বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে দুই মাসে সাড়ে ৩ লাখ কেজি ইলিশ আমদানি

হোম » জেলে-মৎস্য » বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে দুই মাসে সাড়ে ৩ লাখ কেজি ইলিশ আমদানি
সোমবার ● ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬


 

বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে দুই মাসে সাড়ে ৩ লাখ কেজি ইলিশ আমদানি

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, বেনাপোল (যশোর)

 

চলতি ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের প্রথম দুই মাস জুলাই ও আগস্টে বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ৩ লাখ ৫২ হাজার ৭৮৬ কেজি ইলিশ আমদানি হয়েছে। ২২টি প্রতিষ্ঠান এসব ইলিশ আমদানি করেছে। এ সময়ে আমদানি করা ইলিশের মোট মূল্য ৬ কোটি ৯২ লাখ ৯৪ হাজার ৫১০ টাকা।

 

বেনাপোল বন্দরের ফিশারিজ কোয়ারেন্টাইন পরিদর্শক আশওয়াদুল আলম এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

 

বন্দর সূত্রে জানা গেছে, জুলাইয়ে তিনটি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান ২৯ হাজার ৪৪০ কেজি ইলিশ আমদানি করে। ওই মাসে মাছগুলোর আমদানি মূল্য ছিল ৩৫ লাখ ৪৮ হাজার ৭৯৬ টাকা। আগস্টে ১৯টি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে আমদানি হয় ৩ লাখ ২৩ হাজার ৩৪৬ কেজি ইলিশ, যার মূল্য ৬ কোটি ৫৭ লাখ ৪৫ হাজার ৭১৪ টাকা।

 

অর্থাৎ আগস্টে ইলিশ আমদানির পরিমাণ জুলাইয়ের তুলনায় প্রায় ১১ গুণ বেড়েছে।

 

ভারত থেকে ইলিশ আমদানি বাড়ায় বেনাপোল, শার্শা, বাগআঁচড়া, নাভারণ ও যশোর বড় বাজারসহ জেলার বিভিন্ন বাজারে মাছটির সরবরাহ বেড়েছে। তবে বাজারে কিছু ইলিশ ‘মিয়ানমারের ইলিশ’ নামে বিক্রি হওয়ায় ক্রেতাদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।

 

স্থানীয় এক আড়তদারের দাবি, মিয়ানমার থেকে আসা ইলিশ ভারত হয়ে বেনাপোল বন্দর দিয়ে বাংলাদেশে ঢুকছে। তবে ফিশারিজ কোয়ারেন্টাইন কর্মকর্তাদের ভাষ্য, বেনাপোল দিয়ে আমদানি হওয়া ইলিশ ভারতীয়। মিয়ানমার থেকে আসা ইলিশ চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে দেশে প্রবেশ করে।

 

বৈধ আমদানির পাশাপাশি অবৈধভাবে ইলিশ দেশে প্রবেশের অভিযোগও রয়েছে। গত ২২ জুলাই বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে সাদা মাছের ঘোষণা দিয়ে আনা ১২ কার্টন বা প্রায় ৩৬০ কেজি ভারতীয় ইলিশ জব্দ করে বেনাপোল কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।

 

ইলিশ কিনতে আসা আব্দুল আলিম বলেন, দেশি ইলিশ মনে করে তিনি একটি মাছ কিনেছিলেন। পরে খাওয়ার পর স্বাদ ও গন্ধে পার্থক্য বুঝতে পারেন। তাঁর মতে, দেখতে প্রায় একই হওয়ায় সাধারণ ক্রেতাদের পক্ষে দেশি ও বিদেশি ইলিশ আলাদা করা কঠিন। এতে ক্রেতারা প্রতারণার শিকার হচ্ছেন।

 

ব্যবসায়ীদের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ১ কেজি ২০০ থেকে ৩০০ গ্রাম ওজনের দেশি ইলিশ প্রতি কেজি ৩ হাজার ৩০০ থেকে ৩ হাজার ৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে ১ কেজি ৩০০ থেকে ৪০০ গ্রাম ওজনের কথিত মিয়ানমারের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে প্রায় ১ হাজার ৪০০ টাকা কেজি দরে। ফলে আকারে বড় হলেও বিদেশি ইলিশের দাম দেশি ইলিশের তুলনায় অনেক কম।

 

ব্যবসায়ীরা জানান, তুলনামূলক বড় আকারের ইলিশ কম দামে পাওয়ায় অনেক ক্রেতা বিদেশি ইলিশের দিকে ঝুঁকছেন। এতে দেশি ইলিশের বিক্রি কমে যাওয়ায় তাঁরা ক্ষতির মুখে পড়ছেন।

 

মাছ ব্যবসায়ী সাইদুল ইসলাম বলেন, এসব মাছ মিয়ানমার থেকে ভারত হয়ে দেশে আসছে। কম দামের বিদেশি ইলিশ বাজারে আসায় দেশি ইলিশের চাহিদা কমেছে।

 

যশোর ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. সেলিমুজ্জামান বলেন, ভারত থেকে আমদানি করা ইলিশ অবশ্যই ঘোষণা দিয়ে বিক্রি করতে হবে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজনে অভিযান পরিচালনা করা হবে।

বাংলাদেশ সময়: ১৯:২৭:৪১ ● ১৪ বার পঠিত




পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

আর্কাইভ