
সাগরকন্যা প্রতিবেদক, নাজিরপুর (পিরোজপুর)
পিরোজপুরের নাজিরপুরে ১২ বছর বয়সী মেয়েকে দীর্ঘদিন ধরে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে তার বাবার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অহিদুল মোল্লা (৪০) নামে ওই ব্যক্তিকে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছেন স্থানীয়রা।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার মাটিভাঙ্গা ইউনিয়নের বইবুনিয়া সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্পের নিজ বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
অহিদুল মোল্লা বাগেরহাটের চিতলমারি উপজেলার ডোবাতলা গ্রামের ফজর আলীর ছেলে। তিনি পেশায় অটোচালক এবং নাজিরপুরের মাটিভাঙ্গা ইউনিয়নের বইবুনিয়া সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্পে বসবাস করেন।
স্থানীয় আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা মো. হাসান মিয়া জানান, অহিদুলের প্রথম স্ত্রী কয়েক বছর আগে ওই আশ্রয়ণ প্রকল্পে বিষপান করে আত্মহত্যা করেন। ওই স্ত্রীর তিন সন্তানের মধ্যে জমজ দুই ছেলে ও ১২ বছর বয়সী এক মেয়ে রয়েছে। মেয়েটি একটি মাদ্রাসায় পড়াশোনা করে। প্রথম স্ত্রী মারা যাওয়ার পর অহিদুল দ্বিতীয় বিয়ে করেন। তার দ্বিতীয় স্ত্রী বিদেশে থাকেন। তিন সন্তানকে নিয়ে অহিদুল ওই বাড়িতে বসবাস করেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, অহিদুল গত ছয় মাস ধরে মেয়েকে ভয়ভীতি দেখিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে আসছিলেন। প্রায় দুই মাস আগে মেয়ে বিষয়টি তার দাদিকে জানালে তিনি কাউকে না বলার জন্য তাকে বলেন। এদিকে, বাবা তাকে হত্যার হুমকি দেওয়ায় মেয়েটি বিষয়টি আর কাউকে জানায়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
সোমবার সকালে মেয়েটি আর সহ্য করতে না পেরে আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দাদের বিষয়টি জানায়। পরে অহিদুল বাড়িতে এলে স্থানীয়রা তাকে মারধর করেন। একপর্যায়ে তিনি মেয়েকে ধর্ষণের কথা স্বীকার করেন বলে স্থানীয়রা দাবি করেন।
খবর পেয়ে নাজিরপুর থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে অহিদুলকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে। পরে তাকে হাসপাতালে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। এরপর তাকে হাসপাতালে ভর্তি রেখে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ভুক্তভোগী মেয়েকেও উদ্ধার করে থানায় নেওয়া হয়েছে।
নাজিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তরিকুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।