বরগুনার উন্নয়নে ২৩ দফা দাবি, সমন্বয়ের আশ্বাস প্রশাসনের

হোম » বরগুনা » বরগুনার উন্নয়নে ২৩ দফা দাবি, সমন্বয়ের আশ্বাস প্রশাসনের
রবিবার ● ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬


 

বরগুনার উন্নয়নে ২৩ দফা দাবি, সমন্বয়ের আশ্বাস প্রশাসনের

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, বরগুনা

 

বরগুনার উন্নয়ন ও সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ, কৃষি, মৎস্য, পর্যটন ও অর্থনীতিসহ বিভিন্ন খাতে ২৩ দফা দাবি ও প্রস্তাবনা তুলে ধরেছে বরগুনা প্রেসক্লাব। এসব দাবি বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে জেলা প্রশাসন।

 

রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৮টায় বরগুনা প্রেসক্লাব মিলনায়তনে জেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় এসব দাবি তুলে ধরা হয়। বরগুনা প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. হাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক মিজ তাছলিমা আক্তার। বিশেষ অতিথি ছিলেন পুলিশ সুপার কুদরত ই খুদা।

 

উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ দাবির মধ্যে রয়েছে বরগুনা-বেতাগী-বাকেরগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত করা, উপকূলীয় উন্নয়ন বোর্ড গঠন, টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ এবং বিষখালী ও পায়রা নদীর ওপর সেতু নির্মাণ। এ ছাড়া বরগুনায় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন, জেলা হাসপাতালকে মেডিকেল কলেজে রূপান্তর, আইসিইউ ও সিসিইউ চালু এবং পর্যাপ্ত চিকিৎসক ও জনবল নিয়োগের দাবি জানানো হয়।

 

সভায় জেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের শূন্য পদ দ্রুত পূরণ, জেলেদের নিরাপত্তায় জলদস্যু দমন, অবৈধভাবে ইলিশ শিকার বন্ধ এবং গভীর সাগরে মাছ ধরতে যাওয়া জেলেদের জন্য মোবাইল নেটওয়ার্ক সুবিধা নিশ্চিত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়। পাশাপাশি গভীর সাগরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর টহল জোরদার এবং কোস্টগার্ডকে আধুনিক নৌযান দেওয়ার দাবিও ওঠে।

 

বরগুনার অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে পর্যটনশিল্পের পরিকল্পিত বিকাশ, শিল্পকারখানা স্থাপন, কৃষি ও মৎস্য গবেষণা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা এবং আধুনিক আবহাওয়া অফিস স্থাপনের প্রস্তাব দেওয়া হয়। জেলার গুরুত্বপূর্ণ ও ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক দ্রুত সংস্কারের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

 

জেলা প্রশাসক মিজ তাছলিমা আক্তার বলেন, বরগুনার উন্নয়নে সরকারের পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের প্রত্যাশা ও বাস্তব সমস্যাগুলোও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন। প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে যে দাবিগুলো তুলে ধরা হয়েছে, সেগুলো জেলার দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের সঙ্গে সম্পৃক্ত। কোন বিষয় স্থানীয়ভাবে সমাধান করা সম্ভব আর কোনটির জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত ও বড় প্রকল্প প্রয়োজন, তা চিহ্নিত করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করা হবে।

 

তিনি আরও বলেন, বরগুনায় কৃষি, মৎস্য, পর্যটন ও উপকূলীয় অর্থনীতির বড় সম্ভাবনা রয়েছে। এসব সম্ভাবনাকে পরিকল্পিতভাবে কাজে লাগাতে পারলে জেলার অর্থনীতি আরও গতিশীল হবে। জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট ও বাস্তবায়নযোগ্য দাবিগুলো অগ্রাধিকার দিয়ে এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা থাকবে। উন্নয়নের ক্ষেত্রে প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, গণমাধ্যম ও সাধারণ মানুষকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

 

পুলিশ সুপার কুদরত ই খুদাসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও জেলার উন্নয়ন ও জনস্বার্থের বিষয়গুলোতে সমন্বিতভাবে কাজ করার আশ্বাস দেন। কর্মকর্তারা বরগুনা প্রেসক্লাবের এ ধরনের উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, স্থানীয় সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে প্রশাসনের সরাসরি মতবিনিময় উন্নয়ন পরিকল্পনাকে আরও বাস্তবভিত্তিক করতে সহায়ক হবে।

 

সভায় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক অনিমেষ বিশ্বাস, সিভিল সার্জন মোহাম্মদ আবুল ফাত্তাহ, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আ. হান্নান, এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মেহেদী হাসান খান, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. জিয়াউদ্দিন, জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আসাদুজ্জামানসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশ সময়: ২৩:০৭:৩৬ ● ১৪ বার পঠিত




পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

আর্কাইভ