
সাগরকন্যা প্রতিবেদক, গলাচিপা (পটুয়াখালী)
পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার গোলখালী ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান আকন মো. আবু সাঈদের উদ্যোগে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ হয়েছে বলে দাবি করেছেন স্থানীয়রা। তাঁদের মতে, সড়ক, সেতু-কালভার্ট, নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাজ হওয়ায় ইউনিয়নের যোগাযোগব্যবস্থা ও জনসেবায় পরিবর্তন এসেছে।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অতীতে ইউনিয়ন পরিষদে নানা সমস্যা ও অনিয়ম ছিল বলে তাঁদের অভিযোগ। অনেক সড়ক খানাখন্দে ভরা এবং বিভিন্ন পুল-কালভার্ট ভাঙাচোরা থাকায় চলাচলে দুর্ভোগ পোহাতে হতো। বর্তমানে এসবের অনেকগুলো মেরামত ও সংস্কার করা হয়েছে বলে জানান তাঁরা।
সরেজমিনে ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, ছোট গাবুয়া, জুলেখার বাজার, হরিদেবপুর, বড় গাবুয়া, নলুয়াবাগী, ধলু মোল্লার খেয়াঘাট, বাদঘাট, গাজীপুর খেয়াঘাট, জনতা বাজার ও ঢালির বাজার এলাকায় বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ করা হয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, ইউনিয়ন পরিষদ ভবনটি আগে জরাজীর্ণ ও অপরিচ্ছন্ন ছিল। প্যানেল চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নেওয়ার পর ভবনটি মেরামত করা হয়েছে। বিভিন্ন ওয়ার্ডের কাঁচা মাটির সড়কে হেরিংবন্ড করা হয়েছে। খানাখন্দে ভরা ও ভাঙাচোরা সড়ক সংস্কারের পাশাপাশি ভাঙাচোরা আয়রন ব্রিজ ও লোহার পুল মেরামত করে চলাচলের উপযোগী করা হয়েছে।
এ ছাড়া চলাচলের অনুপযোগী কয়েকটি গ্রামীণ সড়ক মাটি কেটে প্রশস্ত করার কাজ সম্পন্ন হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান। কিছু কাঁচা সড়ক ইট সলিংয়ের মাধ্যমে উন্নত করা হয়েছে। অবশিষ্ট কাঁচা সড়ক কার্পেটিংয়ের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বলেও জানানো হয়।
জনসাধারণের জন্য স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশন নিশ্চিত করতে নতুন টয়লেট নির্মাণ এবং নিরাপদ খাবার পানি সরবরাহে বিভিন্ন বাজার, মসজিদ ও বাড়িতে গভীর নলকূপ স্থাপন করা হয়েছে। গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ কর্মসূচিসহ সরকারি বিভিন্ন প্রকল্পের অর্থের সুষম ব্যবহারের মাধ্যমে এসব কাজ করা হয়েছে বলে জানান প্যানেল চেয়ারম্যান আকন মো. আবু সাঈদ।
তিনি আরও বলেন, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী খানা জরিপের মাধ্যমে দরিদ্র পরিবার চিহ্নিত করে ভিজিডি, ভিজিএফসহ বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সুবিধা বিতরণ করা হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের কারণে প্যানেল চেয়ারম্যান নানামুখী ষড়যন্ত্রের শিকার হচ্ছেন। সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রকল্প ও পরিকল্পনা বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা চলছে বলেও দাবি করেন তাঁরা।
ইউনিয়নের ওয়ার্ড সদস্য বাবুল হাওলাদার ও সংরক্ষিত নারী সদস্য পরি বেগম বলেন, আবু সাঈদ প্যানেল চেয়ারম্যান হওয়ার পর ইউনিয়ন পরিষদ ও জনসাধারণের জন্য যে উন্নয়ন হয়েছে, তা আগে হয়নি। তাঁদের দাবি, বর্তমান চেয়ারম্যান পরিষদের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সদস্যদের বেতন-ভাতাও নিয়মিত দেওয়ার ব্যবস্থা করছেন।
প্যানেল চেয়ারম্যান আকন মো. আবু সাঈদ বলেন, ‘বিএনপি সরকার উন্নয়নের সরকার। বিএনপি ও গণঅধিকার পরিষদ কখনো নিজেদের কথা ভাবে না, কীভাবে দেশের জনগণের জীবনমান উন্নয়ন করা যায়, সেই লক্ষ্যেই কাজ করে যাচ্ছে। দেশের উন্নয়নে বিএনপি সরকারের কোনো বিকল্প নেই।’
আগামীতে আবারও ভোট দিয়ে দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখার জন্য জনগণের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
আবু সাঈদ আরও বলেন, ‘ইউনিয়ন পরিষদে আসা সরকারি সব সুযোগ-সুবিধা জনগণের মধ্যে বিতরণ করি। কিন্তু একটি গ্রুপ সরকারি সুযোগ-সুবিধা না পেয়ে আমাকে অপদস্ত করতে নানা ধরনের ষড়যন্ত্র ও অপকর্মে লিপ্ত হচ্ছে। আমি বারবার হিংসার রাজনীতির শিকার হচ্ছি।’
তিনি বলেন, ‘তাদের ষড়যন্ত্রে যেমন সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাধাগ্রস্ত হয়, তেমনি দলও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে শত বাধা এলেও জনগণের কল্যাণে কাজ করতে কখনো পিছপা হবো না। ইউনিয়নবাসীর সেবা করে আমি বেঁচে থাকতে চাই।’