
সাগরকন্যা প্রতিবেদক, তালতলী (বরগুনা)
বরগুনার তালতলী উপজেলার বগীরদোনা খালের ওপর নির্মিত একটি লোহার সেতু ভেঙে পড়ায় দুই এলাকার মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ডিঙি নৌকায় খাল পার হয়ে বিদ্যালয়ে যেতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন কয়েকটি গ্রামের হাজারো মানুষ।
গত বছরের ৩১ জানুয়ারি রাতে দীর্ঘদিনের জরাজীর্ণ বগীরদোনা খালের ওপর নির্মিত লোহার সেতুটি ভেঙে পড়ে। এরপর থেকে বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় ডিঙি নৌকায় ঝুঁকি নিয়ে পারাপার করছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও শিক্ষার্থীরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় দুই যুগ আগে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের অধীনে বড়বগী ইউনিয়নের তালুকদার পাড়া ও নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের বড়াইতলী এলাকার যোগাযোগের জন্য বগীরদোনা খালের ওপর লোহার সেতুটি নির্মাণ করা হয়। দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে সেতুটি জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। সম্প্রতি সেটি পুরোপুরি ভেঙে পড়ায় মৌরভী, পাওয়া পাড়া, তালুকদার পাড়া ও বড়াইতলীসহ আশপাশের কয়েকটি এলাকার মানুষের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।
সেতু ভেঙে যাওয়ায় সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছে তালুকদার পাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দুই শতাধিক শিক্ষার্থী। বিকল্প সড়ক না থাকায় প্রতিদিন ডিঙি নৌকায় ঝুঁকি নিয়ে খাল পার হতে হচ্ছে তাদের। এতে সময়মতো বিদ্যালয়ে উপস্থিত হওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে এবং শিক্ষার্থীদের পড়াশোনাও ব্যাহত হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা আবু সালেহ ও জাকির হোসেন এবং শিক্ষার্থী রাকিবুল ইসলাম ও আমেনা আক্তার বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ থাকলেও সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এখন সেতুটি ভেঙে পড়ায় এলাকার মানুষের চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। বাধ্য হয়ে শিশুদেরও ঝুঁকিপূর্ণভাবে নৌকায় পারাপার করতে হচ্ছে। এতে যেকোনো সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।
তালুকদার পাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আবু তাহের বলেন, সেতুটি ভেঙে যাওয়ার কারণে অনেক শিক্ষার্থী সময়মতো বিদ্যালয়ে আসতে পারছে না। প্রতিদিন ডিঙি নৌকায় ঝুঁকি নিয়ে খাল পার হতে হচ্ছে তাদের। এতে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কমার পাশাপাশি স্বাভাবিক পাঠদানও ব্যাহত হচ্ছে। দ্রুত সেখানে একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণ জরুরি।
এ বিষয়ে তালতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অতীশ সরকার বলেন, ভেঙে যাওয়া সেতুটি অপসারণ এবং নতুন সেতু নির্মাণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে উপজেলা প্রকৌশল বিভাগকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কমাতে জরুরিভিত্তিতে আপাতত একটি কাঠের পুল নির্মাণের প্রাক্কলন তৈরির কাজ চলছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে পারাপারের বিকল্প ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে দৃশ্যমান কার্যক্রম শুরু হবে।