
সাগরকন্যা প্রতিবেদক, মনপুরা (ভোলা)
ভোলার মনপুরায় একটি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষের ব্যক্তিগত বাড়ির কাজ করতে অস্বীকৃতি জানানোয় তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী মো. সেলিমকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সংবাদ সম্মেলন করে চাকরি পুনর্বহালসহ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তিনি।
মনপুরা উপজেলা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ভুক্তভোগী মো. সেলিম এসব অভিযোগ করেন।
সেলিম দাবি করেন, তিনি ২০০২ সালের ১ সেপ্টেম্বর মনোয়ারা বেগম মহিলা কলেজে অফিস সহায়ক (এমএলএস) পদে যোগদান করেন। ২০০৪ সালের ১ নভেম্বর তার পদটি এমপিওভুক্ত হয়। ইনডেক্স নম্বর ৩০০৯০৪৫-এর বিপরীতে তিনি ২০২২ সাল পর্যন্ত ওই পদে দায়িত্ব পালন করে নিয়মিত বেতন-ভাতা উত্তোলন করেন।
তার অভিযোগ, চাকরিকালীন সময়ে তৎকালীন অধ্যক্ষ মো. মহিউদ্দিন তাকে কলেজের দাপ্তরিক কাজের পাশাপাশি ব্যক্তিগত ও গৃহস্থালি কাজ করতে বাধ্য করতেন। এছাড়া অধ্যক্ষের ব্যক্তিগত বিরোধের জেরে বিভিন্ন ব্যক্তি ও কলেজের প্রভাষকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করার নির্দেশও দেওয়া হতো বলে অভিযোগ করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে সেলিম বলেন, ‘অধ্যক্ষ মহিউদ্দিনের ব্যক্তিগত ও অনৈতিক বিভিন্ন কাজে অসম্মতি জানালে তিনি আমার ওপর ক্ষিপ্ত হন। পরে কলেজ পরিচালনা কমিটির তৎকালীন সভাপতি ও তৎকালীন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এ কে এম শাহজাহান মিয়ার সঙ্গে যোগসাজশ করে আমাকে অবৈধভাবে চাকরিচ্যুত করা হয়।’
তিনি আরও দাবি করেন, তাকে চাকরিচ্যুত করার পর তার পদে পরিচালনা কমিটির সভাপতির এক ভাতিজাকে নিয়োগ দেওয়া হয়। বিষয়টি নিয়ে তিনি বরিশাল মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ করেন। কাগজপত্র যাচাই-বাছাই শেষে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তাকে বেতন-ভাতাসহ স্বপদে বহাল রাখার নির্দেশ দিয়েছিল বলেও দাবি করেন সেলিম।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, ওই নির্দেশ অমান্য করে ২০২২ সালের ১২ ডিসেম্বর তাকে সাময়িক বরখাস্তের চিঠি দেওয়া হয়। সেখানে তাকে এমএলএসের পরিবর্তে নৈশপ্রহরী হিসেবে উল্লেখ করা হয়। পরে ২০২৩ সালের ১০ আগস্ট তাকে চূড়ান্তভাবে চাকরিচ্যুত করা হয়।
সেলিম দাবি করেন, তিনি কখনোই কলেজে নৈশপ্রহরী হিসেবে কর্মরত ছিলেন না। দীর্ঘদিন এমএলএস পদে দায়িত্ব পালন ও বেতন-ভাতা উত্তোলনের নথি তার কাছে রয়েছে বলে জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি অবৈধভাবে চাকরিচ্যুতির অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত, সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং তাকে চাকরিতে পুনর্বহালের দাবি জানান। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় সংসদ সদস্য মো. নুরুল ইসলাম নয়নের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।
জানা গেছে, অভিযুক্ত তৎকালীন অধ্যক্ষ মো. মহিউদ্দিন ২০২৪ সালে মনোয়ারা বেগম মহিলা কলেজ থেকে পদত্যাগ করে বর্তমানে ভোলার নাজিউর রহমান ডিগ্রি কলেজে অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। মনোয়ারা বেগম মহিলা কলেজে বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন সহকারী অধ্যাপক মো. মাহবুবুল আলম শাহীন।
এ বিষয়ে তৎকালীন কলেজ পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও সাবেক আওয়ামী লীগ নেতা এ কে এম শাহজাহান মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি আত্মগোপনে থাকায় এবং তার মুঠোফোন বন্ধ পাওয়ায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
অভিযোগের বিষয়ে তৎকালীন মনোয়ারা বেগম মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ ও বর্তমানে নাজিউর রহমান ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মো. মহিউদ্দিন বলেন, ‘সেলিম নৈশপ্রহরী হিসেবে দায়িত্ব পালন না করায় তাকে বিধি অনুযায়ী চাকরিচ্যুত করা হয়েছে।’ তিনি দাবি করেন, সেলিম এমএলএস পদে নয়, নৈশপ্রহরী হিসেবেই কর্মরত ছিলেন।
অন্যদিকে মনোয়ারা বেগম মহিলা কলেজের বর্তমান ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. মাহবুবুল আলম শাহীন বলেন, ‘সাবেক অধ্যক্ষের ব্যক্তিগত রোষানলের শিকার হয়ে সেলিম চাকরিচ্যুত হয়েছেন।’ তিনি বলেন, ওই পদে পরবর্তীতে অন্য একজনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে পদটি শূন্য নেই। আইনি প্রক্রিয়ায় সেলিমের পুনর্বহালের সুযোগ রয়েছে কি না, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নির্ধারণ করবে।