এর আগেও আবদুস সোবাহানের বিরুদ্ধে বড় অঙ্কের টাকা নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। উপজেলার বড়বাইশদিয়া ইউনিয়নের গাব্বুনিয়া গ্রামের বাসিন্দা আতিকুর রহমান খানের অভিযোগ, মৌকরণে দায়িত্ব পালনকালে ২৬ একর জমির বিএস রেকর্ড সংশোধন করে দেওয়ার কথা বলে তাঁর কাছ থেকে ২০ লাখ টাকা নেন সোবাহান।

 

আতিকুর রহমানের চাচা জাকির খান বলেন, দূর-সম্পর্কের আত্মীয় হওয়ায় তাঁরা সোবাহানকে বিশ্বাস করেছিলেন। ২৬ একর জমির বিএস রেকর্ড করে দেওয়ার কথা বলে প্রথমে ২৬ লাখ টাকা দাবি করেন তিনি। পরে ২০ লাখ টাকায় সমঝোতা হয়। ধাপে ধাপে টাকা দেওয়ার পর সোবাহান যে পর্চা দেন, পরে সেটি জাল বলে প্রমাণিত হয়।

 

জাকির খানের অভিযোগ, টাকা ফেরত চাইলে উল্টো তাঁদের বিরুদ্ধে ২০ লাখ টাকা চাঁদাবাজির মামলা করেন সোবাহান। পরে পুলিশের তদন্তে নগদ পাঁচ লাখ এবং ব্যাংকের মাধ্যমে সাড়ে ১২ লাখ টাকা নেওয়ার তথ্য পাওয়া যায়। আদালত মামলাটি খারিজ করে দেন।

 

জাকির খান বলেন, এ ঘটনার পর তাঁর বড় ভাই ও আতিকুরের বাবা আফজাল খান অসুস্থ হয়ে মারা যান। টাকা ফেরত পাওয়ার পাশাপাশি ঘটনার বিচার দাবি করেন তিনি।

 

তবে ২৬ একর জমির রেকর্ড করে দেওয়ার নামে ২০ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগও অস্বীকার করেছেন আবদুস সোবাহান। তাঁর দাবি, ওই অর্থ কোনো কাজের বিনিময়ে নেওয়া হয়নি। এটি তাঁর শ্বশুরবাড়ির দলিলসংক্রান্ত পারিবারিক লেনদেন।

 

দায়িত্বে রাখা হয়নি

 

এদিকে, গত ৮ মার্চ রাঙ্গাবালীতে যোগদানের পর আবদুস সোবাহানকে কোনো দায়িত্বে রাখা হয়নি। তাঁর প্রশাসনিক আইডিও নিষ্ক্রিয় করে রাখা হয়েছে।

 

রাঙ্গাবালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাজমুল হাসান বলেন, সোবাহানের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ঘটনায় কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।

বাংলাদেশ সময়: ১৭:৩২:১২ ● ১৩ বার পঠিত




পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

আর্কাইভ